ছোটবেলা থেকেই নাটক নামক শব্দের সাথে তার পরিচয়। বাবা ও মা দু’জনই সংস্কৃতিমনা হওয়ায় ভাবনার বেড়ে ওঠা হয়েছে নাটকের নির্মাণ কৌশল, অভিনয় ও তা সংশ্লি¬ষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের সাথে সাথে। আর নৃত্যের সাথে ভালোবাসাটাও তখন থেকে। বাবা হাবিবুল ইসলাম হাবিব একজন থিয়েটার কর্মীর পাশাপাশি টেলিভিশন নাটক নির্মাণেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন। মূলত বাবার পরিচিতির জন্যই ছোট্টটি থেকেই ভাবনা টিভি নাটকের জড়িয়ে পড়েন। মাহফুজ আহমেদ ও অরণ্য আনোয়ারের পরিচালনায় ‘আমাদের নূরুল হুদা’ ধারাবাহিক নাটকে গ্রামের ছোট্ট মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ভাবনা। এরপর কখনও ছোট বোন আবার কখনোবা আদরের ছোট মেয়ের চরিত্রে দেখা গেছে তাকে। নবম শ্রেণীতে পড়াকালীন মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ফাস্ট ডেট’ নাটকে অভিনয় করে বড়বেলার ভাবনা হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তখন। আর এখন পুরোদস্তুর অভিনয় শিল্পী, নাটকের মূল ভূমিকায় থাকা নায়িকা। এ প্রসঙ্গে ভাবনা বলেন, ‘বছর দুই ধরে নাটকে নিয়মিত অভিনয় করছি। বাবার পরিচিতির কারণে অনুরোধে ছোটবেলায় কিছু কাজ হয়তো করেছি
কিন্তু অভিনয়ের ভালোলাগাটা তৈরি হয়েছে এই সময় এসে। নিজেকে একজন চরিত্রাভিনেত্রী ভাবতেই আমার ভালো লাগে। তথাকথিত ‘নায়িকা’ কিংবা ‘মডেল’ শব্দের বৃত্তে নিজেকে আটকাতে চাই না। আমার অনেক সৌভাগ্য যে, এক সময় যে সকল নির্দেশকদের কাজ মুগ্ধ হয়ে টেলিভিশনের পর্দায় দেখতাম, এখন তাদের সাথে নিয়মিত কাজ করছি।’ আসছে ঈদে ভাবনার অভিনীত বেশকিছু নাটক বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে দেখা যাবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, অনিমেষ আইচের রচনা ও আজাদ কালামের পরিচালনায় ‘ভূতের বাড়ি’, মাহমুদ দিদারের ‘রসলুন বাই’, ‘স্যালুলয়েড ও নোটবুক’, সাইদুল রাসেলের ‘বানর মধু’, গৌতম কৌরির ‘সুবর্ণ রেখায় বাঁশিওয়ালা’, বিপাশা হায়াতের রচনা ও তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় নাম ঠিক না হওয়া একটি একক নাটক। গেল দুই বছরের ন্যায় এবারও সালাউদ্দিন লাভলুর ঈদের বিশেষ ছয় পর্বের একটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করবেন ভাবনা। নাটকে অভিনয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক পাণ্ডুলিপি আসে কিন্তু পছন্দ না হওয়ার জন্য করা হয়ে ওঠে না। মাসের ত্রিশ দিনই আমাকে শুটিং করতে হবে এমন
ধরাবাঁধা কোনো নিয়মে আমি বিশ্বাসী নই। আমি এমনও নাটকে অভিনয় করেছি, যেখানে আমার চরিত্রের ব্যাপ্তিকাল কম ছিল। একজন চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে সব সময়ই নাটকের চরিত্রের মাধ্যমে নিজেকে ভেঙেছি-গড়েছি, বুঝতে চেষ্টা করেছি অভিনয়ের পুুঙ্খানুপুঙ্খ অনুষঙ্গগুলোকে। সব সময়ই আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি, একজন অভিনেত্রী যেন হতে পারি। শুধুমাত্র অভিনয়ের মাধ্যমেই সারাজীবন উপভোগ করা যায় অসংখ্য মানুষের বিচিত্র চরিত্রকে। তাই তথাকথিত প্রেমের নাটক নয়; অভিনয় করতে চাই অন্ধ, প্রতিবন্ধী, গার্মেন্টস নারী শ্রমিক, পতিতা, কৃষানী, কামার-কুমার-জেলেপাড়ার মেয়েসহ অভিনয় করা যায় কিংবা অভিনয় করতে গিয়ে জীবনের অনেক কিছু জানা যায়, শেখা যায় এমন চরিত্রে। শুধুমাত্র একজন অভিনেত্রীই পারেন তার অভিনয়শৈলীর মাধ্যমে শত শত বছর বেঁচে থাকতে। আমি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ এই জন্য যে, এমন কিছু চরিত্রে অভিনয় করেতে পেরেছি যা আমাকে দর্শকের মাঝে পৃথক করে চিনতে সহায়তা করেছে। গেল ভালোবাসা দিবসে এসএ টেলিভিশনে অনিমেষ আইচের ‘বার বার বার’ নাটকে অভিনয় করে যেমন তৃপ্ত হয়েছি তেমনি প্রশংসা পেয়েছি সুবর্ণা মুস্তাফা, মাহফুজ আহমেদ ও তমালিকা কর্মকারের মতো গুণী অভিনেত্রীদের কাছ থেকে। তাই মানসম্পন্ন কাজ করে যেতে চাই। স্রোতে গা না ভাসিয়ে অন্যদের তুলনায় কম নাটকে অভিনয় করব কিন্তু যা করব তা হবে সৃজনশীল ও অভিনয়শৈলীতে অনন্য।’
