টাঙ্গুয়ার হাওরে দর্শনার্থীর ভিড়

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৩, ২২:৩৭
মাদার ফিশারিজ টাঙ্গুয়ার হাওরে দিন দিন বাড়ছে দর্শনার্থী পর্যটকের সংখ্যা। বৃষ্টি, ঝড় উপেক্ষা করে দেশ-বিদেশের শত শত পর্যটক প্রতিদিন হাওরের নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। তবে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, আবাসিক হোটেল না থাকায় দর্শনার্থী-পর্যটকদের ভোগান্তি হচ্ছে। নয়কুড়ি বিল আর ছয়কুড়ি কান্দার টাঙ্গুয়ার হাওর জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলায় অবস্থিত। সীমান্তবর্তী মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত হাওরটি নৈসর্গিক সৌন্দর্য আর জীববৈচিত্র্যের আধার। ১০০ বর্গকিলোমিটারের টাঙ্গুয়ার হাওরে বিভিন্ন গাছ-গাছালি, লতা-গুল্ম, জলজ প্রাণী বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নানা সাজে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। হাওর পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ-ভারতের শত শত পাহাড়, পাহাড়ি নদী, ঝর্ণা, হাওরকে কেন্দ করে স্থানীয় মানুষদের জীবন সংগ্রাম টাঙ্গুয়াকে নয়নাভিরাম জায়গা হিসাবে দেশ-বিদেশে পরিচিত করে তুলেছে। অন্য বছরগুলোর মত এবারও দেশ-বিদেশ থেকে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী-পর্যটক হাওর ভ্রমণ করতে আসছেন। ইঞ্জিনচালিত নৌকা, লঞ্চ, ছোট ট্রলার ভাড়া করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পুরো হাওর। কেউ কেউ হাওরে রাত কাটাচ্ছেন হাওরকে অন্যরূপে দেখতে। আবার কেউ কেউ হাওরে গোসল, হাওরে সূর্যাস্ত উপভোগ করেন। পর্যটকরা পরিবারের সদস্য, বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে ছুটে আসছেন হাওরে অথৈ পানির সৌন্দর্য দেখতে। ঢাকা থেকে আসা নওশের রোমান বলেন, অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল হাওর দেখবো। অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বন্ধুদের নিয়ে এসেছি টাঙ্গুয়ার হাওর দেখতে। রাত্রিযাপনের জন্য আবাসিক হোটেলের সমস্যা ছাড়া টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরে বেড়ানো আর নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগের জন্য চমত্কার জায়গা। ইটালি প্রবাসী ফয়জুর রহমান বলেন, পরিবার নিয়ে অনেক বছর দেশের বাইরে ছিলাম। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে বেড়াতে এসেছি। টাঙ্গুয়ার হাওরে বেড়াতে না আসলে বুঝতে পারতাম না দেশেও এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জায়গা রয়েছে। হাওর গবেষক সালেহিন চৌধুরী বলেন, উন্নত সড়ক ও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও টাঙ্গুয়ার হাওরের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটছে। হাওরে পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকারকে জরুরিভাবে এগিয়ে আসা দরকার। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুল হক বলেন, অন্য বছরের চেয়ে এবার টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকদের সংখ্যা বেশি। উন্নত যোগাযোগ, আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় তাদের দুর্ভোগের মধ্যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে হচ্ছে। সরকারিভাবে যদি টাঙ্গুয়ার হাওরে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট তৈরি করা হয়, তাহলে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারবে সরকার।