‘শেষ সুযোগ’ আজ!

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:২৭
কাঠমান্ডু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ টিকে থাকবে না ঢাকায় ফেরার প্রস্তুতি নেবে, তা আজই চূড়ান্ত হয়ে যাবে। গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই। আর টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে জয় ছাড়া বাংলাদেশের সামনে বিকল্প কোন পথ নেই। টিকে থাকার লড়াইয়ে আই মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফের দল। কাঠমান্ডুর আর্মড ফোর্স মাঠে ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল পৌনে চারটায়। সাফ ফুটবলে দেশের ফুটবল দর্শকরা দলকে ফাইনালের আগে বাদ পড়তে দেখতে চান না। সেই ফাইনাল খেলার স্বপ্ন এখন খাদের কিনারায়। এর কারণ মূলত স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই ২-০ গোলের পরাজয়। আজকের ম্যাচটি তাই আক্ষরিক অর্থেই বাংলাদেশের জন্য ‘শেষ পরীক্ষা’। নেপালের আকাশ এখনও মেঘে ভরা। তাই গতকালও সারাদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। সাথে রাত থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। সকালে জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে অনেকেই ছাতা মাথায় দৈনন্দিন কাজে বের হয়। ঢাকার মতো রিকশা নেই। ট্যাক্সি ক্যাবই সাধারণ চলাচলের একমাত্র বাহন। বৃষ্টির মধ্যে বেলা ১১টায় আর্মি স্পোর্টস ট্রেনিং সেন্টারের মাঠে বাংলাদেশ দলের বাস এসে পৌঁছায়। অনুশীলন মাঠের অবস্থা খুব ভালো না। কারণ পাশের ভালো মাঠটি সেনা সদস্যদের নিয়ে টুর্নামেন্ট চলছিল বলে ফাঁকা জায়গায় দেয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। অনুশীলন শুরু করেই ক্রুইফ কথা বললেন সংবাদ মাধ্যমের সাথে। রাকঢাক না রেখে সরাসরি বলেই ফেললেন, এটাই শেষ সুযোগ। গতকাল ক্রুইফের কথায় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি মানসিকভাবে এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া গেল। মুখে হাসি ধরে রেখেই জানালেন, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচটাও ফাইনাল হিসাবেই ধরে নিয়ে আজ মাঠে নামছে তার দল। বললেন, ‘যেভাবেই হোক তিন পয়েন্টে পেতে হবে।’ বাংলাদেশের ‘এ’ গ্রুপে অন্য খেলায় ভারতের পাকিস্তানের ম্যাচ দেখে চাঙ্গা হয়েছেন ক্রুইফ। কারণ পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে অনেক বেশি শক্তিশালী মনে করেছিলেন ক্রুইফ। কিন্তু পরশু দশরথের মাঠে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ দেখে তার আত্মবিশ্বাসটা বেড়ে গেছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত মোটেও ভালো খেলেনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। ভুলবশত পাকিস্তান নিজেরাই নিজেদের জালে বল পাঠিয়ে ০-১ গোলে ম্যাচটা হেরেছে। পাকিস্তানের খেলার উন্নতি দেখে অবাক হয়েছেন। অনেক পরিবর্তন হয়েছে। পাকিস্তানের খেলা ক্রুইফের ভালো গেছে। ভারতকে হারাতে পারলে সেমিফাইনালে উঠার একটা সম্ভাবনা উঁকি দিতে পারে। সেই সম্ভাবনা বের করে আনতে যে কোনোভাবে ম্যাচ জিততে চাইছেন বাংলাদেশের ডাচ কোচ। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজকের খেলায় আমাকে প্রেসার দিতে হবে। খেলতে হবে। আর কোনো কথা নেই, ম্যাচ জিতেতে হবে। আর কিছু বুঝতে চাই না আমি। আমার ছেলেদের বলে দিয়েছে প্রেসিং ফুটবল খেলতে চাই।’ কিন্তু দলের ইনজুরি সমস্যা এখনও শেষ হয়নি। ফরোয়ার্ডে সোহেল ফিরবেন বলে জানালেন কোচ। অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম এখনও ইনজুরিতে থাকলে মাঠে নামার সম্ভাবনা দেখছেন ক্রুইফ। ফিফার তথ্য অনুসারে ভারতের বিরুদ্ধে এই পর্যন্ত ২৩ বার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। এর মধ্যে ভারত ১২ বার ম্যাচ জিতেছে। ড্র হয়েছে আটটি ম্যাচে। আর বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র তিনটিতে। ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ প্রথম জয়টি পায় ৯১ সালে কলম্বো সাফ গেমস ফুটবলে, ৯৯ সালে কাঠমান্ডুর এই দশরথের মাঠে জয় পায় বাংলাদেশ। শেষবার ভারতের বিরুদ্ধে ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়শিপে বাংলাদেশ গোল্ডেন গোলে সেমিফাইনালে জিতেছিল। পরিসংখ্যানে ভারত এগিয়ে থাকলেও ক্রুইফ এসব পাত্তা দিচ্ছেন না। তিনি মনে করছেন এখানে লুকানোর কিছু নেই। বাংলাদেশের তুলনায় ভারত অভিজ্ঞ একটি দল। বাংলাদেশের ফুটবলাররা ভারতের মতো না হলেও দুই দল এই স্টাইল অনুসরণ করে। কারণ বাংলাদেশের মতো ভারতের কোচও ডাচ। উইম কোভারম্যানস ভারতীয় ফুটবলে ডাচ স্টাইল প্রয়োগ করতে চাইছেন। কোভারম্যানস কাছে বাংলাদেশের কোচ ক্রুইফ উয়েফা ফুটবল এ লাইসেন্স কোচিং কোর্স করেছেন। গুরু কোভারম্যানের কাছে শিষ্য ফুটবল দীক্ষ নিয়েছেন ক্রুইফ। আজকের খেলায় তাই ডাচ গুরু-শিষ্যের লড়াই হবে। তবে পেশাদার কোচ দায়িত্বকেই আগে স্থান দিচ্ছেন, ‘আমি পেশাদার কোচ। আমার সর্বচ্চো চেষ্টা থাকবে দল কিভাবে জিতবে।’ এখন সেই চেষ্টাটা সফল হলেই হয়!