ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্টের বিরোধিতা আইসিএবি’র

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৩, ১৯:৩১
কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনতে প্রস্তাবিত ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্টের বিরোধিতা করেছে আইসিএবি (ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ)। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রস্তাবিত এ অ্যাক্টের বিরোধিতা করেন আইসিএবি প্রেসিডেন্ট মো. আবদুস সালাম। তবে বৈঠকে এ আইনের পক্ষে অনেকেই মত প্রকাশ করেন। তারা বলছেন, আইসিএবির নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বিতর্ক সৃষ্টির ফলেই এ অ্যাক্টের প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে নতুন অ্যাক্টকে স্বাগত জানিয়ে তাতে কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় থাকলে তা সংশোধন করতে সরকারকে সহায়তা করা প্রয়োজন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনআরবি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মজিদ, অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদ, আইসিএবি’র সাবেক সভাপতি একে চৌধুরী এফসিএ, মো. হুমায়ুন কবির এফসিএ সহ আইসিএবি’র অনেক সদস্য। অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদ বলেন, আর্থিক খাতে বিশৃঙ্খলা রোধ করতে অনেক দিন ধরেই সরকার নিরীক্ষা কার্যক্রমকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। এর প্রেক্ষিতে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট করা হচ্ছে। তবে নতুন এ অ্যাক্টটি করার ক্ষেত্রে এ পেশার সাথে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করার প্রয়োজন ছিল। তা ফলপ্রসূ ভাবে করা হয়নি। তাই সরকারের উচিত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই আইন প্রণয়ন করা। তিনি আরও বলেন, আইসিএবি-কেও এ আইন স্বাগত জানিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। যদি আইনে কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় থাকে এ বিষয়গুলো দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে সরকারকে অবহিত করতে হবে। যেন অর্থনীতি ও বাজারের সামগ্রিক উন্নতির জন্য ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং সংক্রান্ত ত্রুটির অবসান হয়। ফেরদৌস আহমেদ খান এফসিএ বলেন, আইসিএবি’র নিয়ন্ত্রণ বিতর্কিত হয়ে গেছে। ফলে পরিবর্তনকে (নতুন অ্যাক্ট) স্বাগত জানিয়ে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। নতুন আইন নিয়ে ভয়ের কিছু নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি কোনো বিষয়ে সুপারিশ থাকে তা সরকারকে অবহিত করা দরকার। আইসিএবি প্রেসিডেন্ট মো. আবদুস সালাম এফসিএ তার বক্তব্যে বলেন, আইসিএবি নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। এ অবস্থায় ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) গঠন করে সুপার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হলে কাজে ব্যাঘাত ঘটবে। তিনি বলেন, এ পেশায় বিশেষজ্ঞ না হয়েও পেশার নিয়ন্ত্রণে সংযুক্ত করা হলে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। আইনটির বিভিন্ন ধারা-উপধারা একে অপরের সাথে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে মো. আবদুস সালাম বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবতা বিবর্জিত ও আইনের অস্পষ্টতার কারণে মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। ফলে আইসিএবি অর্ডারের সংশোধনী এনে আইসিএবিকে শক্তিশালী করা হলে সরকারের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হতে পারে। তিনি আরও বলেন, নিরীক্ষা সংক্রান্ত আইন, বিধি বা বিধান লঙ্ঘন করলে এমন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে যা নিরীক্ষকদের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। এর ফলে মেধাবী কোন ছাত্র ভবিষ্যতে পেশাদার হিসাববিদ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করবে না। আইসিএবি’র সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. হুমায়ুন কবির এফসিএ তার বক্তব্যে বলেন, নতুন আইনে এফআরসি সকল কোম্পানির কার্যাবলী তদারকি করতে পারবে অথচ সদস্য হিসাবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের একাউন্টিং বিষয়ে মৌলিক শিক্ষা নেই। ফলে মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। তাছাড়া যুক্তরাজ্যের আদলে আইনের অনেক কিছু করা হলেও বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি সেসব দেশের মতো নয়। তাছাড়া শ্রীলঙ্কার আদলে আমাদের দেশে আইন প্রণয়নের জন্য আইসিএবি অনেক আগেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে। কিন্তু এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।