বাংলাদেশকে জয় বঞ্চিত করলো বাজে রেফারিং

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২০
বাংলাদেশ দল মামুন খান, নাসির উদ্দিন (আরিফুল), লিংকন, মিশু, ওয়ালী ফয়সাল (রায়হান হাসান), সোহেল রানা, তকলিস, ওমার ফারুক বাবু (মামুনুল ইসলাম), মোবারক, জামাল। এমন নির্লজ্জ রেফারিং দেখে ভারতীয় সাংবাদিকরাও হতবাক হয়েছেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১০ সেকেন্ড বাকি থাকতে একটা ফ্রিকিক দিয়ে বর্তমান সাফ চ্যাম্পিয়ন ভারতকে গোলের সুযোগ করে দিলেন শ্রীলংকার রেফারি ক্রিশাসন্থা ডি পেরেরা। আর তাতেই ভারত নিশ্চিত হার থেকে রক্ষা পেয়ে বাংলাদেশের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে। ভারতীয় সাংবাদিকরাও বলছিলেন রেফারি বাঁচালো। নইলে লজ্জা নিয়ে ফিরতে হতো। এছাড়া যারা খেলা দেখেছেন তারাও আফসোস করেছেন বাংলাদেশের জয় কেড়ে নেয়ার দৃশ্য দেখে। বাংলাদেশ তাদের চাইতে শক্তিশালী ভারতের বিরুদ্ধে ৮২ মিনিটে মিশুর গোলে এগিয়ে যায়। তখন খেলা শেষ হওয়ার আট মিনিট বাকি। নাসির, মিশু, লিংকন, রায়হান হাসানরা ভারতকে ঠেকিয়ে দিয়েছেন। ৯০ মিনিট শেষ। অতিরিক্ত হিসেবে তিন মিনিট দেয়া হলো। সেটাও প্রায় শেষ। ১০ সেকেন্ড বাকি। এমন সময়ে বাংলাদেশের বক্সে বদলি হিসেবে খেলতে নামা অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম একটা বল ক্লিয়ার করে দলকে বিপদ মুক্ত করলেন। এর কয়েক সেকেন্ড পর শ্রীলংকার রেফারি হঠাত্ বাঁশি বাজিয়ে বললেন ফাউল হয়েছে। ফ্রিকিক। মামুনুল, এমিলিদের প্রতিবাদে কাজ হলো না। ভারতীয় অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী ফ্রিকিক নিলে বলটা সোজা গিয়ে বাংলাদেশের জালে ঢুকল। বল সেন্টার করার সাথে সাথে রেফারি শেষ বাঁশি বাজালে ড্র পেয়ে হাফ ছাড়ে ভারত। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল মিশু। তাকে মাঠ থেকে তুলে আনতে অন্যরা গেলেন। সাথে ফুটবলার রায়হান হাসান, এমিলি, তকলিস, মোবারক, লিংকনরা ডাগআউটের বেঞ্চে বসে কাঁদতে লাগলেন। বিশ্বাস করতে পারছিলেন না রেফারি কিভাবে মুহূর্তেই বাংলাদেশের স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দিলেন। নেপালের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ভাল ফুটবল খেলতে পারেনি। এই নিয়ে সমালোচিত হয়েছেন ফুটবলাররা। তাই ভারতকে হারিয়ে দেশের ফুটবল অনুরাগীদের স্বস্তি দেয়ার শপথ নিয়ে কাল বিকালে কাঠমান্ডুর হালচুকস্থ আর্মি গ্রাউন্ডে খেলতে নেমে দারুণ লড়াই করেন তারা। খেলার প্রথম ২০ মিনিট ছাড়া পুরো সময়টা দারুণ খেলেছে বাংলাদেশ। মাঝমাঠে দুর্বলতা থাকলেও সেটা অনেকটা পুষিয়ে গিয়েছিল অন্যদের বাড়তি তত্পরতায়। পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত ও তাদের বিখ্যাত স্ট্রাইকার সুনীল ছেত্রিকে নিয়ে ভয় ছিল। তবে ডিফেন্ডার নাসির, মিশু, ওয়ালী ফয়সাল, রায়হান হাসানরা একবারও বিপক্ষকে ভালো কোনো সুযোগ তৈরি করতে দেননি। এক মৌসুম আগেও পর্তুগালে খেলা ছেত্রীকে যেভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেয়া হয়েছিল তা মানতে পারছিলেন না তিনি। তাই ভারতের আই লিগের দল ব্যাঙ্গালুরুর এ খেলোয়াড়টি অন্তত দশবার ফাউল করেন। কিন্তু রেফারি দফায় দফায় তা এড়িয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ছেত্রী বল ছাড়াই বাংলাদেশের সোহেলকে গুঁতো মেরে মাটিতে ফেলে দিলে হলুদ কার্ড দেখাতে বাধ্য হন। তারপরও ছেত্রীর সাথে মেহতাব ফার্নান্ডাস, জুয়েল, অর্ণব, নির্মলরা গায়ের জোরে খেলে যাচ্ছিলেন। ছেত্রী একবার তকলিসকে মেরেছেন। খেলার শেষ দিকে ছেত্রী কনুই দিয়ে বাংলাদেশের ডিফেন্ডার নাসির উদ্দিনকে মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত করে মাঠ থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করলে রেফারি নির্বিকার থাকেন। শুরু থেকেই রেফারি আচরণ সন্দেহজনক ছিল। বাংলাদেশের ফুটবলাররা ধাক্কা খেলেও ফাউল দেয়া হয় ভারতের পক্ষে। এরপরও প্রতিবাদ না করে বাংলাদেশের ফুটবলাররা খেলেই যাচ্ছিলেন। কারণ খেলা যে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে। রেফারি যেন অপেক্ষায় ছিলেন ভারতকে সুযোগ করে দেয়ার। কিন্তু ভারত সেরকম কিছু আদায় করে নিতে পারছিল না। কোচ ক্রুইফ ৮০ মিনিটের সময় অধিনায়ক মামুনুল ইসলামকে মাঠে নামান। তিনি মাঠে নেমেই কর্নার আদায় করেন। সেই বল আবার কর্নার হয়। এবারও কর্নার করে বল দারুণ এক জায়গা ফেললে মিশু ডান পায়ের শটে গোলটি করেন (১-০)। আনন্দে লাফিয়ে উঠেন খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তারা। কিন্তু কে জানত এই আনন্দ এতটা ক্ষণস্থায়ী হবে।