ইনজুরি আর মাশরাফি অনেকদিন ধরেই প্রতিশব্দে পরিণত হয়েছে। একটার পর একটা ইনজুরি কেড়ে নিয়েছেন তার ক্যারিয়ারের সেরা সময়ের অনেকটা অংশ। এই ইনজুরির ধাক্কায় ২০০৯ সালের পর থেকে আর টেস্ট খেলা হয়নি; সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
অবশেষে আবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার দুয়ারে পৌঁছেছেন মাশরাফি। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে নিজেকে নিয়ে কথা বললেন দেশের অন্যতম সেরা পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজা—
আপনার টেস্টে ফেরা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। আপনি কতোটা আশাবাদী?
এখনই তো মন্তব্য করা কঠিন। আমি আমার মতো অনুশীলন করছি। চেষ্টা করছি, এটুকু বলতে পারি।
মানে, আপনি খেলতে চাইছেন তো?
এখানে শুধু আমার সিদ্ধান্তটাই তো আর হবে না। নির্বাচকরা আছেন, কোচ আছেন, অধিনায়ক আছে; সবার সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব। তারপরে আমি কেমন বোলিং করি সেটাও একটা ব্যাপার। সুতরাং আসলে এখনই বলা খুব কঠিন।
এবারের কন্ডিশনিং ক্যাম্প কতোটা কাজে দিল?
শুধু আমার কথা বলবো না। আমার মনে হয় প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের জন্য খুব ভালো হয়েছে এই ক্যাম্পটা। ফিটনেস বিবেচনায় তো অবশ্যই খুব ভালো হয়েছে। আর আমরা প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি স্কিল অনুশীলন করেছি। আমার মনে হয় আমরা সবাই উন্নতি করছি; বিশেষ করে ফিটনেস খুব ভালো লেভেলে আছে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শুরু হবে টেস্ট দিয়ে। এই সময় তো বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ বেশি খেলা দরকার ছিল...
এই চিন্তা থেকেই তিন দিনের ম্যাচটা খেলা হচ্ছে। এরপর সবাই ঢাকা লিগে সবাইকে ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলতে হবে। এটার জন্যই হয়তো কোচ-অধিনায়ক-নির্বাচকরা ঠিক করেছেন একটা তিন দিনের ম্যাচ খেলা যায়। অনেক বেশি খেলার সুযোগ যেহেতু নেই, এই তিন দিনের ম্যাচটা থেকেই সবার মানিয়ে নিতে হবে।
২০১১ সালে দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলা হয়নি ইনজুরির জন্য। এবার দেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার বাড়তি আগ্রহ আছে?
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আর ওয়ানডে বিশ্বকাপ পুরো ভিন্ন। ওয়ানডে বিশ্বকাপের সঙ্গে এটার তুলনাই চলে না। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনেক দূরে। এখন সামনে অনেকগুলো সিরিজ আছে। আমি মনে করি আমার এখন খেলার সময়। যত খেলতে পারবো তত নিজের উন্নতি হবে। বিশ্বকাপের বিষয় নিয়ে আমি এখন একেবারেই ভাবছি না। আর দুটো আয়োজনকে আমি কোনোভাবেই মিলাচ্ছি না।
তারপরও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে টেস্ট থেকে একটু দূরে থাকার কোনো ইচ্ছা কী আছে?
বেসিকেলি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমার এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ, আমি এটাকে ওয়ানডে বিশ্বকাপের মতো করে ভাবিই না। আমি যদি সুযোগ পাই, সুস্থ থাকি তখন দেখা যাবে। এর আগে নিউজিল্যান্ড সিরিজ খেলতে হবে, তারপরে শ্রীলঙ্কা আসবে, এশিয়া কাপ আছে। এই সবগুলোতে আমাকে টিকে তো থাকতে হবে। তারপর দেখা যাবে।
আপনার ইনজুরি ঝুঁকির কারণে কি প্রিমিয়ার লিগে খেলার ক্ষেত্রে কোনো বিধি-নিষেধ থাকবে?
এটা হয়তো ফিজিও বা ট্রেনার একটা গাইড লাইন দেবে। কিভাবে খেলতে হবে সেটা তো বলে দেয়া হয় না। আমি তো শেষ চার-পাঁচ মাস কোনো ম্যাচ খেলিনি। আমার জন্য এই ম্যাচগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো ভালো খেলার জন্য।
প্রিমিয়ার লিগে আপনার মোহামেডান দল কেমন হল?
অনেক তরুণ ক্রিকেটার আছে দলে। মোহামেডান অনেক ঐতিহ্যবাহী একটি ক্লাব। ভক্তরা চাইবে মোহামেডান ভালো খেলুক। আমরা প্লেয়াররাও চেষ্টা করবো মোহামেডানকে একটা ভালো জায়গায় নেয়ার। শামসুর রহমান শুভ, রাজিন সালেহর মতো বেশ কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ও আছে। অবশ্যই ভালো খেলার সুযোগ আছে। আর ভালো খেলতে পারলে যে কোনো টিম নিয়েই ভালো অবস্থানে যাওয়া যায়।
