উদ্ভাবন

দীপের চালকবিহীন ড্রোন কপ্টার

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৪৯
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল্লাহ আল মামুন খান দীপ তৈরি করেছে ছোট আকারের ড্রোন কপ্টার। কুয়েটের তড়িত্ ও ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান জানান, দীপের তৈরি ক্ষুদ্রাকৃতির এ ড্রোন কপ্টারটি রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পরিচালনা সম্ভব। ছোট আকৃতির ব্যাটারির মাধ্যমে এটি চালানো হয়। ব্যাটারি দুর্বল হয়ে এলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসবে। তিনি আশা করেন, দুর্যোগপ্রবণ আমাদের এই দেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অনেক ক্ষেত্রে যানটি উপকার করবে। আবদুল্লাহ আল মামুন খান দীপ ১৯৮৯ সালে রংপুর জেলা সদর গোমস্তাপাড়ায় নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ থানার উত্তর হাজাতিয়া গ্রামে। বাবা মোঃ দৌলত খান এবং মা নূরজাহান খান। ২০১৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের এ যাবত্কালের সবচেয়ে বড় রোবোটিক কম্পিটিশন— ইন্টারন্যাশনাল অটোনোমাস রোবোটিক কম্পিটিশনে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন দীপ। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল আইইইই কনফারেন্সে তার গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এগুলো বর্তমানে ডিজিটাল লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে। দীপ জানান, এই কপ্টারটিকে পুরোপুরি অটোমেটিক মুডে চালানোর কাজও শেষ পর্যায়ে। এছাড়াও জিপিএস-এর মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণ করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় অটোমেটিক্যালি নিয়ে যাওয়ার কাজও প্রায় শেষ। এখন আরও উন্নতির জন্য দরকার সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। কপ্টারটি তৈরি করতে কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কপ্টারটির ব্যবহার যেমন বহুমুখী তেমনি ততটাই জটিল এর কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ। গত একবছরেরও বেশি সময় ধরে আমি এটি নিয়ে কাজ করেছি। চাহিদামতো প্রয়োজনীয় অনেক জিনিসপত্রই সময়মতো পাইনি। শুধু কাঠামো বানাতে গিয়েই অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। ইলেক্ট্রনিক্স অনেক জিনিসপত্র দেশের বাইরে থেকে আনাতে হয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল আর্থিক। স্পন্সরের জন্য অনেক ঘোরাঘুরিও করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, চালকবিহীন উড়োজাহাজ তৈরি করে দীপ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করেছে। চালকবিহীন ও নিঃশব্দে চলা ড্রোনটি দুর্যোগকালীন সময়ে কোথায় কি হচ্ছে তা জানাতে পারবে।