এবার রাজধানীর পার্শ্ববর্তী চার নদী বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদীর দূষণ রোধে বিশেষ অভিযানে নেমেছে বিআইডব্লিউটিএ। এ অভিযানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দারুস সালাম থানাধীন মিরপুর মৌজায় তুরাগ নদীর তীরে অবস্থিত ৬ টি কোম্পানির বর্জ্যমুখ ঢালাই দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে প্রথম পর্যায় বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ পয়েন্ট হিসেবে ইতিমধ্যে চিহ্নিত ২৫৭টিসহ অন্যান্য বর্জ্যমুখ বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান ড. মো. শামছুদ্দোহা খন্দকার।
উল্লেখ্য, এ সকল রেডিমিক্স ফ্যাক্টরির ড্রেন দিয়ে প্রতিদিন কয়েক টন বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি তুরাগ নদীতে পড়ছে। ফলে একদিকে যেমন নদী দূষিত হচেছ, অন্যদিকে সিমেন্ট মিশ্রিত বর্জ্য নদীতে পড়ায় সেগুলো জমাট বেঁধে শক্ত চরার সৃষ্টি হওয়ায় নৌ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। অভিযানে বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক (বন্দর) মো. আবুল বাসার, যুগ্ম পরিচালক কাজী ওয়াকিল নেওয়াজ, যুগ্ম পরিচালক সাইফুল ইসলামসহ বিআইডব্লিউটিএ’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও দারুস সালাম থানার পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা শহরের চারদিকের নদীসমূহ দখল ও দূষণমুক্ত করে বৃত্তাকার নৌ-পথ চালু এবং যাত্রী ও মালামালবাহী নৌ-যান চলাচলের পাশাপাশি নৌ-পর্যটন, মত্স্য চাষ ও পার্শ্ববর্তী কৃষি ভূমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিএ এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একই সাথে নদীগুলোকে দখল দূষণ রোধকল্পে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাসহ জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক নানা কর্মকাণ্ড গ্রহণ করেছে সংস্থাটি। নদীর পাড়ে স্বাস্থ্যসম্মত পর্যটন-পরিবেশ গড়ে তুলতে ইকোপার্কসহ বৃত্তাকার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।
একশ্রেণীর অসচেতন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের কারণে গৃহস্থালি, ক্লিনিক্যাল, শিল্প ও ট্যানারি বর্জ্যসহ নানা ধরনের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে নদীগুলো। শুধুমাত্র বুড়িগঙ্গাতেই এখন পর্যন্ত ২৫৭টি বর্জ্যমুখ চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্জ্যমুখগুলো অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে দৈনিক পত্রিকাগুলোকে বিজ্ঞাপন আকারে দু’সপ্তাহের মধ্যে বর্জ্যমুখগুলো বন্ধের নোটিশ প্রদান করা হচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে। এরপরও বর্জ্যমুখগুলো স্ব-উদ্যোগে বন্ধ করা না হলে পরিবেশবাদী সংগঠন, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম সকলকে সাথে নিয়ে বর্জ্যমুখগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান ড. মো. শামছুদ্দোহা খন্দাকার।
