জেলার ১৩টি উপজেলায় ২ লাখ ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমনের চারা রোপণ করা হয়েছে।
আগস্টে পর্যাপ্ত বর্ষণের ফলে রোপা আমন চাষের অনুকূল সুবিধা পাওয়ায় কৃষকরা আমন চাষে উদ্বুব্ধ হয়। সুগন্ধী জাতের আমন চারা রোপণ কাজ প্রায় শেষের দিকে।
জেলা কৃষি সমপ্রসারণ দপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আনোয়ারুল আলম জানান, চলতি রোপা আমন মৌসুমে দিনাজপুরে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭শ’ ৩৪ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ইতোমধ্যেই তা অতিক্রম করে ২ লাখ ৪৫ হাজার হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। গত বছর ২ লাখ ৫১ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়।
এ বছর উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ২৭৬ টন একথা উল্লেখ করে উপ-পরিচালক জানান, এর মধ্যে ২ হাজার ২শ’ ৪৩ হেক্টরে ৭ হাজার ৪০২ টন হাইব্রিড, ২ লাখ ২১ হাজার ৭শ’ ২৩ হেক্টরে ৬ লাখ ২ হাজার টন উচ্চ ফলনশীল এবং ১৫ হাজার ৭শ’ ৬৮ হেক্টরে ২৫ হাজার ২শ’ ৩০ টন স্থানীয় সুগন্ধী জাতের চাল উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। তবে জমির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় উপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও বেড়ে যাবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে বৃষ্টির পরিমাণ খুবই কম হওয়ায় কৃষকদের পক্ষে আমন চাষের জন্য মাটি নরম করা সম্ভব হয়নি। তারপরেও কিছু কিছু এলাকায় সেচ যন্ত্রের সাহায্যে চাষের জন্য জমি উপযোগী করার চেষ্টা চালানো হয়। তখন কৃষককে আকাশের দিকে চেয়ে থাকতে হতো। বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকের মুখে কালো ছায়া নেমে আসে। আগস্টের প্রথম থেকেই পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে দিনাজপুর সদর উপজেলায় ২৫ হাজার ৫৯০ হেক্টরে ৬১ হাজার ৬৩২ টন, চিরিরবন্দরে ২২ হাজার ১৩ হেক্টরে ৫৫ হাজার ২০৮ টন, পার্বতীপুরে ২৫ হাজার ৭৪০ হেক্টরে ৬৮ হাজার ৭৬০ টন, বীরগঞ্জে সাড়ে ২৮ হাজার হেক্টরে ৭৭ হাজার ৬২৮ টন, বিরলে ২৫ হাজার ৫৬৬ হেক্টরে ৬৮ হাজার ১৫৫ টন, নবাবগঞ্জে ২০ হাজার ২১ হেক্টরে ৫৪ হাজার ৩৪২ টন, ফুলবাড়ীতে ১৬ হাজার ৬১৫ হেক্টরে ৪৪ হাজার ৯৩৬ টন, বিরামপুরে ১৬ হাজার ৮২৫ হেক্টরে ৪৫ হাজার ৫০১ টন, খানসামায় ১১ হাজার ৪৫০ হেক্টরে ৩১ হাজার ১০৮ টন, কাহারোলে ১২ হাজার ৬শ’ হেক্টরে ৩২ হাজার ৪৫৯ টন, বোচাগঞ্জে ১৫ হাজার ২৩০ হেক্টরে ৪১ হাজার ৩১৪ টন, হাকিমপুরে ৮ হাজার ১শ’ হেক্টরে ২২ হাজার ৪৭ টন এবং ঘোড়াঘাট উপজেলায় ১১ হাজার ৪৮৪ হেক্টরে ৩১ হাজার ১৮৬ টন হাইব্রিড, উচ্চ ফলনশীল ও সুগন্ধী জাতের চাল উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আমন মওসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বরেন্দ বহুমুখী সেচ প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুরে ২৩ হাজার ৫৯২ হেক্টর জমিতে জরুরি ভিত্তিতে সেচের মাধ্যমে পানি সরবরাহের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। উপ-সহকারী প্রকৌশলী এরশাদ আহমেদ জানান, ১ হাজার ৪০৫টি গভীর নল কূপের মাধ্যমে আমন মৌসুমে সেচ প্রদানের জন্য নলকূপগুলো সচল রাখা হয়েছে।
