নেপালে সরকারি সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার। ছুটির দিনেই শুরু হয়েছে অষ্টম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। উদ্বোধনী ম্যাচে নেপালের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। এই ম্যাচটি নেপালী ফুটবল দর্শকরা ‘ফাইনাল’ হিসাবেই নিয়েছিল। খেলা দেখার জন্য তাদের বাড়তি প্রস্তুতি ব্যাপকভাবে নজরে পড়ে। সকাল আটটা থেকে বেলা এগারটার মধ্যে স্টেডিয়ামের আঠারো হাজার টিকিট শেষ হয়ে যায় বলে জানান নেপাল ফুটবল কর্মকর্তারা। কিন্তু দর্শকরা বলছেন আরো বেশি টিকিট ছাড়া হয়েছে। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় খেলা শুরু হয়। কিন্তু তার আগেই কাঠমান্ডু শহর উত্সবের নগরীতে পরিণত হয়। ফুটবল ফুটবল নিনাদে শোভাযাত্রা বের করে স্থানীয় দর্শকরা। নেপালীরা দারুণ ফুটবল ভক্ত। তাদের দেশে ফুটবলই হচ্ছে প্রধান খেলা। ফুটবল খেলার জন্য তারা অর্থ খরচ করতে দ্বিধা করে না। ক্রিকেট খেলার প্রচলন থাকলেও খেলাটি এখনো অতটা জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। তাই কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট হলে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে খেলা উপভোগ করার জন্য। স্টেডিয়ামের গেট তখনও খুলেনি। তার আগেই স্টেডিয়াম এলাকায় লোকে লোকারণ্য। তারা বিশাল আকারের নেপালের জাতীয় পতাকা নিয়ে আনন্দ মিছিল করে বাংলাদেশের নাম বলছিল। একজন দর্শকের কাছে জানতে চাইলে ভাষা রূপান্তর করে সেই নেপালী বলেন মিছিলকারীরা বলছেন বাংলাদেশকে হারাবেন। বিক্রি হচ্ছিল টি শার্ট, নেপালী পতাকা। মুখে জাতীয় পতাকার আদলে আল্পনা এঁকে দর্শক সারিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন স্টেডিয়ামে প্রবেশ করার জন্য। স্টেডিয়ামের যে অবস্থা দেখা গেছে তাতে কিভাবে নেপাল আন্তর্জতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করার সুযোগ পায় তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। খেলা শুরু হওয়ার ঘন্টা তিনেক আগেও ভিআইপি গ্যালারিতে পা রাখলে কাদায় জুতা আটকে যায়। চেয়ারগুলো নোংরা ময়লা লেগে আছে। প্রেসবক্সে ২০ জনের বসার চেয়ার নেই। কিন্তু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ কাভার করতে এসেছেন অন্তত শতাধিক সংবাদ কর্মী।
