বাংলাদেশের ব্যান্ড জগতের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী হাসান। দেশের সংগীতপ্রেমীদের উপহার দিয়েছেন অসংখ্য অসাধারণ গান। আজ এই কণ্ঠশিল্পী তার গান থেকে দীর্ঘদিনের বিরতি, নতুন করে দল গঠন করা এবং সাম্প্রতিক সময়ের ব্যস্ততাসহ অডিও শিল্পের আনুষাঙ্গিক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন রবি হাসান, ছবি দীপঙ্কর দীপু
বহুদিন ধরেই বলছেন, আপনার অ্যালবাম রেডি, খুব শীঘ্রই বাজারে ছাড়বেন। কিন্তু শ্রোতারা এখনও অ্যালবাম পায়নি। এই প্রসঙ্গে কী বলবেন?
আসলে দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিসহ নানা কারণে অ্যালবামটি বাজারে ছাড়া হয়নি। এর চেয়েও যদি গুরুত্বপূর্ণ কোনো কারণের কথা উল্লেখ করতে হয়, তাহলে বলব প্রযোজনা সংস্থার কথা। কোনো অডিও প্রযোজনা সংস্থার উপর ভরসা কেউই করতে পারছে না। দীর্ঘ বিরতির পর একটি অ্যালবাম অনেক যত্নে তৈরি করেছি। মার্কেটিংসহ প্রযোজকের অবহেলায় কে তার অ্যালবামকে পড়তে দেয় বলুন। তার উপরে তো আছে পাইরেসি। এসব নানা কারণেই অ্যালবামটি বাজারে ছাড়া হয়নি।
এবার কবে অ্যালবামটি ছাড়বেন বলে ঠিক করেছেন?
দিন-তারিখ হিসেবে এখনও বলতে পারছি না। এর চেয়েও বড় কথা হলো আমার পুরো ব্যান্ডের সেটআপটা আবার নতুন করে সেজে উঠেছে। টিপু এখন আমার সঙ্গে যোগ দিয়েছে। আগের সেটআপটা এখন অনেকটাই আপডেট বলা যায়। তাই গানগুলোর উপর আবার একটু নতুন করে নজর দিচ্ছি। এ ছাড়া টিভি লাইভসহ স্টেজ শোতেও আমরা সক্রিয় হচ্ছি। বলা যেতে পারে, আর্কের হাসান আবার ফিরে আসছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ার্ল্ড এন্টারটেইনমেন্ট, লেজার ভিশন, সিডি চয়েজ, সিএমভি, চেনাসুরসহ পাইরেসির মূল হোতাদের নিয়ে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে রিপোর্টে হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ইত্তেফাক বিনোদন প্রতিদিন-এ একটানা কয়েকদিনের রিপোর্টে শিল্পী ও প্রযোজকদের ভিন্ন ভিন্ন মত তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে কী বলবেন?
আমি বলব এতদিন পাইরেসির বিরুদ্ধে শুধু শিল্পীরাই লড়েছে। মিডিয়াও এই দাবি বারবার তুলে ধরেছে। কিন্তু যাদের জন্য আমরা পাইরেসি বন্ধ করার চেষ্টা করছিলাম, তারাই আজ সেই পাইরেসির জন্মদাতা হিসেবে আলোচিত। এই ধরনের নানা কারণেই কিন্তু শিল্পীদের সঙ্গে প্রযোজকদের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। আর শিল্পী ও প্রযোজকদের সম্পর্কে যদি কখনও মিল না থাকে, তাহলে সেই শিল্পের কোনোদিন উন্নতি হবে না। এখন দেখা যায়, অধিকাংশ শিল্পীরা তার অ্যালবামটি নিজেই প্রযোজনা করছে, নিজেই মার্কেটিং করছে। এভাবে কিন্তু একটি অডিও শিল্প টিকে থাকতে পারে না। আর এই ধরনেরই কিছু কারণে অ্যালবামটি তৈরি করেও বাজারে ছাড়তে পারিনি। মার্কেটিং পলিসিসহ নানা বিষয় একটি অ্যালবামের সাথে জড়িয়ে থাকে। এসব বিষয় এখন গানের এই বয়সে এসেও নতুন করে বুঝতে ও শিখতে হচ্ছে আমাদের।
এর সমাধানে কোনো কিছু কি ভেবেছেন?
