শীর্ষ বাছাই নোভাক জকোভিচ ও পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন রজার ফেদেরার ইউএস ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছালেও বাছাই পর্ব থেকে উঠে আসা ১৭ বছরের আমেরিকান ভিক্টোরিয়া ডুভালের কাছে পরাস্ত হলেন সাবেক চ্যাম্পিয়ন সামান্থা স্টোসার। নইলে গত মঙ্গলবার বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যামটিতে প্রাধান্য ছিল ফেভারিটদেরই। এতে আরো জয়ী হন মেয়েদের বিভাগের দ্বিতীয় বাছাই ভিক্টোরিয়া অ্যাজারেঙ্কা, চেক প্রজাতন্ত্রের টমাস বার্ডিচ।
স্টোসারকে হারান বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ২৯৬ নম্বরে থাকা কিশোরি ডুভাল। ইউএস ওপেনের ২০১১ সালের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়টিকে হারানো ডুভাল এই প্রথম কোন গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টে জয়ের দেখা পেলেন। ১১তম বাছাই স্টোসারের বিরুদ্ধে ৫-৭, ৬-৪ ও ৬-৪ গেমে জিতে আমেরিকান কিশোরিটি বলেন,‘আজ আমি দারুণ খেলেছি। এটা ছিল অবিশ্বাস্য।’ বেলারুশের অ্যাজারাঙ্কার ৬-০, ৬-০ গেমের জয়টি ছিল জার্মানির দিনাহ ফাইজেনমায়ারের বিরুদ্ধে। মেয়েদের বাছাইয়ে ছয় নম্বর বাছাই ও ইউএস ওপেনের সাবেক রানার্স আপ ক্যারোলিন ওজনিয়াকি এবং সপ্তম বাছাই পেত্রা কভিতোভাও দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছেন।
আমেরিকার দুই শীর্ষস্থানীয় মহিলা খেলোয়াড় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সেরেনা উইলামস ও ১৫ নম্বরে থাকা স্লোয়ান স্টিফেন্সের খেলা ছিল গত রাতে। পুরুষ বিভাগের চ্যাম্পিয়ন বৃটেনের অ্যান্ডি মারেরও গত রাতে কোর্টে নামার কথা।
চলতি বছর তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যামে অংশ নিয়ে কেবল অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জেতা জকোভিচ অবশ্য জিতেছেন ফেবারিটের মতোই। তিনি লিথুনিয়ার রিকার্ডাস বেরানকিসকে ৬-১, ৬-২ ও ৬-২ গেমে পরাজিত করেন। ইউএস ওপেনে সার্বিয় জকোভিচের এটা ছিল ৪০তম জয়। বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়টি গত তিন বছরের ফাইনালে খেলে ২০১১ সালে টুর্নামেন্টটি জেতেন। ২৬ বছর বয়সী খেলোয়াড়টি এক ঘণ্টা ২২ মিনিটের মাথায় জয় পাওয়ার পর বলেন,‘খেলার শুরুতে আমি প্রতিপক্ষের সার্ভ থেকে অনেকগুলো পয়েন্ট তুলে নিতে পেরেছি এবং এমনটাই আমি চেয়েছিলাম। সামগ্রিক নৈপুণ্যে আমি খুবই খুশি।’
ফেদেরারের জয়টি ছিল স্লোভেনিয়ার গ্রেগা জেমিলজার বিরুদ্ধে ৬-৩, ৬-২ ও ৭-৫ গেমে পাওয়া। তপ্ত, রৌদ্রকরোজ্জ্বল ও তীব্র বাতাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় খেলাটি। যদিও বৃষ্টির কারণে আগের দিন খেলাটি অনুষ্ঠিত হতে পারেনি।
বর্তমানে ৩২ বছর বয়সী ফেদেরার বলেন,‘দিন কিংবা রাত যাই হোক, আর্থার অ্যাশ কোর্টে খেললে এটা কোন ব্যাপারই না। চলতি বছরের প্রতিযোগিতার বাছাইয়ে সপ্তম স্থানে গড়িয়ে পড়েন সুইস খেলোয়াড়টি। ২০০২ সালে ইউএস ওপেন খেলতে শুরু করার পর এটাই তার সর্বনিম্ন অবস্থান।
চলতি বছরে তার অবস্থা কতটা খারাপ তা বোঝা যায় যখন পরিসংখ্যান বলে তিনি কেবল একটি শিরোপা জিতেছেন, গ্র্যান্ড স্ল্যামগুলোয় কেবল একটিতে সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠতে পেরেছিলেন এবং গ্র্যান্ড স্ল্যামগুলোয় তারা টানা কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার রেকর্ডটি যখন উইম্বলডনে গিয়ে ৩৬ এ থেমে যায়।
উইম্বলডনে দ্বিতীয় রাউন্ডেই বিদায় নেয়া ফেদেরার এদিন অবশ্য সরাসরি সেটে জয়ী হয়ে বলেন,‘ আপনি যখন সবকিছুই জেতেন তখন এটা বেশ সুন্দর ব্যাপার। এটা দিয়ে প্রমাণ হয় না যে আপনি খেলাটিকে আরো বেশি ভালোবাসেন। আপনি জেতাটা পছন্দ করার মতোই প্রথম পাতায় জায়গা পাচ্ছেন, শিরোপা তুলছেন, স্বচ্ছন্দে সংবাদ সম্মেলন করছেন। ব্যাপারটা বেশ সুন্দর।’
দুর্গতির মধ্যে থাকা ফেদেরার আরো বলেন,‘তবে এটা বোঝায় না যে আপনি খেলাটাকে ভালোবাসছেন। আমার কাছে অনুশীলনে কিংবা কোর্টে যেখানেই হারি জিতি না কেন, আমি জানি আমি ব্যাপারটাকে ভালোবাসি।
সহজ পেয়েছেন বার্ডিচও। অবাছাই ইতালির পাওলো লরেনজিকে ৬-১, ৬-৪ ও ৬-১ গেমে হারিয়েছেন তিনি, উঠে যান দ্বিতীয় রাউন্ডে। পরের খেলাগুলোতেও এ নৈপুণ্য অব্যাহত রাখতে চান এখনো কোন গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিততে না পারা চেক খেলোয়াড়টি। তিনি বলেন, ‘এখনো কোন গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিততে পারিনি আমি। তবে এবার সেই বন্ধ্যাত্ব ঘোচাতে পারবো বলে আশা করি। প্রথম রাউন্ডের মতই পরের খেলাগুলোতে নৈপুণ্যের ধারাবাহিকতা দেখাতে চাই।’
