আবারও অভিনয়ে

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৩, ১৯:৫৪
১৯৮৫ সালে স্পিলবার্গের ‘দ্য কালার পার্পেল’ ছবিতে অভিনয় করে অস্কার মনোনয়নের মধ্যে দিয়ে শুরুটা হয়েছিল তার সিনেমার জগতে পদচারণা। শুরুটা এমন সুন্দর হলেও তিনি বেছে নিয়েছিলেন অন্য পথ। আর সেই পথেই গড়েছেন ইতিহাস। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে ‘বিলাভড’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছরের বিরতি। আর এই বিরতির পর সেই পরিচিত উইনফ্রে আবারও ‘সিরিয়াস’ অভিনয় করলেন ‘দ্য বাটলার’ সিনেমাটিতে। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে উইনফ্রে অভিনীত ইতিহাস-আশ্রিত ড্রামা ছবি ‘দ্য বাটলার’। মাত্র তিন কোটি ডলারের এই ছবিটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই খরচ প্রায় তুলে এনেছে। আড়াই কোটি ডলার আয় করে উঠে এসেছে টপচার্টের শীর্ষে। পরিচালক লি ড্যানিয়েলসের এই ছবিটির গল্প সত্যিকারের একটি চরিত্রকে নিয়ে। ‘দ্য বাটলার’-এর শুরুটা হয় অ্যালেন নামের একজনকে নিয়ে। ইউজিন অ্যালেন নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি ১৯৫২ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ৩৪ বছর হোয়াইট হাউসে কাজ করেছেন বাটলার বা পরিচালক হিসেবে। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি আট-আটজন রাষ্ট্রপতির শাসনকাল কাছ থেকে দেখেছেন। সাক্ষী হয়েছেন নানা ঐতিহাসিক ঘটনার। অ্যালেনকে সিসিল গেইন্স নামের একটি কল্পিত চরিত্রের মধ্য দিয়ে তুলে এনেছেন পরিচালক ড্যানিয়েলস। আর এই গেইন্সের দেখার চোখ দিয়ে ছবিটির গল্প বলেছেন পরিচালক। গেইন্সের স্ত্রী গ্লোরিয়ার চরিত্রে অভিনয় করেছেন উইনফ্রে। এর আগে মুক্তি পাওয়া ‘বিলাভড’ উইনফ্রেকে উপহার দিয়েছিল নিদারুণ হতাশা। সেই ছবিটির একাধারে প্রযোজকও ছিলেন উইনফ্রে। বক্স অফিসের ব্যর্থতা তাকে আর্থিকভাবে ভীষণ ক্ষতির মুখেও ঠেলে দিয়েছিল। অথচ সেই ছবিটির জন্য কম পরিশ্রম তিনি করেননি। ছবিটিতে দাসের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে সত্যিকারের একজন দাসের জীবন বেছে নিয়েছিলেন এক দিনের জন্য! ‘দ্য বাটলার’ ছবিতে কাজ করার আগেও অন্য রকম এক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন উইনফ্রে। এই ছবির শুটিং শুরুর আগে হোয়াইট হাউসে তিনি গিয়েছিলেন ২০১২ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতির কাজের জন্য। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাত্কারে উইনফ্রে বলেন, ‘সেখানে যাওয়ার পর আমাকে বলা হলো, আমি কোনো বাটলারের সঙ্গে কথা বলব কি না। আমি বললাম, না। তবে বাটলারদের স্ত্রীরা কি আছেন। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাই।’ ‘বিলাভড’ ছবিটি ফ্লপ হওয়ার পর অন্যদিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন উইনফ্রে। তার ‘অপরাহ উইনফ্রে শো’ এরপর সারা বিশ্বের এক আলোড়নে পরিণত হয়েছে। এরপর বি মুভি বা শার্লটস ওয়েব-এ কণ্ঠ দেওয়ার মতো টুকটাক কাজ করলেও সেই অর্থে সিরিয়াস অভিনয় তিনি করেননি। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমি সেসব কিছুই করতে চাই, যেগুলো আমার কাছে সত্যিই গুরুত্ব বহন করে। শুধু ছবি করার জন্যই করাতে আমি আগ্রহী নই।’ ‘দ্য বাটলার’-এও হয়তো অভিনয় করতেন না। অনেক বলে তাকে রাজি করিয়েছেন পরিচালক। ড্যানিয়েলস ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ছয়টি অস্কারে মনোনীত, দুটি অস্কার জেতা ছবি ‘দ্য প্রেশাস’-এও কাজ করার জন্য উইনফ্রেকে বাগিয়েছিলেন। অবশেষে পেরেছেন রাজি করাতে। ড্যানিয়েলস বলেছেন, ‘এটা অনেক কঠিন ছিল। আমি তার সঙ্গে কিছু একটা করতে চাইছিলাম।’ ড্যানিয়েলসের পরিচালক হিসেবে মাস্টারির সুনাম তো আছেই, আসলে এই ছবিটির চিত্রনাট্য পড়েও আর ‘না’ করতে পারেননি উইনফ্রে। আর এই সিনেমার মধ্য দিয়ে তিনি আবার তার অভিনয় যোগ্যতার প্রমাণ দিলেন। সমালোচকেরাও বলছেন, এতটাই অসাধারণ অভিনয় করেছেন যে হয়তো অস্কার পেয়ে যেতে পারেন উইনফ্রে!