এসএম সুলতান উত্সব ও নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা গত ২৯ আগস্ট নড়াইলের চিত্রা নদীর তীরে শুরু হয়েছে। জাতীয় রোইং ফেডারেশনের সঙ্গে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক যৌথভাবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ঐহিত্যকে সমুন্নত রাখার উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন। ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ শত শত বছর যাবত্ আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম স্মারক; কেননা নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদী হচ্ছে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য ও ক্রীড়াক্ষেত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নৌকা বাইচ হচ্ছে একটি মূলধারার ঐতিহ্যবাহী কার্যক্রম এবং এটি হাজার হাজার দর্শক, শুভানুধ্যায়ী, সমর্থক, পৃষ্ঠপোষক ও খেলোয়াড়দের সমবেত করে। চলতি বছর বাংলাদেশের সব বিভাগে নৌকা বাইচের আয়োজন করা হচ্ছে। যে সব প্রতিযোগী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে তারা ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এই ধারাবাহিক আয়োজন নিঃসন্দেহে পুরো বাংলাদেশজুড়ে নৌকাবাইচ খেলোয়াড়দের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ জাগিয়ে তুলেবে। স্থানীয়দের মতে, এবারের আয়োজনে লক্ষাধিক দর্শক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেছেন। বাংলালিংকের সহযোগিতায় এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী এসএম সুলতানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করে।
নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা শেষে সরকারি ও বেসরকারি খাতের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার প্রদান করেন।
বাংলালিংকের সিনিয়র অ্যাসিস্টেন্ট ম্যানেজার আশিক ইকবাল বলেন, ‘বাংলাদেশের দেশজ সংস্কৃতিতে নৌকা বাইচের মতো অনন্য-অকৃত্রিম অনুষঙ্গ আর নেই। নদীমাতৃক দেশ হিসেবে নৌকা আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম এবং বাংলালিংক প্রতিবছর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ পেয়ে বিশেষভাবে গর্বিত। আমরা বিগত পাঁচ বছর যাবত এ আয়োজন করে আসছি। নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একই আবেগ ও চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দেশীয় ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
