ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের করোনারি হার্ট ডিজিসের ঝুঁকি
অন্য সাধারণের চেয়ে অনেক
বেশি। ডায়াবেটিস রোগীরা
করোনারি হার্ট ডিজিজ (সিএইচডি) থেকে নিজেদের সুরক্ষা করার জন্য অনেক পদক্ষেপ নিতে পারেন। ডায়াবেটিস তখনই হয় যখন রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায় কারণ দেহ তা ঠিকমত ব্যবহার করতে পারে না। রক্তের অতিরিক্ত সুগার হূিপন্ডের চারপাশের ধমনীগুলোতে চর্বি জমাতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিসের সাথে ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ এবং অধিক কোলেস্টেরলের মাত্রা হূদরোগের ঝুঁকির পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দেয়। নিম্ন লিখিত উপায়ে ডায়াবেটিক রোগীগণ হূদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারেন।
সচল থাকুন
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের সিএইচডি-এর ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট স্বাভাবিক শরীর র্চচা করার লক্ষ্য থাকা উচিত। আপনি শুরু করার পর ধীরে ধীরে আপনার শরীর চর্চার মাত্রা বাড়াতে পারেন। এই শরীর চর্চা আপনাকে একটি অন্য রকম অনুভূতি প্রদান করবে। শরীর চর্চা করার সময় শ্বাস-প্রশ্বাসে কিছুটা সমস্যা হতে পারে তবুও এটি চালিয়ে যাওয়া উচিত। স্বাভাবিক মাত্রার ছন্দময় ব্যায়াম যেমন ব্রিস্ক ওয়াকিং, সাইক্লিং অথবা সাতাঁর কাটা ইত্যাদি হূিপন্ড এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। নিয়মিত শরীরর্চচা আপনার সু-স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারি এবং যা আপনার ওষুধ সেবন বা ইনসুলিন নেয়া
কমাতে সহায়তা করে। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে শরীর র্চচা শুরু করার আগে তাদের ডায়াবেটিস
এডু-কেয়ার নার্স অথবা ডায়াবেটোলজিস্ট এর কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া উচিত।
সঞ্চিত চর্বি
একটি উদ্যোমি জীবন ধারা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার ধমনীতে চর্বি
জমা রোধে সহায়তা করে। স্বাস্থ্যকর খাবার বলতে সেটিই বুঝায় যাতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট যেমন: মাংস, দুগ্ধজাতীয় খাবার, ঘি, নারকেল তেল ও পাম ওয়েল কম থাকে। তাই পেষ্ট্রি, ক্রিসপস এবং বিস্কিট এর পরিবর্তে শাক সবজি এবং ফলমূল ইত্যাদি বেশি করে খেতে হবে। এই সকল খাবার অপনার শরীরের স্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। প্রতিদিন অন্তত পাঁচ রকমের ফলমূল এবং শাক সবজি খাওয়া উচিত যা টাটকা, হিমায়িত অথবা টিনজাত হতে পারে। ধমনীর চর্বি কমাতে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন সামুদ্রিক মাছ খাওয়া উচিত। এছাড়া রান্নার ক্ষেত্রে নারকেল বা পাম ওয়েলের পরিবর্তে অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে ধমনীতে চর্বি কম জমে।
ধূমপান
ধূমপান সিএইচডি এর একটি অন্যতম কারণ, যদি এর সাথে আপনার ডায়াবেটিস থাকে তাহলে আপনার ধমনীর ক্ষতিসাধন আরও তরান্বিত হবে। ধূমপান নিজেই ঝুঁকি বৃদ্ধি করে তার উপর ডায়াবেটিস থাকলে রক্তচাপ
বৃদ্ধিতে আপনি আরো একটি ঝুঁকি যুক্ত করলেন, যার ফলে আপনার হূদরোগের সার্বিক ঝুঁকিকে দ্বিগুণ করে ফেললেন। তাই হূদরোগের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান পরিহার করা অত্যন্ত জরুরী।
রক্তচাপ
যদি আপনার ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে আপনার রক্তচাপ ১৩০/৮০ এমএমএইচজি, এর নিচে রাখা দরকার, এটি আপনি শরীরচর্চা,
ওজন কমিয়ে এবং লবণ ও এ্যালকোহল গ্রহণ পরিহার করে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। অনেককে অবশ্য এই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ওষুধ সেবন করতে হয়। যদি
আপনার ওজন মাত্রাতিরিক্ত হয় তবে ওজন কমানোর মাধ্যমে আপনি আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন, কোলেস্টেরল কমানোর মাধ্যমে আপনি আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
এছাড়াও যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের হার্ট ডিজিজ নিয়ন্ত্রণে ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হতে পারে। যেমন কারও কারও ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হতে পারে আবার কারো খাদ্যের তালিকা পরিবর্তনসহ
জীবন-যাত্রার মানেও পরিবর্তন
আনা প্রয়োজন হতে পারে।
আর এটি করার সহজ উপায় হচ্ছে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নিজেকে প্রস্তুত করা, পরিশ্রমকে প্রাত্যহিক জীবনের অংশ করে নেওয়া এবং তা করতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করা।
