গত ২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় অডিও প্রযোজকদের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠন ওয়ার্ল্ড এন্টারটেইনমেন্ট লি.-এর উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ওয়ার্ল্ড এন্টারটেইমেন্ট লি.-এর চেয়ারম্যান একেএম আরিফুর রহমান তার লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। বক্তব্যে তিনি মেমোরি কার্ডে অডিও পাইরেসি রোধে ওয়ার্ল্ড এন্টারটেইমেন্টের পরীক্ষামূলক বৈধ এজেন্টের মাধ্যমে মেমোরি কার্ডে গান ডাউনলোডের বিস্তারিত এবং কোম্পানির বৈধতা নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এটা পাইরেসি রোধের নতুন কৌশল। এতে করে লক্ষ লক্ষ পাইরেটারের জায়গায় নির্দিষ্ট কিছু বৈধ এজেন্ট নিয়োগের ফলে লক্ষ লক্ষ পাইরেটারদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হবে। তদুপরি এই এজেন্টেদেরকে ওয়ার্ল্ড এন্টারটেইমেন্টের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রযোজকদের একমাত্র বৈধ অনুমতি শর্ত নেওয়া গানগুলোই শুধু সরবরাহ করা হচ্ছে।’ তিনি অডিও পাইরেসি রোধে প্রযোজক, শিল্পী, গীতিকার ও সুরকারদের সমন্বয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন ওয়ার্ল্ড এন্টারটেইনমেন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা, ভাইস চেয়ারম্যান, চেনা সুরের কর্ণধার প্রখ্যাত গীতিকার, সুরকার হাসান মতিউর রহমান। উপস্থিত সাংবাদিকগণ বিস্তারিত জেনে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগীতার কর্ণধার সেলিম খান, সিডি চয়েজের এমদাদ সুমন, অনুপম রেকর্ডিং মিডিয়ার আনোয়ার হোসেন, দোয়েল প্রোডাক্টের কর্ণধার শিল্পী জানে আলম, সোনালি প্রোডাক্টের ইকবাল হোসেন, ফাহিম মিউজিকের কর্ণধার মনির হোসেন, ইমপ্রেস অডিও ভিশনের আসাদ ইসলামসহ প্রায় সকল অডিও প্রযোজক, প্রকাশক এবং একাধিক শিল্পী। অন্যদিকে এর পাল্টা বক্তব্যে এমআইবি তাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সভাপতি হামিন আহমেদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে জানান, ‘সম্প্রতি বেশ কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে, বিশেষ করে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সাহসী টিভি রিপোটিংয়ে দেশের অডিও শিল্প ধ্বংসে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার সংবাদে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। আর সেই সাথে এই হীন চক্রান্তের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে এই ন্যক্কারজনক অপতত্পরতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’ হামিন আহমেদ তার লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, ‘অডিও ইন্ডাস্ট্রি আজ যে অবস্থানে দাঁড়িয়েছে তার একক কৃতিত্বের দাবিদার শিল্পী, সুরকার ও গীতিকার। অথচ কয়েকজন অডিও প্রকাশক নানা ছলচাতুরীর মাধ্যমে শিল্পী-সুরকারদের অধিকার হরণে লিপ্ত হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ সরকারের কপিরাইট অফিসে তারা শিল্পী, সুরকার, গীতিকারের কপিরাইট নিজ নামে লিখে নেওয়ার অপতত্পরতা চালিয়েছে। যে মুহূর্তে বাংলাদেশ সরকার শিল্পীদের স্বার্থরক্ষায় প্রণীত ও বিদ্যমান আইনসমূহ কঠোরভাবে অনুসরণের পরামর্শ দিয়ে চলেছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে কিছু স্বার্থবাদী চক্র আইন পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির নিকট আবদার তুলেছে।’
পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ও পাইরেসির কারণে আজকের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংসের সম্মুখীন। এই প্রেক্ষিতে শিল্পীসমাজ একযোগে যখন কাজ করছেন তখন কতিপয় অডিও প্রকাশকদের উল্টো নিজেরাই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা দেখে বিস্মিত হতে হয়। এ ছাড়াও এই ঘটনার বিশ্লেষণ করে হামিন আহমেদ অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। কারণ এরা শিল্পকে ধ্বংস করে নিজেদের আর্থিক উন্নয়নের দিকে ছোটে। তাই বাংলা গান, শিল্পী, সুরকার গীতিকার রক্ষা করতে হলে তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে বাংলা সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে হবে।
