বাঙালির যে কোনো সংকটে নির্ভরতার সঙ্গী রবীন্দ্রনাথ। অন্ধকারকে দূর করে আলোর পথে ধাবিত হওয়ার প্রেরণা জোগায় তাঁর কথা-কাব্য কিংবা সুরসম্ভার। তাই তো সকল আনন্দ-সংকটে বাঙালির কাছে বারে বারে ফিরে আসেন রবীন্দ্রনাথ। এ কারণে আজো জাতীয জীবনে তিনি সমান প্রাসঙ্গিক। আর কবিগুরুর প্রতি এমন শ্রদ্ধা-ভালোবাসা ও প্রেমের বার্তা নিয়ে গতকাল শুরু হয়েছে জাতীয় রবীন্দ্র্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের দ্বাত্রিংশতম বার্ষিক অধিবেশন। তিনদিনব্যাপী এবারের অধিবেশনের স্লোগান ‘সুন্দরের বন্ধন নিষ্ঠুরের হাতে ঘুচাবে কে’।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে সারাদেশের পরিষদভুক্ত ৩ শতাধিক শিল্পীকে নিয়ে শুরু হয় রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রতিযোগিতা। আর শরতের সন্ধ্যায় বসে উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা। এতে ছিল গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্যে পরিবেশনা। প্রথমেই পরিবেশিত হয় বোধনসঙ্গীত ‘সুন্দরের বন্ধন নিষ্ঠুরের হাতে ঘুচাবে কে’। এরপর সম্মেলক কণ্ঠে আমার মুক্তি আলোয় আলোয় গানের সুরে পরিবেশিত হয় সমবেত নৃত্য। নৃত্য পরিবেশনা শেষে ছিল উদ্বোধনী পর্ব।
পথচলার ৩৩ বছরে পা রাখা পরিষদের ৩২তম অধিবেশন উদ্বোধন করেন পটুয়াখালীর প্রবীণ রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী ও শিক্ষক নির্মল কুমার দাশগুপ্ত। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন। উদ্বোধনী আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী। এসময় উপস্থিত ছিলেন পরিষদের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক সন্্জীদা খাতুন। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অধিবেশন উদ্বোধন করা হয়। এসময় সমবেত কণ্ঠে গীত হয় ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে/এ জীবন পুণ্য করো দহন-দানে’। রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, আজ থেকে ২০০ বছর আগে যে রাজর্ষী একদিন তার যোগ্য দ্বীপশিখা জ্বেলে ছিলেন তা আজো জ্বলছে। সেই আলোয় আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবো।
পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন বলেন, ৩৩ বছর আগে এই পরিষদ জন্ম নিয়েছিল। এর শাখা প্রশাখা অনেক বেড়িয়েছে বর্তমানে এর শাখা সংখ্যা ৮১টি। এই শাখা থেকে ১৩০টি শাখায় এ বছর নতুন করে প্রতিয়োগিতা হয়েছে এবং ৬৬টি শাখায় এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। কিশোর এবং সাধারণ এই দুই বিভাগে ৩০০ ওপরে প্রতিযোগি অংশ নিয়েছিল। এতে বোঝা য়ায় এর ব্যাপ্তি মোটেও ছোট নয়।
