পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হল

পড়াশোনার পাশাপাশি চলে আড্ডা

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৩, ১৯:৩২
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে আবাসিক হলে থাকার সুব্যবস্থা। তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে রয়েছে চরম আবাসন সংকট যদিও মূল ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের র্নিমাণ কাজ চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি হলের মধ্যে সবচেয়ে পুরান শের-ই-বাংলা হল। হলটি পুরান হলেও এর ডিজাইন আধুনিক হলের চেয়ে অনেক ভাল যার গঠনগত সৌর্ন্দয অনেক আগন্তুকের মনকাড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজের সুবিধার জন্য মূল হলটিকে শের-ই-বাংলা হল-১ এবং ২ নামে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে কলেজ আমলের প্রতিষ্ঠিত এ হলটিতে প্রায় ৪শ’ ছাত্রের সিট থাকলেও প্রায় ৬শ’ ছাত্র রয়েছে। হলের সামনে রয়েছে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, পূর্ব-দক্ষিণ কোণে রয়েছে শহীদ মিনার, পূর্ব পাশে জিমনেসিয়াম, তার পাশে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, পেছন দিকে অসংখ্য সারি-সারি নারিকেল, কাঁঠাল এবং আম গাছ। জোছনা স্নাত রাতে ছাদে দাঁড়ালে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে দূর অজানায়। গরমের দিনে রাতে জমে বেশ আড্ডাবাজি। বৃষ্টির সময় ছাদে দাঁড়িয়ে কয়েকজন মিলে ভিজে অফুরন্ত আনন্দ পাওয়া যায়। হলের ছোট বড় সবার সাথে রয়েছে এক সুনিবিড় সম্পর্ক যেন কেউ কাউকে না দেখে থাকতে পারে না। সবাই মনে হয় একই পরিবার থেকে এসেছে। রাতে পড়ার ফাঁকে নিয়মিত আসা-যাওয়া হয় বড় ভাইদের রুমে। বড় ভাইরা বিসিএস, আইইএলটিএস, জিআরই বা অন্যান্য চাকরির জন্য কিভাবে নিজেকে প্রস্তুত করছেন, কি কি বই পড়ছেন কিংবা কিভাবে নিজেকে প্রস্তুত করছেন। আগামীদিনের জন্য এসব ব্যাপারে টিপস দিয়ে থাকেন। গ্রুপ স্ট্যাডি করা, পরীক্ষা এবং চাকরির জন্য নিজেকে ভাল ভাবে প্রস্তুত করা, পরীক্ষার সময় বন্ধুদের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে নিজের অজানা বিষয়টি জেনে নেয়া এগুলো হলে থাকার সুবিধা। হলের নিচের ব্লকে ড্রিম ফ্যাক্টরি নামের রুমটিতে কৃষি অনুষদের রিয়াজ, শাহজালাল, লিজন, লাভলু, শেখর এবং তপনের চলে নিয়মিত গ্রুপ স্ট্যাডি, পাশের রুমে চলে সিএসই অনুষদের ফয়সাল, আলিম, শুভ্রত, সাকিব ও মিমোর প্রোগ্রাম সম্পর্কিত স্ট্যাডি। কমনরুমে কাটানো সময়টাকে মিস করে না এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম। বর্তমানে কমনরুমে অবস্থানরত এনএফএস অনুষদের টিটুর মতে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা জীবনে সবচেয়ে আনন্দের এবং স্মৃতিময় হলো কমনরুমে কাটানো সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিরত প্রায় সব গ্রাজুয়েটরা এ হলে থেকেই শেষ করেছেন অনার্স শিক্ষা জীবন। অনেক শিক্ষকও ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে বলেন, হলে কাটানো মধুর স্মৃতি বিজড়িত কিছু ঘটনা। দেশের প্রায় সকল জেলার মানুষের ভাষা, আচার-আচরণ এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেক ভাল আইডিয়া পাওয়া যায়, আর এটি হলো হলে থাকার আরেকটি বিশেষত্ব।