‘ক্যাহতা হ্যায় দিল...জি লে জারা’

একজন সাচির জীবনের গল্প

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:১৮
‘ক্যাহতা হ্যায় দিল... জি লে জারা’ সিরিয়ালের গল্প সাচিকে নিয়ে। তার বয়স ৩৪ চলছে। এখনও বিয়েশাদি হয়নি। দৃঢ়চেতা, স্বাধীন, প্রত্যয়ী এক তরুণী সাচি। সংসারের পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে সে। শখ করে নয় অনেকটা বাধ্য হয়ে সংসারের পুরো বোঝা নিজের কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে তাকে। বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। ছোট দুই ভাইবোন আর বুড়ো দাদি ও নানীকে নিয়ে সাচির সংসার। কার অ্যাকসিডেন্টে যখন সাচির বাবা-মা দু’জনে একসঙ্গে মারা যান তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। সেই সময় থেকেই বড় সন্তান হিসেবে সংসার দেখাশোনা করতে হচ্ছে তাকে। সাচিকে সারাক্ষণ ভীষণ ব্যস্ত থাকতে হয়। সে নিজে একটি স্ট্রবেরির খামার চালায়। এটা আগে তার বাবা এবং চাচারা মিলে পরিচালনা করতেন। অনেক আগে থেকেই দাদি ও নানী সাচিকে বিয়ের জন্য নানা ভাবে চাপ দিচ্ছেন। কিন্তু তাদের কথা শোনার ব্যাপারে সাচির কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সে আছে তাদের পৈতৃক স্ট্রবেরি চাষের খামার আর সংসার নিয়ে। বিয়ে হলে অন্যের সংসারে চলে গেলে এসব কে দেখাশোনা করবে। বিয়ের ব্যাপারে সব সময় অনাগ্রহ দেখানো নাতনি সাচিকে নিয়ে তার দাদি ও নানী সমস্যার মধ্যে আছেন। তেমনি পরিস্থিতিতে তাদের প্রতিবেশী হয়ে আসে শিবাম। পাড়ার এক মহিলা শিবামের সঙ্গে সাচির বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে। সাচি দাদি-নানীর মন রাখতে শিবামের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হয়। কিন্তু শিবামের সঙ্গে কথাবার্তা বলার পর সাচি জানতে পারে বিয়ের পর তাকে স্বামীর সঙ্গে সুদূর আমেরিকায় চলে যেতে হবে। সাচি শিবামের বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হতে পারে না কারণ সে কোনোভাবেই তার বাবার স্ট্রবেরি খামার এবং ভাইবোন দাদি-নানীর সংসার ছেড়ে দূরে চলে যেতে চায় না। কাছাকাছি থেকে নিজের দায়িত্ব পালন করতে চায়। এতে করে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসা প্রতিবেশী মহিলা রেগে চলে যান। সাচি এতে ভেঙে পড়ে না। সে তার দাদি-নানী দু’জনকে বোঝায় সে এমন একজনকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেবে যে শুধুমাত্র একজন স্বামী হবে না সে একজন ভালো পার্টনার হবে সব ব্যাপারে। একদিন হঠাত্ করে ধ্রুবের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় সাচির। তারচেয়ে সাত বছরের ছোট ধ্রুব একজন সুদর্শন স্মার্ট প্রাণবন্তু টগবগে যুবক। প্রাণ খোলা স্বভাবের এই যুবক পেশায় একজন আইনজীবী। তার চনমনে হাসিখুশি স্বভাব সাচিকে ভীষণভাবে আলোড়িত করে। মনে মনে ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে সাচি ধ্রুবের প্রতি, বয়সে ছোট হলেও ধ্রুবের প্রতি অন্যরকম আকর্ষণ অনুভব করতে থাকে। হূদয়ের কথা মুখ ফুটে বলতে ব্যাকুল হয় সাচি। ধ্রুবের সান্নিধ্য সাচির জীবনধারা বদলে দিতে থাকে ক্রমশ। তার হূদয়ে ভালোবাসার জোয়ার জাগে। তেমনি গল্প নিয়ে এগিয়ে চলেছে সনি টিভি চ্যানেলের নতুন সিরিয়াল ‘ক্যাহতা হ্যায় দিল... জি লে জারা’। এর মধ্যেই দর্শকদের মধ্যে আলোড়ন তুলেছে সিরিয়ালটি। প্রধান চরিত্র সাচির ভূমিকায় অভিনয় করছেন সঙ্গীতা ঘোষ। ৩৭ বছর বয়সী জনপ্রিয় এই টিভি অভিনেত্রী এর আগে ‘মেহেন্দি তেরি নাম কী’, ‘দেশ মে নিকালা হোগা চাঁদ’, ‘ভিরাসাত’ ‘রাব্বা ইশক না হোভে’, ‘কুরুক্ষেত্র’, ‘আজিব দাস্তান’, ‘অধিকার’, ‘দারার’ প্রভৃতি সিরিয়ালে প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয়ের সুবাদে ঘরে ঘরে খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। অনেকদিন বিরতির পর আবার হিন্দি সিরিয়ালে তার বয়স অনুযায়ী মানানসই একটি চরিত্রে ফিরে এসেছেন সঙ্গীতা। দর্শক তার অভিনয় বেশ উপভোগ করছেন। এ ছাড়া সিরিয়ালটিতে আরও অভিনয় করছেন রুসলান মমতাজ, মিনাক্ষী শেঠি, সুলভা দেশাপান্ডে, দেলনাজ পাল, বিশাল নায়ক প্রমুখ। সনি এন্টারটেইনমেন্ট টিভি চ্যানেলে সপ্তাহে প্রতি সোম থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় ‘ক্যায়হা হ্যায় দিল... জি লে জারা’ সিরিয়ালটি দেখানো হয়।