হজ্বের মাহাত্ম্যপূর্ণ দোয়াসমূহ

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৩, ১৯:১১
ঘর হতে বের হওয়ার সময় বলবেনঃ বিসিমল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্। অর্থঃ আল্লাহ্র নামে তাঁরই ওপর নির্ভর করে বের হচ্ছি। তাঁর সাহায্য ছাড়া কোন সত্ কাজই সমাধা হয় না এবং অসত্ কাজ হতেও বেঁচে থাকা যায় না। মক্কায় হারাম শরীফে প্রবেশকালে পড়বেনঃ আল্লাহুম্মা হাযা আম্নুকা ওয়া হারামুকা ওয়ামান দাখালাহু কানা আমিনা। ফাহারিরম লাহ্মী ওয়া দামী ওয়া আযামী ওয়া বাশারী আলান্নার। অর্থঃ হে আল্লাহ্! ইহা তোমার সুরক্ষিত পবিত্র স্থান। এখানে যে-ই প্রবেশ করে, সে-ই তোমার আইনে নিরাপত্তা পায়। সুতরাং আমার রক্ত, গোশ্ত, অস্থি ও চর্মকে দোযখের আগুনের জন্য হারাম করে দাও। কা’বা শরীফ দৃষ্টিগোচর হওয়ামাত্র এ দো’আ পাঠ করবেনঃ লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক; লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক; ইন্নাল হামদা ওয়ান্ নিয়মাতা লাকা ওয়াল মুলক লা শারিকা লাক্। আল্লাহুম্মার যুক্নী বিহা কারারান্; ওয়ার যুকনী ফীহা রিয্ক্বান হালাল। অর্থঃ আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি হাজির, আমি হাজির, কোন শরীক নাই তোমার, আমি হাজির, নিশ্চয় সকল প্রশংসা ও নিয়ামত তোমারই, আর সকল সাম্রাজ্যও তোমার, কোন শরীক নাই তোমার। হে আল্লাহ! এখানে আমাকে স্থিতি এবং হালাল রুযী দাও। মাকামে ইব্রাহীমের নিকটে গিয়ে পড়বেন : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা তা’লামু সিররী ওয়া আলানিয়্যাতী ফাআক্বীল মা’যিরাতি, ওয়া তা’লামু হাজাতী, ফাতিনী সু’আলী ওয়া তা’লামু মা ফী নাফসী ফাগফির্লী যুনুবী। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ঈমানাই ইউবাশিরু ক্বাবলী ওয়া ইকীনান্ সাদিকান্ হাত্তা আ’লামা আন্নাহু লাইউসিবুনী ইল্লা মা কাতাবতা লী ওয়া রিযাআমমিনকা বিমা কাস্সামতালী, আনতা ওয়ালিয়্যী ফিদ্ দুনইয়া ওয়াল আখেরাহ, তাওয়াফ্ফানী মুসলিমান ওয়াআলহিকনী বিস্সালিহীন। অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার গোপন ও প্রকাশ্য সবই জান। সুতরাং আমার অনুসূচনা গ্রহণ কর। তুমি আমার চাহিদা সম্পর্কে সম্যক অবগত, সুতরাং আমার আবেদন কবুল কর, তুমি আমার অন্তরের কথা জান, সুতরাং আমার গুনাহসমূহ মোচন কর। হে আল্লাহ্! আমি তোমার কাছে চাচ্ছি এমন ঈমান- যা আমার অন্তরে স্থান লাভ করবে এবং সাচ্চা ইয়াকীন- যাতে আমার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে আমার জন্য যা তুমি নির্ধারিত করে রেখেছো। তা-ই আমার জীবনে ঘটবে তুমি যা আমার ভাগ্যে রেখেছ, তাতে যেন আমি রাযী থাকতে পারি। ইহ-পরকালে তুমিই আমার সহায়। আমাকে মুসলমান হিসাবে মৃত্যু দিও এবং সত্কর্মশীলগণের সাথী করো। মুলতাযামের দো’আঃ আল্লাহুম্মা ইয়া রাব্বাল্ বায়তিল আতিক, রিকাবানা ওয়া রিকাবা আবা-ইনা ওয়া উম্মাহাতিনা ওয়া ইখওয়ানিনা ওয়া আওলাদিনা মিনান্নার, ইয়া জাল জুদি ওয়াল কারামী ওয়াল ফাদলী ওয়াল মান্নী ওয়াল আতায়ী ওয়াল ইহ্সান। আল্লাহুম্মা আহসিন আকিবাতান না ফিল উমুরী কুল্লিহা ওয়া আজির্না মিন খিয্য়ীদ দুন্ইয়া ওয়া আযাবীল আখিরাহ্। অর্থঃ হে আল্লাহ্! হে প্রাচীনতম ঘরের মালিক! আমদিগকে, আমাদের পিতা-মাতাকে, আমাদের ভাই-বোনদিগকে, সন্তান-সন্ততিকে জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তি দাও। হে দয়ালু দাতা, করুণাময়! মঙ্গলময়! হে আল্লাহ্! আমাদের সকল কর্মের শেষ ফলকে সুন্দর করে দাও। ইহকালের অপমান ও পরকালের শাস্তি হতে আমাদিগকে বাঁচাও। যমযমের পানি পান করার দো’আঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্আলুকা ইলমান্ নাফিয়ান্ ওয়া রিযকান্ ওয়াসিয়ান্ ওয়া শিফায়ান্ মিন কুল্লি দাইন্। অর্থঃ হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট ফলপ্রসূ ইল্ম সচ্ছল জীবিকা এবং সকল রোগের নিরাময় কামনা করছি। সায়ীর দো’আসমূহ :সাফা পাহাড়ে উঠতে উঠতে পড়বেনঃ ইন্নাস্সাফা ওয়াল মারওতা মিন শা’আ-ইরিল্লাহ ফামান হাজ্বাল বায়তা আবি’ তামারা ফালা জুনাহা আলাইহি আইয়াঁত্তাওয়াফা বিহিমা, ওয়ামান তাতাওওয়াআ খায়রান ফাইন্নাল্লাহা শাকিরুন আলীম। অর্থঃ নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি বায়তুল্লায় হজ্ব্ব কিংবা ওমরা করবে এ দু’টির তাওয়াফ-এ (সায়ীতে) তার জন্য দোষ নাই, কেউ স্বেচ্ছায় ভাল কাজ করলে নিশ্চয় আল্লাহ পুরস্কারদাতা সর্বজ্ঞ। সাফা মারওয়ায় সায়ী করার সময় সবুজ পিলারদ্বয়ের মাঝে দ্রুত চলার সময়ের দো’আঃ রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতাল আ’আয্যুল আকরাম। অর্থঃ হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর, দয়া কর, তুমি মহা পরাক্রমশীল, মহাসম্মানী। (চলবে)