শেকৃবিতে জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সংকট

আন্দোলনের হুমকি সাদা দলের

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৩, ২২:১১
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সৃষ্ট সংকট এখনো কাটেনি। প্রায় ৬ মাস যাবত্ এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। শিক্ষকরা জানান, ইউজিসির নির্দেশ উপেক্ষা করে প্রশাসন বাজেটের বিশাল ঘাটতি নিয়েও একের পর এক জনবল নিয়োগের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে আসছে। এরই মধ্যে হাইকোর্ট শিক্ষক নিয়োগে ৪ মাসের স্থগিত আদেশ দেয়। এর আগে শিক্ষক নিয়োগে ৩ মাসের স্থগিতের আদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে ঐ নিয়োগ প্রক্রিয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করে। নিয়োগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি সমর্থিত সাদা এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত নীল দলের শিক্ষকদের মাঝেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। নীল দলের শিক্ষকদেরও এ বিষয়ে অভিহিত করা হয় না বলে জানিয়েছেন একাধিক শিক্ষক। সমপ্রতি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন বিভাগে সহযোগী অধ্যাপকসহ ৮ জন শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। নিয়োগ বিজ্ঞাপনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রযোজ্য নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ নীতিমালা অনুসরণ না করে নিয়োগ বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে এমন অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র এম এম উজ্জ্বল আহম্মেদ লিটন বিজ্ঞাপনটি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন। রিটের উপর শুনানি শেষে নিয়োগ বিজ্ঞাপনটি কেন অবৈধ হবে না এ বিষয়ে রুল জারি করে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিতের আদেশ দেয় হাইকোর্ট। এম এম উজ্জ্বল আহম্মেদ খান লিটন এর পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন অ্যাডভোকেট ইকবাল কবির। এর পূর্বে এম এম উজ্জ্বল আহম্মেদ খান লিটন একই বিষয় নিয়ে সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টে সময় আবেদন করে এবং কার্যক্রম সম্পন্ন করে। বিষয়টি এখনো কোর্টে বিচারাধীন অবস্থায় আছে। অপরদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, লাইব্রেরিয়ান ও পরিচালক শরীর চর্চা পদে নিয়োগের জন্য গত ৯ জুলাই নিয়োগ বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। এ সকল পদে নিয়োগের জন্য ইতিপূর্বে নিয়োগ বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু এবারের বিজ্ঞাপনের সাথে পূর্বের বিজ্ঞাপনগুলোর অসামঞ্জস্যতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এর মধ্যে রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ বিজ্ঞাপনকে চ্যালেঞ্জ করে গত ৩০ জুলাই হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ডেপুটি রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ চৌধুরী আবদুল্লাহ আল ফারুক। হাইকোর্ট ঐ দিন শুনানি শেষে রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের উপর ৬ মাসের স্থগিত আদেশ রুল জারি করে। এ বিষয়ে চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুকের আইনজীবী ড. রফিকুল ইসলাম মেহেদী জানান, চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুক রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য দুইবার সাক্ষাত্কার প্রদান করেছেন। অভ্যন্তরীণ প্রার্থী হিসেবে তার নিয়োগ পাওয়া যুক্তিযুক্ত হলেও তাকে এ পদে নিয়োগ না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। বর্তমানে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন পূর্বের বিজ্ঞাপনগুলো থেকে ভিন্ন হওয়ায় আমার মক্কেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার প্রায় ৭ বছর চাকরি জীবন অতিক্রান্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেবা করার মানসিকতা নিয়ে আমি চাকরিতে যোগদান করেছিলাম। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি অত্যন্ত হতাশ এবং ব্যথিত। আশাকরি, কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থেই এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই উক্ত পদে নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবেন বলে প্রত্যাশা করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে বিপুল পরিমাণে বাজেট ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও এভাবে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ প্রদান করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়টি ভবিষ্যতে মারাত্মকভাবে আর্থিক সংকটে পড়বে বলে সাদা ও নীল দলের অনেক শিক্ষকই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শাহ্নাজ সরকার জানান, বর্তমান উপাচার্য এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে সবাইকে নিয়ে কাজ করবেন বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু তার বর্তমান কর্মকান্ড আমাদের প্রত্যাশাকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে। আমরা তার কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো:শাদাত উল্লা রিট আবেদনকারী এম এম উজ্জ্বল আহম্মেদ লিটনের অভিযোগকে অযৌক্তিক বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, হাইকোর্টের স্থগিত আদেশের প্রেক্ষিতে আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবেলা করবো। রেজিস্ট্রার নিয়োগের ক্ষেত্রে উপাচার্য আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন মোতাবেক নিয়োগ বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে।