চ্যালেঞ্জটা প্রথম ছুঁড়ে দিয়েছিলেন সাবের হোসেন চৌধুরীই—মুখোমুখি বিতর্কের চ্যালেঞ্জ। প্রথম দিকে এ চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও এবার চ্যালেঞ্জটা নিয়েই ফেললেন নাজমুল হাসান পাপন। গতকাল বিসিবি অফিসে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে পরিষ্কার বলে দিলেন, যে কোনো দিন, যে কোনো জায়গায় তিনি সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তরে অংশ নিতে প্রস্তুত। তবে শর্ত একটাই তারা দুজন ছাড়া আর কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত থাকতে পারবেন না বিতর্কে এবং বিতর্ক হতে হবে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে। ইতিমধ্যে পাপন তার এ আগ্রহের কথা নিজমুখে সাবেরকে জানিয়ে দিয়েছেন!
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে নির্বাচনী হাওয়া শুরুর পর থেকেই পুরো ব্যাপারটা ক্ষমতাসীন দলের দুই সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী বনাম নাজমুল হাসান পাপনের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে দুপক্ষ থেকেই পরস্পর সম্পর্কে অনেক অভিযোগ, অনেক সমালোচনা চলছে। আর এসব কথা ছোঁড়াছুঁড়ির সমাপ্তি করতে সাবের হোসেন চৌধুরী কয়েক দফা বলেছেন, তিনি পাপনের সঙ্গে মুখোমুখি বিতর্কে আগ্রহী।
কাল এ প্রশ্ন উঠতে পাপন প্রথমে জানালেন, এর আগে তিনি এমন কোনো প্রস্তাব সরাসরি পাননি, ‘উনি যখন একটি টক শোতে এটা প্রথম বলেন, তখন আমি দেশেও ছিলাম না। সেখানে উনি বলেছেন, আমাকে নাকি ডাকা হয়েছিল; যাইনি। কিন্তু বাস্তবতা হল, আমাকে কেউ এ রকম আমন্ত্রণ জানায়ইনি।’
পাপন বললেন, পরে তিনি ব্যাপারটি জানতে পেরেই সাবের হোসেনের সঙ্গে এ আলোচনায় নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আজ থেকে তিন-চার দিন আগে সাবের ভাইয়ের সঙ্গে আমার বিমান বন্দরে দেখা হয়েছিল। আমি ওনাকে বলেছি, যে কোনো দিন, যে কোনো সময়, যে কোনো জায়গায় ওনার সঙ্গে আমি ওয়ান টু ওয়ান বসতে চাই; সবাইকে নিয়ে নয়। তবে অবশ্যই সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকতে হবে। আমার কথা হচ্ছে রেকর্ডেট হতে হবে কথাগুলো। ওনাকে বলেছি কোনো চ্যানেলে বসতে চাইলে বসতে পারেন। আমি শুধু আপনার সঙ্গেই বসতে চাই। বোর্ড, গঠনতন্ত্র নিয়ে যে প্রশ্ন করুন আপনাকে আমি উত্তর দেব।’
এর আগে অবশ্য পাপনকে সাংবাদিকদেরই নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে হল। বিশেষ করে আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর এক মাস পার হয়ে গেলেও নির্বাচনের সেরকম প্রস্তুতি কেন নেই, এ প্রশ্ন উঠল। উঠল কেন এখনো কাউন্সিলর চেয়ে চিঠি দেয়া হচ্ছে না, সে প্রশ্নও। নাজমুল হাসান পাপন তার মতো করে ব্যাখ্যা দিলেন, ‘অনেক, অনেক কারণ আছে। এখানে কিছু লিগ্যাল ইস্যু আছে, কিছু প্রশ্ন আছে যেগুলোর সমাধান করা দরকার। তাছাড়া মাত্রই গেল আইসিসির পরিদর্শক দল। এটা একটা মেজর ইস্যু ছিল আমাদের। সেটা নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের ব্যাপারটা গেল। হ্যা, চিঠিটা (কাউন্সিলর চেয়ে) আরো এক সপ্তাহ আগে হলেই ভালো হত। তবে আমরা ঠিক করেছি আজ থেকে সাত-আট দিনের মধ্যেই চিঠিটা চলে যাওয়া উচিত। চিঠি আর দেরি করার কোনো কারণ নেই।’
তবে এখন যে অবস্থায় আছেন, নির্বাচন মোটামুটি এই মাসের মধ্যে বা অক্টোবরের শুরুতে সেরে ফেলতে চান পাপন। তিনি নিশ্চিত, সেই পথে আর তেমন কোনো সমস্যা নেই। তাদের প্রতিপক্ষ শিবির থেকে অভিযোগ আছে, ঘর গোছাতে এসব দেরী করছে বিসিবি। পাপন এ অভিযোগ শুনে একটু বিস্মিত হলেন। অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে অনেক কথার পালে একটা কথা বললেন, ‘নির্বাচন আসলেই মনে হয় এসব (অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ) হয়। জাতীয় নির্বাচনে এগুলো হয় জানতাম, খেলায়ও যে এতো কিছু হয় আমার জানা ছিল না। তবে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর ওনারা সবাই, আপনারা সবাই পেয়ে যাবেন; খালি আর একটা মাস।’
এখন তাহলে সেই এক মাসের অপেক্ষা!
