পূর্বাচল ৩০০ ফুট রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৩১
পূর্বাচল নতুন শহর আবাসন প্রকল্পে ৩০০ ফুট প্রশস্ত রাস্তার জন্য সাধারণ মানুষের জমি পানির দামে অধিগ্রহণ করে মাত্র ৬৪ ফুট প্রশস্ত রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয় জনসাধারণ এই অভিযোগ করেছেন। তারা বলছেন, এখন আবার পানি নিষ্কাশনের জন্য ওই রাস্তার দুই পাশে ১০০ ফুট করে আরো ২০০ ফুট জায়গা অধিগ্রহণ করার কথা বলছে রাজউক। এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে রাজধানীর খিলক্ষেত, ডুমনি, রূপগঞ্জের হাজার হাজার মানুষ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুল হুদা ইত্তেফাককে বলেন, কুড়িল থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ৩০০ ফুট রাস্তা হচ্ছে পূর্বাচলে যাওয়ার জন্য। এই রাস্তার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ কিলোমিটার। রাস্তার নির্মাণ কাজ পুরোদমে চলছে। ইতিমধ্যে ৮৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ সম্পর্কে তিনি বলেন, পূর্বাচলে রাজউকের নতুন করে জমি অধিগ্রহণের কোন পরিকল্পনা নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুড়িল প্রগতি সরণি থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ৩০০ ফুট চওড়া রাস্তার জন্য ২০ বছর আগে জমি অধিগ্রহণ করে রাজউক। অধিগ্রহণের সময় বলা হয়েছিল, মূল রাস্তা ১০০ ফুট চওড়া হবে। এর উভয় পাশে ৫০ ফুট করে অযান্ত্রিক যানবাহন চলার জন্য রাস্তা থাকবে। তার পাশে আরো ৫০ ফুট করে জায়গা পানি নিষ্কাশনের জন্য রাখা হবে; কিন্তু ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানে (ড্যাপ) রাস্তার দুই পাশে আরো ২০০ ফুট জায়গা ওয়াটার বডি হিসেবে রাখা হয়। বলা হয়, নতুন করে ২০০ ফুট জায়গা অধিগ্রহণ করতে হবে। এর পরই এলাকার জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাদের অভিযোগ, অতীতে ৩০০ ফুট জমি অধিগ্রহণের সময় একবার তারা ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। আবারও জমি অধিগ্রহণ করলে নতুন করে তারা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। তারা বলছেন, ঐ এলাকায় জমির জন্য সরকার নির্ধারিত একটি মূল্য রয়েছে। সেই মূল্য কাঠা প্রতি এক থেকে দুই লাখ টাকার বেশি নয়। সরকার অধিগ্রহণ করলে এর দেড় গুণ দাম দেয়। প্রথম দফায় অধিগ্রহণের সময় ওই সব জমির প্রতি কাঠার মূল্য ছিল আট-দশ লাখ টাকা। অথচ জমির মালিকদের দেয়া হয়েছিল এক থেকে দেড় লাখ টাকা। বর্তমানে এসব জায়াগায় প্রতি কাঠার মূল্য স্থান ভেদে ২০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। অথচ সরকারি দর সর্বোচ্চ চার লাখ টাকা। কাজেই নতুন করে অধিগ্রহণ করা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের। রাজউকের নকশা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৬৪ ফুট রাস্তার মধ্যে ১০ ফুট প্রশস্ত বিভাজক রাখা হয়েছে। সেখানে গাছ পালা লাগানো হবে। এ ছাড়া উভয় পাশে ৩৩ ফুট করে মোট ৬৬ ফুট জায়গা রাখা হয়েছে বনায়নের জন্য। ৩৮ ফুট করে ৭৬ ফুট রাখা হয়েছে স্টর্ম স্যুয়ারেজের জন্য। এ ছাড়া এক পাশে ৩৬ ফুট ও অপর পাশে ৪৮ ফুট করে মোট ৮৪ ফুট জায়গা রাখা হয়েছে সিসি ব্লক স্থাপনের জন্য। এতে দেখা যাচ্ছে, ৩০০ ফুট জায়গার মধ্যে কেবল রাস্তার জন্য আছে মাত্র ৬৪ ফুট। ড্যাপে ওয়াটার বডির জন্য আরো যে ২০০ ফুট জায়গা অধিগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে, সেখানেও রাস্তা হবে না। এ রকম নকশার কথা শুনেই স্থানীয় জনগণ তীব্র আপত্তি জানায়। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সঠিক বিবেচনা অনুযায়ী নকশা করা হলে ৩০০ ফুট জায়গাতেই সব কিছু করা সম্ভব। তাতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ হবে। জমি অধিগ্রহণ প্রতিরোধ কমিটি ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রী, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে লিখিত আবেদন জানিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে রাজউক চেয়ারম্যানকে চিঠি দেয়া হয়। গত বছরের ২৭ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সরোজ কুমার নাথ চিঠি দিয়ে রাজউককে ওই সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে বলেন। এর পর অধিগ্রহণের কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও ড্যাপ এখনো সংশোধন করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা ওমর আলী বলেন, আমরা এটা নিয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপির কাছে গিয়েছিলাম। তারা সেটা বন্ধ করে রেখেছিলেন। দফায় দফায় অধিগ্রহণের ফলে জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। ভূমি অধিগ্রহণ প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা একমত হয়েছেন; কিন্তু অধিগ্রহণ না করার বিষয়টি নিশ্চিত করছে না কর্তৃপক্ষ। ফলে ওই জমিতে কেউ কোনো অবকাঠামোও করতে পারছে না। এ বিষয়ে পূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের মতো দরিদ্র দেশে ৩০০ ফুট রাস্তা করা সম্ভব না। তবে পর্যায়ক্রমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। ২০০ ফুট ওয়াটার বডি সম্পর্কে তিনি বলেন, আজ বুধবার মন্ত্রণালয়ে ড্যাপ পর্যালোচনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।