এর সমাধান তো আজ থেকে দশ বছর আগে থেকেই ভেবে আসা হচ্ছে। এমনকি এই সমাধানের জন্যই এমআইবি, বামবাসহ একাধিক সংগঠন হয়েছে। কিন্তু কই, এর তো কোনো সমাধান হয়নি। আসলে এর সমাধান কীভাবে হবে তা হয়তো কারও জানা নেই। যেমন ধরুন, পাইরেসির মূল হোতা হিসেবে যেই রিপোর্টটি কয়েকদিন আগে উঠে এসেছে। এর কিন্তু কোনো সমাধান এখনও হয়নি। কোন দিকে যাবে কেউ জানে না। হয়তো, তারা তাদের মতো করেই ব্যবসাটা করতে থাকবে। এতদিন তারা গোপনে করেছে, এখন প্রকাশ্যে করবে।
বামবাও এসব সমস্যা সমাধানের জন্যই একটি সংগঠন। আর সেই সংগঠনের আপনিও একজন সদস্য। বামবার কার্যক্রমেও আপনাকে দেখা যায় না। এই বিষয়ে কী বলবেন?
বিগত কয়েক বছরে বামবার কোনো কনসার্টে আমি নিমন্ত্রণও পাইনি। আমি ঠিক জানি না, বামবা আমাকে কেন ডাকে না। শুধু কনসার্টই নয়, তাদের কোনো মিটিংয়েও আমাকে জানানো হয় না। তাই তাদের কার্যক্রম সম্বন্ধে আমি কিছুই বলতে পারব না।
দীর্ঘদিন ধরে এ দেশে মূল ঘরানার কোনো ব্যন্ড দল আসছে না। এর কী কারণ হতে পারে বলে মনে করেন?
আমাদের দেশে অনেক আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ড দল আছে। অনেকেই সুযোগ পাচ্ছে না, আবার অনেকে অডিও শিল্পের এই দুর্দশার জন্য হয়তো সাহস পাচ্ছে না। তবে অনেক শিল্পী এসেছে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, ব্যান্ড দল কিন্তু খুব ঘন ঘন জন্মায় না। আর একটা ব্যান্ড দল যদি স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে আসতে পারে, তার হারানোর সম্ভাবনাও খুব কম থাকে। স্টেজ শোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এরইমধ্যে প্রমাণিত যে, এ দেশে ব্যান্ড গানের শ্রোতার সংখ্যাই বেশি। এ দেশে ব্যান্ডও অনেক সমৃদ্ধ। আর যেকোনো সমৃদ্ধ শিল্পীই ধীরে ধীরে আসে। ব্যান্ডের গানে, কোনো কিছুরই নকল থাকে না, এটা আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
ব্যান্ড দল ভাঙার কারণ কী বলে মনে করেন? আপনারও তো দল ভেঙেছে।
দল ভাঙার নানা কারণ থাকতে পারে। কখনও একে অন্যের মতামতের ভিন্নতার জন্যও হয়, কখনও ব্যান্ডের কোনো মেম্বার ভালো কোনো সুযোগ পেয়ে সেখানে চলে যায়। তখন এই ব্যান্ডের তার জায়গাটির শূন্যতা স্পষ্ট হয়। এসব নানা কারণ থাকতে পারে। আর মান-অভিমান তো মানুষের মধ্যেই হয়। সম্পর্কের ভাঙা-গড়া তো মানুষের জন্যই।
সবশেষে জানতে চাই, নতুন করে নিজের যে দলটি সাজিয়েছেন, তাকে শ্রোতা-ভক্তরা কবে সামনে দেখতে পাবে?
হয়তো খুব শীঘ্রই। ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। সারাক্ষণ আমরা দলবেঁধে স্টুডিওতেই সময় দিচ্ছি। আমার শ্রোতা-ভক্তরা হতাশ হবে না এমন কিছু নিয়েই উপস্থিত হবো তাদের সামনে। সেই সময়টাও হয়তো খুব দূরে নয়।
