‘মাটির ময়না’ ছবিটির সাফল্যগাথার ইতিহাস কে না জানে। দেশ ছাড়িয়ে পৃথিবীর অনেক দেশেই এ ছবিটির সফলতা, সেসঙ্গে অস্কারে এর অংশগ্রহণ আমাদের দেশের চলচ্চিত্রকে করেছে দারুণভাবে সমৃদ্ধ। এ ছবিরই মাদরাসা পড়ুয়া এক শিশু শিক্ষার্থীর চরিত্র ‘আনু’। যার প্রকৃত নাম মো. নুরুল ইসলাম বাবলু। এখন জ্বলজ্বলে এক তরুণ। অভিনয়ে থাকা তো দূরে থাক রাজধানী ঢাকাতেই থাকা সম্ভব হয়নি তার। বর্তমানে তিনি সীতাকুণ্ডে হাফিজ জুট মিলস এলাকায় একটি পানের দোকান চালাচ্ছেন। কিন্তু সেই আনু পান দোকান থেকে আবারও অভিনয় জগতে ফিরতে চান। সম্প্রতি তার দোকানে গিয়ে কথা বলে জানা যায়, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আলী হায়দারের পুত্র মো. নুরুল ইসলাম বাবলু ১৯৮৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ১৯৯৯ সালে মামা মো. আবু সাঈদ তাকে ঢাকায় এনে ইউসেফ স্কুলে ভর্তি করান। সে সুবাদে তিনি মগবাজার নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলিতে চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের ভোলা চাচার বাসায় বসবাস করতেন। একদিন ওই বাসায় আসেন চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের ভাগ্নি পূর্বা। সেখান থেকেই পূর্বা নুরুল ইসলাম বাবলুকে পরিচালক মাসুদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ‘মাটির ময়না’ ছবিতে তাকে ‘আনু’ চরিত্রে অভিনয় করার জন্য ডাকেন। ২০০০ সালে ‘মাটির ময়না’ ছবিটির কাজ শুরু হয়। তখন তার বয়স ছিল ১১ বছর। তিনি আরও জানান, মাটির ময়নার কাজ শেষ করার পরও চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ স্যারের সঙ্গে টুকটাক কাজ করেন তিনি। পরে তারেক মাসুদ ২০১১ সালে মারা গেলে এরপর বাবলু কোনো কাজ না পেয়ে চলচ্চিত্র জগত্ থেকে সরে আসেন। ঢাকাস্থ একটি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও অভাবের কারণে ৪-৫ মাস ক্লাস করার পর লেখাপড়া করতে পারেননি। পরে ঢাকায় মগবাজার এলাকায় একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি করতেন। সর্বশেষ গত ঈদুল ফিতরের পর থেকে পিতার কর্মস্থল সীতাকুণ্ড এলাকার হাফিজ জুট মিলস কলোনি গেটে একটি পান-সিগারেটের দোকান করে আসছেন। তবে চলচ্চিত্র জগত্ থেকে দূরে থাকলেও এখনও তার মনেপ্রাণে শুধু একটিই আশা তিনি চলচ্চিত্রে কাজ করে বড় হবেন এবং লেখাপড়া চালিয়ে যাবেন।
