জিএসপি পুনরুদ্ধারে চলছে সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়ন

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:১৩
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) সুবিধা ফেরত পেতে সরকারি উদ্যোগের বাস্তবায়ন চলছে বলে জানিয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পোশাকশিল্প-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সচিব মিকাইল শিপার সাংবাদিকদের বলেন, এর অংশ হিসেবে দুই শ্রমিক নেতা কল্পনা আক্তার ও বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহার, স্থগিত হওয়া দুটি এনজিও’র নিবন্ধন ফেরত দেয়া ও শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যার ক্লু উদ্ঘাটনে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি ফেরত পেতে যে সকল শর্ত তারা দিয়েছিল এর বেশ কিছু পূরণ করা হয়েছে। আরো কিছু শর্ত পূরণে কাজ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল দেশের শ্রম আইন সংশোধন ও ট্রেড ইউনিয়নের অবাধ নিবন্ধন দেয়া। যা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যাকারীকে ধরার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। নিবন্ধন স্থগিত দুই এনজিও বিসিডব্লিউএস (বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটি) ওএসএএফই এর নিবন্ধন) ফেরত দেয়ার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মিকাইল শিপার বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের চার থেকে সাড়ে চার হাজার গার্মেন্টস কারখানা চালু রয়েছে। সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত আলাদা দুটি উদ্যোগে (অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স) তাদের অর্ডার সরবরাহ করা এক হাজার ৭৫০ কারখানা পরিদর্শন করা হবে। বাকি কারখানাগুলো সরকার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সহায়তায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনা (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান এর অধীনে) পরীক্ষা করবে। এদিকে ৭ ফেব্রুয়ারি পোশাক খাতের উন্নয়নের জন্য পোশাকশিল্প-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাজে গতি আনতে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন বাণিজ্য সচিব। মুন্সীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লীর জন্য গৃহীত অল্প সময়ের মধ্যে গার্মেন্টস উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এছাড়া নিয়োগ কাঠামোগত জটিলতা সংক্রান্ত কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ২০০ কারখানা পরিদর্শক নিয়োগ সম্ভব নয় বলে জানিয়ে শ্রম সচিব বলেন, এ বিষয়ে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের আগে বলা যাবে না। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে ২৬ জন পরিদর্শক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। তবে ২০০ ইন্সপেক্টর কবে নাগাদ নিয়োগ দেয়া যাবে এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। এর কারণ হিসাবে তিনি জানান, বর্তমান যে নিয়োগ কাঠামো আছে তাতে ২০০ ইন্সপেক্টর নিয়োগ দেয়া সম্ভব নয়। ২০০ ইন্সপেক্টর নিয়োগ দিতে হলে কলকারখানা পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে রূপান্তর করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লেগে যাবে।