ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং চেলসির মধ্যকার হাই ভোল্টেজ ম্যাচে গত সোমবার রাতে ওল্ড ট্যাফোর্ডে কেউ জিততে পারেনি। তবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সম্ভাব্য দলবদল আলোচনার কারণে পুরো ম্যাচের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ হয়ে ছিলেন ম্যান ইউ’র তারকা স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনি। এদিকে চেলসিতে আসার ব্যাপারে নিজের পরিষ্কার অবস্থান জানাতে রুনিকে ৪৮ ঘন্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন চেলসি ম্যানেজার হোসে মরিনহো।
সামপ্রতিক সময়ে রুনির সম্ভাব্য গন্তব্য নিয়ে জল কম ঘোলা হয়নি। ক্লাবের হয়ে অ্যালেক্স ফার্গুসনের শেষ মৌসুমের প্রায় পুরোটা সময় জুড়েই নানা কারণে আলোচনায় ছিলেন এই ইংলিশ। বেশ কয়েকবারই ওঠে ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জনও। তবে ফার্গুসনের উত্তরসূরি হিসেবে আসা মোয়েস জানান, রুনি থাকছেন ওল্ড ট্রাফোর্ডেই।
অন্যদিকে স্ট্রাইকার সঙ্কটে ভুগতে থাকা চেলসি এরই মধ্যে ছুটতে শুরু করে রুনির পেছনে। দ্বিতীয় দফায় চেলসির দায়িত্বে এসে মরিনহো তার রুনির প্রীতির কথা জানান প্রকাশ্যেই। ইতোমধ্যে রুনির জন্য দুই দফায় প্রস্তাবও পাঠায় চেলসি। কিন্তু রুনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার না করায় দুবারই চেলসিকে ফিরতে হয় খালি হাতে। এদিকে ট্রান্সফার মৌসুমের শেষ সময় ক্রমেই ঘনিয়ে আসতে থাকায় এবার ধৈর্য হারালেন স্বঘোষিত ‘স্পেশাল ওয়ান’। রুনির বিষয়ে তিনি যে আর ‘হ্যাপি ওয়ান’ বললেও সেটিও, ‘আমি দল ছাড়তে চাই অথবা থাকতে চাই। যেভাবেই হোকে তাকে (রুনি) এ দুয়ের একটি বলতেই হবে। এই ঘটনার (ট্রান্সফার আলোচনা) শুরুটা যার হাতে হয়েছে, শেষও তাকেই করতে হবে। সেটাই সবার জন্য ভালো হবে। আমাকে বলতেই হচ্ছে এটি শেষ করার এখনই সময়।’
চেলসিতে আসার বিষয়ে প্রথম পদক্ষেপটা রুনি নিজেই নিয়েছিলেন জানিয়ে মরিনহো বলেন, ‘সে তার খুব ঘনিষ্ঠ একজনকেই বলেছিল যে, সে ইউনাইটেড ছাড়তে চায়। আপনি যদি আমার মতো একজন কোচ, আমাদের মতো একটা ক্লাব কিংবা যে লোকগুলোর সাথে আমি কাজ করছি তাদের দিকে তাকান তাহলে সহজেই বুঝবেন আমরা এতটা বোকা না যে এমন কারো পেছনে আমরা সময় নষ্ট করবো যার ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছা নেই!’
রুনিকে না পেলে দ্রুূতই আনঝি মাখাচকালার ক্যামেরুনিয়ান স্ট্রাইকার স্যামুয়েল ইতোর পেছনে ছুটবেন জানিয়ে এই পর্তুগীজ আরো বলেন, ‘৪৮ ঘন্টা। এরপরই আমরা বিকল্প চিন্তা করবো।’
এদিকে রবিন ফন পার্সি, ড্যানি ওয়েলব্যাকদের মন্থরতার রাতে স্বাগতিক দর্শকদের সামনে রুনি ছিলেন দারুণ সপ্রতিভ। বলা চলে পুরো দলই এদিন খেলছিল রুনিকে কেন্দ্র করেই। দর্শকদের তুমুল হর্ষধ্বনি প্রমাণ করেছে শেষ পর্যন্ত গোল না পেলেও তাদের মন ঠিকই কেড়েছেন এই সাবেক এভারটন স্ট্রাইকার। রুনি দারুণ সমর্থন পেয়েছেন চেলসি সমর্থকদের কাছ থেকেও। শীঘ্রই তোমাকে নীল জার্সিতে দেখতে চাই, ব্লুজ সমর্থকদের হাতে শোভা পাচ্ছিল এমন পোস্টারও। রুনির পারফরম্যান্সে মন মজেছে এদিনই ম্যান ইউর হয়ে নিজের প্রথম হোম ম্যাচে মাঠে নামা ময়েসেরও। তিনি বলেন, ‘তার পারফরম্যানন্সে আমি দারুণ খুশি। তার প্রতি দর্শক সমর্থনও ছিল দুর্দান্ত। আমার মনে হয় এই মুহূর্তে তার মধ্যে ইতিবাচক একটা চিন্তা কাজ করছে। আর আমরা চাই সেটিই যেন বজায় থাকে।’