সমবয়সী অনেকের মতো বিজ্ঞাপনে কেন ভাবনাকে তুলনামূলক কম দেখা যায়, তার উত্তরে তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞাপনের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে নাটকে অভিনয় করতে চাইনি। একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে আমি আজীবন শিক্ষানবিশ এবং অভিনয়ের মাঝেই ডুব দিয়ে থাকতে চাই। জানতে চাই, বুঝতে চাই অভিনয়ের বিভিন্ন বিষয়কে। তাই আমার বিজ্ঞাপনে সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে একজন অভিনেত্রী হিসেবে মানসম্পন্ন ও কাহিনীনির্ভর বিজ্ঞাপনে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। খুব বেশি নাচ-গানে ভরপুর টিভিসি আমার ভালো লাগে না। কোনো একটি পণ্যের ব্র্যান্ড অ্যাম্বসেডর হলে, হয়তো সামনে কোনো বিজ্ঞাপন করতে পারি।’
চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন ভাবনা, এ বিষয়টি কতটা সত্য জানতে চাইলে তিনি হেসে বলেন, ‘হ্যাঁ, বিষয়টি সত্য। চলচ্চিত্রের রুপালি ভুবন আমার কাছে নতুন হলেও আমি এরইমধ্যে চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশোনা ও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মুভি দেখছি। বেশকিছু পাণ্ডুলিপি আমার হাতে এসেছে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেব কোন চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করব। আশা করি এ বছরই চলচ্চিত্রে আমার পথ চলা শুরু হবে। এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না, সবকিছু নির্দিষ্ট হওয়ার পর সবাই বিস্তারিত জানতে পারবেন,
আমি কোন ছবিতে অভিনয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছি। আরেকটি বিষয় হলো, আমার কাছে অফট্রাক, কমার্শিয়াল কিংবা আর্টফিল্ম বলতে কিছু নেই। চলচ্চিত্র স্রেফ চলচ্চিত্র রূপেই আমার কাছে উঠে এসেছে। কোনো বিভাজনে না গিয়ে আমি শুধু অভিনয় করতে চাই।’ অন্যদিকে নাচের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভাবনা বলেন, ‘ক্লাসিক্যাল নাচের প্রতি আমার বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে। ছোটবেলায় সব ধরনের নাচের প্রশিক্ষণ নিলেও এখন আমার অন্যতম প্রিয় ক্লাসিক্যাল। সময়ের অভাবে চর্চাটা ঠিকমতো হচ্ছে না। গেল ঈদে দুই-তিনটি চ্যানেলে নাচের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলাম। এবার বাংলাভিশনের সাথে কথা হচ্ছে একটি একক নৃত্যানুষ্ঠান নিয়ে। ওখানে ক্লাসিক্যালের প্রাধান্য থাকবে বলে মনে করছি।’
বর্তমানে ইউল্যাব ইউনির্ভাসিটিতে ইংলিশ অ্যান্ড হিউমিনিটি বিষয়ে তৃতীয় সেমিস্টারে পড়ছেন ভাবনা, যার মনের আয়নাতে পুরোটা সময়জুড়েই থাকে একজন পরিপূর্ণ অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন। যেখানে ভবিষ্যতে এমন কিছু চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছে, যা তাকে বাঁচিয়ে রাখবে যুগ যুগান্তর।
ফটোগ্রাফি আবু নাসের
এ ক ন জ রে
নাম :আশ্না হাবিব ভাবনা
ডাক নাম :ভাবনা
জন্ম তারিখ :০৩ আগস্ট
বাবার নাম :হাবিবুল ইসলাম হাবিব
মায়ের নাম :রেহানা হাবিব
প্রিয় পোশাক :সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি
প্রিয় খাবার :ভাত, গরুর মাংস, ডাল, চিংড়ি মাছ
প্রিয় বেড়ানোর স্থান :সিঙ্গাপুর
প্রিয় সংগীতশিল্পী :সুবীর নন্দী, বাপ্পা মজুমদার, মৌসুমী ভৌমিক, অর্ণব, হাবিব
প্রিয় মডেল :মৌ, নোবেল
প্রিয় অভিনেতা :মাহফুজ আহমেদ, হুমায়ুন ফরীদি, শতাব্দী ওয়াদুদ
প্রিয় অভিনেত্রী :সুবর্ণা মুস্তাফা, জয়া আহসান, তিশা, আফসানা মিমি
অবসর কাটে যেভাবে :ঘুমিয়ে, গান শুনে
নিজেকে বিশ্লেষণ করেন যেভাবে :
মা-বাবার প্রিয় মেয়ে
সাফল্যের সংজ্ঞা :পরিশ্রম
