২১ আগস্ট, হঠাত্ করেই সিদ্ধান্ত। পরিচালক অনন্ত জলিল তার নতুন ছবির প্রিমিয়ারে যাবেন পাবনায়। সেখানেই ছবির ক্যাম্পেইনে কথা বলবেন তার দর্শক ভক্তদের সাথে। কিন্তু ঈদের পর এই জ্যামের শহর পেরিয়ে বঙ্গবন্ধু ব্রিজের জ্যাম ঠেলে পাবনা যেতে আসতে তিন দিন পেরিয়ে যাবে। তাই অনন্ত জলিল হেলিকপ্টারে ভ্রমণের ব্যবস্থা করলেন। সেই হেলিকপ্টার যোগেই সিদ্ধান্ত হলো পাবনা যাওয়ার। পাবনা সদরের রূপকথা সিনেমা হলে আয়োজন করা হয়েছে এই বিশেষ আয়োজন। আভ্যন্তরীণ বিমান বন্দর থেকে ১২টায় ৭ সিটের হেলিকপ্টার যোগে উড়াল দেওয়া। ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’র পাত্র-পাত্রী অনন্ত-বর্ষা, তাদের মেকআপ আর্টিস্ট মনির। যুগান্তরের সহ-সম্পাদক এফআই দীপু, কালের কণ্ঠের সিনে সাংবাদিক গীতিকার সুদীপ কুমার দীপ এবং আমি। মাত্র ২৫ মিনিটে আকাশের উড়াল পথে নিচের প্রকৃতির চিত্র পাল্টে গেল। নিচে তাকাতেই পাবনা পলিটেকনিক, অ্যাডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যপট। প্রথমে পলিটেকনিক মাঠে হেলিকপ্টার ল্যান্ড করতেই হাজার মানুষের ভিড়। না, পরে জানা গেল গত কয়েকদিন ধরে শহর জুড়ে অনন্ত-বর্ষার আগমণী বার্তা মাইকিং করেছে আয়োজকেরা। তাই হেলিকপ্টারের শব্দ পেলেই উত্সুক জনতার আগ্রহী চোখ। অতঃপর জানা গেল, অনন্তর ইউনিটের অন্য সদস্যরা স্টেডিয়াম মাঠে তাকে বরণের জন্য অপেক্ষা করছেন। সেভাবে শহরে নেমেও আবার উড়াল দিল। এ যেন শহরে নতুন সাইকেল চালানোর মতোই, পাইলট আবার ছোট কলেজ মাঠ থেকে উড়াল দিয়ে পাশের স্টেডিয়াম মাঠে নামলেন। এরপর বৃষ্টি ভেজা পাবনা শহরে রূপকথা সিনেমা হলে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। নিজের লেক্সাস জিপে খোলা জায়গায় হাত উঁচিয়ে সবার জবাব দিচ্ছেন অনন্ত। কৌতূহলী মানুষেরা সেই মুহূর্তগুলো মোবাইলে ধারণের এক প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। সিনেমা হলের মালিক সোহানী আলম ব্যস্ত অতিথিদের বরণ করার জন্য।
হলের বিশাল পর্দার সামনে দাঁড়িয়ে অনন্ত-বর্ষা উচ্চারণ করলেন তারাও তাদেরকে ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’ দেখাতেই ছুটে এসেছেন। এরপর ছবির প্রদর্শনী, তবে পুরো ছবি দেখার সময় নেই। কারণ বিকেলেই ঢাকায় ফিরতে হবে। অন্য সিনেমা হলের কি অবস্থা জানতে চাইলেন অনন্ত। তার ফলাফল জেনে প্রযোজক অনন্ত যেন তৃপ্তির হাসিই হাসলেন ছবির সাফল্যে। পাবনা সার্কিট হাউজে ততক্ষণে খাবারের পসরা সাজিয়েছেন আয়োজক। বার বার সোহানী তার খাবারের বিস্তারিত বিবরণ দিচ্ছেন রান্নার অনুষ্ঠানের মতো। এরপর যাওয়ার পালা। এবারে পাইলট তার হেলিকপ্টারটি যেন চালালেন সাইকেল নয়, সদ্য বখাটে তরুণ নতুন বাইকটি যেভাবে চালায় সেভাবে। স্রেফ আরোহীদের মজা দিতে। কখনও একেবারে ধানখেতের লেবেলে হেলিকপ্টার নামিয়ে আনেন। কখনও ছোট নদী জল ছুঁয়ে ফেলেন। যেন পুরো হেলিকপ্টারটি ফ্যান্টাসি কিংডমের কোনো নতুন রাইড।
আর এই দৃশ্যের এক পর্যায়ে হেলিকপ্টার একটি ছোট নদীর লেবেলে আসতেই নদীতে এক যাত্রীবাহী ট্রলারে দুই যাত্রী হয়তো ভাবল হেলিকপ্টার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে, বিষ্ফোরিত হতে যাচ্ছে—এই ভয়ে নদীতে ঝাঁপ দিল। চরম আত্মবিশ্বাসী পাইলট এইভাবে অ্যাকশন দৃশ্য তৈরি করেন আমাদের জন্য। ভয়ে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা অনেকের। খেয়ালি অনন্ত অবশেষে ইচ্ছে হয় তিনি বিমান বন্দরে না, সাভারে নিজের ফ্যাক্টরিতে নামবেন। সেই ইচ্ছেটিই পাইলট পূরণ করলেন। হেলিকপ্টার তার গতিপথ বদলে চলে গেল হেমায়েতপুরের ফ্যাক্টরির পাশের মাঠে। সারাদেশের কয়েকটি শহরে এই হেলিকপ্টার চেপে খামখেয়ালিরও শেষ হয়। শেষ হয় ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’র পাবনা ভ্রমণ!
