খুলে দেয়া হচ্ছে আগামীকাল

আশকোনা হজ্ব ক্যাম্প প্রস্তুত

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৩৩
হজ্ব যাত্রীদের বরণ করার জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সন্নিকটে আশকোনা হজ্ব ক্যাম্প প্রস্তুত। আগামীকাল বুধবার সকালে ক্যাম্পটি খুলে দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী শুক্রবার সকাল ১০টায় হজ্ব ক্যাম্প উদ্বোধন করবেন বলে কথা রয়েছে। আর আগামী শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে এবারকার হজ্ব ফ্লাইট। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও হজ্ব অফিসের পরিচালক বজলুল হক বিশ্বাস ইত্তেফাককে বলেছেন, প্রথমদিন তিনটি ফ্লাইটে দেড় হাজারের বেশি হজ্বযাত্রী সৌদি আরবে যাচ্ছেন। আর অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার হজ্ব ক্যাম্পের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। মধ্য আগস্ট থেকে আশকোনা হজ্ব ক্যাম্প প্রস্তুত করার কাজ শুরু হয়। গত এক সপ্তাহ ধরে ক্যাম্পের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করাসহ আনুষঙ্গিক কাজ রাত-দিন করা হয়েছে। শেষ মুহূর্তের কাজ আজ মঙ্গলবার বিকালের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। হজ্ব যাত্রীদের ক্যাম্পে রিপোর্ট করার পর কোন কাজে যাতে বাইরে যেতে না হয় সে জন্য ক্যাম্পের অভ্যন্তরে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। আগামীকাল হজ্ব ক্যম্পে কাজ শুরু করবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম। হজ্ব ক্যাম্প এবং হজ্ব যাত্রীদের নিরাপত্তার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সার্বিক নিরাপত্তার বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশের অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম ছাড়াও হজ্ব ক্যাম্প থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত র্যাবের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। হজ্ব ক্যাম্পে চুরি ও বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে গঠন করা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক টিম। আগামীকাল সকাল থেকে স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করা শুরু করবেন। হজ্ব যাত্রীরা ক্যাম্পে রিপোর্ট করার তাদের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা ক্যাম্পের অভ্যন্তরেই করতে পারবেন। বিশেষ করে এহরাম বাঁধার কাপড়, পাজামা-পাঞ্জাবি, টুপি, জায়নামাজ, আতর, হ্যান্ডব্যাগ, স্যুটকেস কেনার জন্য কাউকে বাইরে যেতে হবে না। ক্যাম্পের অভ্যন্তরে এসব পাওয়া যাবে। মার্কেট থেকে যে দামে কিনতে হবে সে দামেই প্রতিটি জিনিস ক্যাম্পে পাওয়া যাবে। ক্যাম্পের মধ্যে খাবার দোকান ছাড়াও সেলুন রয়েছে। ক্যাম্পে হজ্ব যাত্রী ধারণক্ষমতা হচ্ছে আড়াই হাজার। পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এবার হজ্ব যাত্রীদের জন্য দু’ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যারা হজ্বব্রত পালনে সৌদি আরবে যাবেন তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’। আর সেটি হচ্ছে হজ্ব ক্যাম্পেই তারা সেরে নিতে পারবেন বিমান বন্দরের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা। ক্যাম্পে ইমিগ্রেশন ডেস্ক খোলা হবে। ক্যাম্প থেকে বাসে করে বিমানবন্দরে পৌঁছার পর সরাসরি হজ্ব যাত্রীরা উড়োজাহাজে চড়বেন। অপরদিকে সৌদি এয়ার লাইন্সের হজ্ব যাত্রীদের বিমান বন্দরে গিয়ে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে উড়োজাহাজে চড়তে হবে। গতকাল সোমবার হজ্ব অফিসের পরিচালক বজলুল হক বিশ্বাস ইত্তেফাককে বলেন, এবার হজ্ব ক্যাম্পে ২৯টি ব্যাংকের বুথ থাকবে। হজ্ব যাত্রীরা এসব বুথ থেকে টাকা জমা দিয়ে মার্কিন ডলার কিংবা সৌদি রিয়াল কিনতে পারবেন। এছাড়া তিনটি ক্যান্টিন ও চারটি ক্লিনিক ২৪ ঘন্টা খোলা থাকবে। ক্লিনিকে রাত-দিন যে কোন সময়েই চিকিত্সক পাওয়া যাবে। ক্যাম্পে হজ্ব যাত্রীদের কেনাকাটা করার জন্য ১০টি দোকান চালু থাকবে হজ্ব ফ্লাইট শেষ না হওয়া পর্যন্ত। তিনি আরও জানান, কী ভাবে পবিত্র হজ্বব্রত পালন করতে হয়, সৌদি আরবের আইন ও নিয়ম-কানুন, বিমানে বসার বিষয়ে সিডি দেখিয়ে ধারণা দেয়া হবে। এ জন্য ডরমেটরিতে বড় পর্দার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী শনিবার হজ্ব ফ্লাইটের উদ্বোধন। প্রথমদিন তিনটি ফ্লাইটে এক হাজার ৫৩৫ জন হজ্ব যাত্রী সৌদি আরবের জেদ্দায় যাবেন। উদ্বোধনী ফ্লাইট ৫৮০ জন হজ্ব যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাবে বেলা পৌনে ২টায়। সমান সংখ্যক হজ্ব যাত্রী নিয়ে দ্বিতীয় ফ্লাইটটি ছেড়ে যাবে বিকাল পৌনে চারটায়। প্রথম দিনের সর্বশেষ ফ্লাইটটি ৩৭৫ জন হজ্ব যাত্রী নিয়ে জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাবে সন্ধ্যা পৌনে সাতটায়।