প্রথম টেলিফিল্ম ‘তুলারাশি’ কিংবা এক ঘণ্টার নাটক ‘লেট লতিফ’ থেকে তিনি যখন ধারাবাহিক নাটক ‘অ্যাইম ইন লাইফ’-এ প্রবেশ করলেন তখনই দর্শক সেজানকে আবিষ্কার করেছেন অন্য দশ জনের চাইতে একটু আলাদাভাবে। বিশেষ করে গত বছরের আলোচিত নাটক ‘লংমার্চ’ নির্মাণ করে দেশে এবং দেশের বাইরে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। হালে বাংলাভিশনে প্রচারিত হচ্ছে তার আরও একটি সফল ধারাবাহিক নাটক ‘রেড সিগন্যাল’। নাটক থেকে দর্শক যখন ক্রমেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এমনি এক অশনি সংকেতের মুহূর্তে ‘লংমার্চ’ কিংবা ‘রেড সিগন্যাল’-এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা নতুন করে আশার আলো ছড়িয়ে দিয়েছে। একই ধাঁচের পরপর দুটি নাটক তিনি কেন নির্মাণ করলেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে সেজান বলেন, ‘এফডিসিতে যেমন একই গল্প, একই মুখ, একই নির্মাণ দেখতে দেখতে দর্শক হলবিমুখ হয়েছেন, আমাদের টিভি নাটকের ক্ষেত্রেও ঠিক সেই রকম একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে। একঘেঁয়েমি কাটানোর জন্যই লংমার্চের মতো একটি পলিটিক্যাল স্যাটায়ার নাটক নির্মাণ করেছিলাম, ‘রেড সিগন্যাল’কে ‘লংমার্চ’-এরই সামাজিক সিক্যুয়াল বলা যেতে পারে। একটি নতুন ধারাকে দর্শকের সামনে তুলে ধরার জন্য পরপর দুটি কাজ করবার প্রয়োজন ছিল।’ তাহলে কি ‘রেড সিগন্যাল’-এর পর এই ধারাতেই আরও কাজ করবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে মাসুদ সেজান বলেন, ‘আপাতত না, আমাদের দেশে অনেক দিন ‘এইসব দিনরাত্রি’ কিংবা ‘কোথাও কেউ নেই’-এর মতো যৌথ পরিবারের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নায় ভরা মায়াবি কোনো নাটক হচ্ছে না। পারিবারিক ঘরানার যে সব নাটক হচ্ছে তাতে না পাওয়া যাচ্ছে পরিবার, না পারস্পরিক রিলেশন কিংবা পারিবারিক মূল্যবোধ। পারিবারিক নাটকের নামে দেখা যাচ্ছে চরিত্রের সবাই যেন ক্রিমিনাল, সবাই যেন ফ্রড, আর শুধুই একঘেঁয়ে মুখস্থ প্রেমের প্যানপ্যানানি। সেই ক্ষেত্রে আমি একটি পূর্ণাঙ্গ পারিবারিক নাটক বানাতে চাই, যা আমাদের ভঙ্গুর সময়কে একটি আদর্শিক জায়গা করে দিতে পারে।’ তার নির্মিত আলোচিত নাটকগুলো হচ্ছে—‘তুলারাশি’, ‘লেট লতিফ’, ‘নাইটগার্ড’, ‘শারফুদ্দিনের সংসার’, ‘ভূতগাড়ি’, ‘পল্টিবাজ’, ‘ফোর্থ সাবজেক্ট’, ‘শর্টকার্ট’, ‘শাড়ি’, ‘মগজ ধোলাই’, ‘মায়াজাল’, ‘আই এম সরি’, ‘সংখ্যাতত্ত্ব’, ‘মুদ্রাদোষ’, ‘মিথ্যুক’, ‘একদা এক বাঘের গলায় হাড় ফুটিয়াছিল’, ‘হাতেম আলী’, ‘পাটিগণিত’, ‘পুতুল খেলা’, ‘অ্যাইম ইন লাইফ’, ‘লংমার্চ’ প্রভৃতি।
মাসুদ সেজান বর্তমানে ‘রেড সিগন্যাল’-এর শুটিংয়ের পাশাপাশি আগামী ঈদের জন্য দুটি নাটক নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একটি এনটিভির জন্য বিশেষ ধারাবাহিক, অন্যটি বাংলাভিশনের জন্য এক ঘণ্টার নাটক। আপনার নাটকে ঘুরেফিরে কয়েকটি মুখই দেখা যায় কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুদ সেজান সাবলীল উত্তর, ‘যাদের সাথে আমার বোঝাপড়াটা ভালো, আমি যাকে বুঝি, কিংবা যে আমাকে বোঝে তাকে নিয়েই কাজ করতে আমি স্বস্তি অনুভব করি। আরও খোলাসা করে বললে, তথাকথিত কিছু তারকা আছেন যাদেরকে নিয়ে কাজ করতে আমি ভয় পাই। কারণ তারা শিল্পীসুলভ নন, তারকাসুলভ। এর মধ্যে এমনও শুনেছি, একজন নব্য সাবান তারকা (?) তিনদিনের সিডিউল দিয়ে দুইদিন কাজ করার পর, একদিনের কাজ ফাঁসিয়ে দিয়ে পরিচালককে কিছু না জানিয়েই অস্ট্রেলিয়া চলে গেছেন। কবে ফিরবেন কেউ বলতে পারে না। বেচারা পরিচালকের কী দশা বুঝতেই পারছেন। আরেকটি হিরোইন প্রতিযোগিতার একজন সুন্দরী নাকি সিডিউলের শেষ দিন রাত ১০টা ১ মিনিটে মাত্র ৫টি বাক্যের একটি ফোন সংলাপের শট দিতে রাজি হননি। পেমেন্টের চাইতে নগদ আরও বাড়তি ১০ হাজার টাকা দিলে নাকি তিনি শট দিবেন। এদের ব্যাপারে যেহেতু কোনো বিচার আচার নেই কাজেই এইসব অপেশাদারী, কমিটমেন্টলেস তথাকথিত তারকাদের নিয়ে যারা কাজ করতে পারে করুক, আমার রুচি হয় না।’ আপনার সময়ের অনেকেই এখন চলচ্চিত্রের দিকে ঝুঁকছেন, চলচ্চিত্র নিয়ে আপনার ভাবনাটা কী? মাসুদ সেজান বলেন, ‘নিজের নামের শেষে চলচ্চিত্র নির্মাতা খেতাব দেওয়ার জন্য আমি চলচ্চিত্র নির্মাণ করব না, দেশীয় প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মানের একটি বাণিজ্যিক ছবি নির্মাণ করতে চাই আর তার জন্য প্রয়োজন একজন উদার মনের ভালো প্রযোজক। যিনি টাকা দেবেন, কিন্তু বাকিটা আমার উপর ভরসা করতে পারবেন। টাকা দিয়ে বলবেন, অমুক নায়িকাকে নিতে হবে কিংবা গল্পটা এইরকম না, ওই রকম হতে হবে—এই জাতীয় প্রযোজকের টাকা নিয়ে আমি কখনোই চলচ্চিত্র নির্মাণ করব না। প্রয়োজনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে না পারার আফসোস নিয়েই মরে যাবো।’
