সার্ক গোল্ডকাপ থেকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৩, ২২:০৪
আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটা সময় এএফসি এবং ফিফার নির্ধারিত ম্যাচগুলো নিয়েই দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল দেশগুলো ব্যস্ত ছিল। হোক সেটা ফিফার কিংবা এএফসির টুর্নামেন্ট। তাদের নির্ধারিত খেলার বাইরে তেমন কোনো খেলা ছিল না উপমহাদেশের দলগুলোর। ঘরোয়া আর কিছু নিজেদের আয়োজনের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট নিয়ে বছর শেষ হতো। মূলত দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলকে শক্তিশালী করতে শুরু হয়েছিল সার্ক গোল্ডকাপ ফুটবল। এটা ৯৩ সালের কথা। এ অঞ্চলের ফুটবলের উন্নতির জন্যই খেলাটির নীতি-নির্ধারকরা এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সাথে আরেকটা লক্ষ্য ছিল সাত ফুটবল দেশ জোটবদ্ধ থাকলে এএফসি কিংবা ফিফায় তারা শক্তিশালী হয়ে উঠবে। কারণ ভোটের ব্যাপার রয়েছে। সেসব চিন্তা-ভাবনা থেকে উঠে আসে আঞ্চলিক ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই আর নিজেদের মধ্যে ফুটবল ঐক্য গড়ে তোলার এ প্রতিযোগিতা। পাকিস্তান থেকে শুরু হলো সার্ক অঞ্চলের ফুটবল যাত্রা। গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে দিয়ে শুরু হয় লড়াই। এশিয়ার ফুটবল অভিভাবক এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এখনও এই আঞ্চলিক টুর্নামেন্টটিকে স্বীকৃতি দেয়নি। তারা এই খেলাগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ হিসাবে দেখে। ১৯৯৭ সালে সার্ক থেকে পরিবর্তন হয়ে গঠিত হয় সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন বা সাফ। সময়ের পরিক্রমায় ২০০৩ সালে সাফের সদস্য পদ পায় আফগানিস্তান। শুরু হয় আট দেশ নিয়ে ফুটবল লড়াইয়ের আয়োজন। আয়োজনের পর খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় এই ফুটবল টুর্নামেন্টটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সাধারণ ফুটবল দর্শকদের কাছে দারুণ উত্তেজনার লড়াই এটি। সাফে চ্যাম্পিয়ন হওয়া মানেই ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন। দুই বছর পর পর ফুটবল লড়াইয়ে মেতে উঠার একটা দারুণ সুযোগ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। সার্ক গোল্ডকাপ হিসেবে ১৯৯৩ সালে মাঠে গড়ানো উদ্বোধনী আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শ্রীলংকা। সাফ এবং সার্ক মিলিয়ে আঞ্চলিক এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশিবার ছয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। এছাড়াও দুইবার রানার্সআপ হয় তারা। ভারত দ্বিতীয় আসরেই ট্রফির দেখা পায়। এরপর ৯৭ সালে সার্কের পরিবর্তে সাফ গঠিত হলে তাতে আরো পাঁচবার শিরোপা জেতে ভারত। এর বাইরে আর কোনো দল সাফে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। একমাত্র মালদ্বীপ তিনবার ফাইনালে খেললেও ট্রফি জয় ওই একবারই, ২০০৮ সালে। বাংলাদেশের একমাত্র সাফল্যটি ২০০৩ সালে নিজেদের মাঠে সাফ আয়োজনের সুবাদে। ১৯৯৯ ও ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত সাফের ফাইনালে উঠলেও উভয় দফাতেই রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। নেপাল, পাকিস্তান, ভুটান চ্যাম্পিয়ন হওয়া তো দূরের কথা। তারা এখন পর্যন্ত ফাইনালেই উঠতে পারেনি। সাফে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ অর্জন প্রথম আসরে তৃতীয় হওয়া। সবার শেষে সাফের সদস্য হওয়া আফগানিস্তান গত দিল্লি সাফের ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করে রানার্সআপ হয়ে সবাইকে চমকে দেয়। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত এবং রানার্সআপ আফগানিস্তান এবার অষ্টম সাফের আসরে একই গ্রুপে খেলছে। তাদের অন্য দুই সঙ্গী মালদ্বীপ ও ভুটান। সাফের রোল অব অনার ১৯৯৭ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ কাঠমান্ডু ভারত মালদ্বীপ ১৯৯৯ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ গোয়া ভারত বাংলাদেশ ২০০৩ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ঢাকা বাংলাদেশ মালদ্বীপ ২০০৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ করাচি ভারত বাংলাদেশ ২০০৮ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ মালে ও কলম্বো মালদ্বীপ ভারত ২০০৯ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ঢাকা ভারত মালদ্বীপ ২০১১ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ দিল্লী ভারত আফগানিস্তান