হলিউড

একজন স্বপ্ন বিক্রেতার গল্প

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:১৯
সম্প্রতি স্টিভ জবসকে জানার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে একটি সিনেমার মাধ্যমে। জশোয়া মাইকেল স্টার্নের পরিচালনায় ও ম্যাট হুইটলির চিত্রনাট্যে হতে যাওয়া চলচ্চিত্র ‘জবস’-এর মাধ্যমে স্টিভ জবসকে পাওয়া যাবে রুপালি পর্দায়। জবসকে নিয়ে চলচ্চিত্র হচ্ছে খবর প্রকাশের পর সাধারণভাবেই সবার আগ্রহের কেন্দ্রস্থল তৈরি হয় স্টিভ জবস চরিত্রে কে অভিনয় করছেন তা জানার। বেশ কিছুদিন আগেই শোনা গিয়েছিল অ্যাস্টন কুচার অভিনয় করেছেন মূল চরিত্রে। মূলত স্টিভ জবস কিভাবে এসেছেন এই পর্যায়ে, তার জন্ম থেকে অ্যাপল প্রতিষ্ঠাসহ প্রায় সবকিছুই ফুটিয়ে তুলে নির্মিত হবে এই ছবি। জবসকে নিয়ে চলচ্চিত্র বানানোর এটি দ্বিতীয় উদ্যোগ। নির্মাতারা আশা করছেন এ থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মসহ সারা বিশ্বের তরুণ প্রজন্ম ও সৃজনশীল মানুষেরা অনেক কিছুই শিখতে পারবে। জানতে পারবে, কিভাবে শূন্য থেকে একজন মানুষ সারা বিশ্বের মানুষের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। স্টিভ জবসকে বলা হয় কর্পোরেট আমেরিকার অন্যতম একজন প্রেজেন্টার। প্রেজেন্টেশনের ক্ষেত্রে তার যে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা তা অদ্বিতীয়। জবসের প্রেজেন্টেশন তার অডিয়েন্সকে ধরে রাখে একেবারে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত। জবসের দক্ষতা এক্ষেত্রে এতটাই বেশি যে যেকোনো ধরনের এবং যেকোনো মানসিকতার অডিয়েন্সকে তিনি ধরে রাখতে পারেন শুধুমাত্র তার কথার দক্ষতা দ্বারা, মাতিয়ে রাখতে পারেন পুরো হল। বারবার সেকথার প্রথম রেখে গেছেন তিনি। তার প্রেজেন্টেশন সম্পর্কে একটা কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, ‘তিনি কোনো পণ্য বিক্রি করেন না, তিনি স্বপ্ন বিক্রি করেন।’ তার প্রেজেন্টেশনের সময় দর্শকের কখনোই মনে হবে না যে তিনি কোনো কিছু বিক্রয় করতে চাচ্ছেন। তিনি আসলে স্টেজে দর্শকের স্বপ্নকে জাগিয়ে তোলেন এবং সেই স্বপ্নের গায়ে আবরণ লাগিয়ে তা সত্য করার চেষ্টা করেন। তার সম্পর্কে আরেকটা কথা বলা হয়। সেটা হলো, অন্যান্য প্রেজেন্টাররা প্রেজেন্ট করে কিন্তু জবস মোটিভেট করেন। কিন্তু অসাধারণ এই মানুষটির এই অসাধারণ প্রেজেন্টেশন দক্ষতা কিন্তু একদিনে তৈরি হয়নি। ১৯৮৪ সালে তিনি একটি প্রেজেন্টেশন দিয়েছিলেন যা ছিল সেই সময়কার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেজেন্টেশন। সেই সময় থেকে শুরু করে তিনি প্রতিনিয়ত প্রেজেন্টেশনে দেখিয়েছেন অসাধারণ নৈপুণ্য ও দক্ষতা, যা যে কেউ অকপটে স্বীকার করতে বাধ্য। ইতিহাস বদলে দেওয়া দিনটি দিনটির গুরুত্ব বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে ১৯৮৪ সালে। ওই বছর অ্যাপল বাজারে আনে ম্যাকিনটশ নামের ডেস্কটপ কম্পিউটার। এই কম্পিউটারেই প্রথমবারের মতো যোগ করা হয় গ্রাফিক ইউজার ইন্টারফেস। যারা এই কারিগরি শব্দটির সঙ্গে পরিচিত নন, তাদের জন্য সহজ করে বলা যায়, আমরা কম্পিউটার ব্যবহার করার সময় যে ডেক্সটপ দেখি, যেভাবে মাউস দিয়ে ক্লিক করে ফাইল খুলি, মাউস দিয়ে টেনে ফাইল স্থানান্তর করি, এই সুবিধাটিকেই বলা হচ্ছে গ্রাফিক ইউজার ইন্টারফেস। বাণিজ্যিক কম্পিউটারে এটিই অ্যাপলের অবদান। অ্যাপল সে কাজটি করেছিল ১৯৮৪ সালের মধ্যেই। এর আগে কম্পিউটারে কাজ করতে হতো লাইনের পর লাইন লিখে কমান্ড দিয়ে। ওই সময়ের অনেক পরে মাইক্রোসফট ১৯৯৫ সালে বাজারে আনে উইন্ডোজ ৯৫ এবং ব্যবহারবান্ধব হিসেবে অ্যাপলের গ্রাফিক ইউজার ইন্টারফেসের মতো সহজ মাউস ক্লিকভিত্তিক গ্রাফিক ইউজার ইন্টারফেস যোগ হয়। এর আগে উইন্ডোজে মাউসক্লিক ছিল বটে, তবে সেটি সহজ ছিল না মোটেও। আর অ্যালটেয়ার নামে কম্পিউটারে জেরক্স গ্রাফিক্স ইউজার ইন্টারফেস আনলেও সেটি বাণিজ্যিক কম্পিউটার ছিল না। ফলে, প্রথম ব্যবহারবান্ধব এবং বাণিজ্যিক কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম তুলনা করলে সামনে চলে আসে ১৯৮৪ সালের ম্যাকিনটশ এবং এর পর ১৯৯৫ সালে মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ৯৫। ইতিহাস সংক্ষেপ করে বলা চলে, ১৯৯৫ সালে উইন্ডোজ ৯৫ বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে অসম্ভব জনপ্রিয়তা পেয়ে যায় এবং বাজারে পিছিয়ে পড়ে অ্যাপল। এর মধ্যে অ্যাপলের যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে। নিজে গবেষণায় মন দেবেন বলে স্টিভ জবস অ্যাপলে নিয়োগ করেছিলেন একজন সিইও, নাম জন স্ক্যালি। ভদ্রলোক এর আগে ছিলেন কোমল পানীয় পেপসির সিইও। ১৯৮৪ সালেই স্টিভ তাকে বলেছিলেন, ‘আপনি কি সারাজীবন এই চিনি মেশানো পানি বেচবেন নাকি পৃথিবীটাকে বদলে দেওয়ার কাজে নেতৃত্ব দেবেন?’ আর জবসের এমন টুকরো সব ঘটনার কথাই নিয়ে আসা হয়েছে ‘জবস’ নামের সিনেমাটিতে। এখন দেখার বিষয়, অভিনেতা অ্যাস্টন কুচার কতটা নিজের ভেতর ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন, স্টিভ জবসকে।