সখিনার দিন যাপন

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৩, ১৯:১৯
জীবন তো হরিণের মতো ক্ষিপ্রগতি নয় বনমোরগের ডাকে চমকে ওঠে ভোর হাবুলের বাপের ঘুম ভাঙে আরো পরে তেল ঘষা মাজা নিয়ে সারারাত কষ্টে কেটেছে দাঁড়াতে গিয়ে তহবন খুলে যায় খোঁড়া বাছুরের মতো এক ঠ্যাং উঁচু করে হাঁটে। সখিনা মাঝরাতে উঠে পাকঘরে অন্যের ধান সেদ্ধ করে হাবুলের বাবা হাঁক ছাড়ে, কই গেলা? ছুটে যায় মোছাম্মাত্ সখিনা খাতুন; ‘কিছু কি কবা? এতো হাঁক পাড়ো ক্যান?’ ‘মনে আছে আজ বুধবার!’ ‘তাতে হলোটা কী?’ ‘মহাজন সুদ গুনতি আসবে, আমি পলাই।’ সেই গেলো হাবুলের বাপ, গেলো তো গেলোই পাঁচ দিন পর হাওরের জলে পাওয়া গেলো তাকে সখিনা কাঁদল খুব। দিন চার পর সখিনা আবারো ধান সেদ্ধ করে মাঝরাতে উঠে। সে ধান নিজের নয়; মানুষের ধান এনে সেদ্ধ করে চাল করে দেয় যা আয়, চলে যায় একভাবে।