ভারতের বিরুদ্ধে ড্র হওয়া খেলাটি নিয়ে নেপালের রাজধানীতে কাঠমান্ডুতে গতকাল বুধবারও ছিল ব্যাপক আলোচনা। এমনকি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আজ বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বাচা মরার আসন্ন লড়াইটির মধ্যেও। বাংলাদেশ কোচ লোডউইক ডি ক্রুইফ জানিয়েছেন ম্যাচটি যত কঠিনই হোক জিততে হবে। খেলাটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল পৌনে চারটায়। হোটেল লবীতে বাংলাদেশ এবং ভারতের সংবাদ কর্মীদের ভীড়ের পাশাপাশি কাছাকাছি বসে আছেন পাকিস্তানী ও নেপালী ফুটলবলাররা। তাদের পাশে এমিলি, মামুনুল ইসলাম, মিশু, তকলিস, মামুন খান, সোহেলা রানা, ওমর ফারুক বাবু, লিংকনরা সোফায় গা এলিয়ে বসে আছেন। পেছনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ ফুটবল দলনেতা শেখ মারুফ হাসান, ম্যানেজার ইকবাল হোসেন, সবার চিন্তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে বাংলাদেশ ভারত ম্যাচে শ্রীলংকান রেফারির পক্ষপাতমূলক আচরণ।
বাংলাদেশ শিবিরে এমনিতেই আছে প্রথম ম্যাচে নেপালের বিরুদ্ধে ভালো খেলতে না পারার কষ্ট। তার উপর ভারতের বিরুদ্ধে হাতের মুঠোয় থাকা জয়টা চলে যাওয়ায় কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে পাহাড়সম। ভারতের বিরুদ্ধে নিশ্চিত জয় হাত ছাড়া হয়ে গেছে, এটা যেন কারো বিশ্বাস হচ্ছে না। মুহূর্তের বাশিতে ছোঁ মেরে এমিলি, মিশু, মামুনুলদের জয়টা ছিনতাই করে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছেন শ্রীলংকান রেফারি। ভারতীয় সাংবাদিকরা কালও বলছিলেন ম্যাচটা বাংলাদেশেরই ছিল। রেফারির কারণে তোমরা জিততে পারনি। সুনীল ছেত্রী ভালো ফুটবলার। কিন্তু সে যে খেলাটা খেলেছে তাতে ওর অনেক আগেই লালকার্ড হয়ে যায়। বিশেষ করে নাসির উদ্দিনকে কনুই দিয়ে ভারতীয় অধিনায়কের মাথা ফাটানোর ঘটনায়। এসবের প্রেক্ষিতেই হয়তো মাথা নিচু করে বাইরে থেকে এসে হোটেলের গেট দিয়ে ঢুকছিলেন সুনীল ছেত্রী এবং ভারতের ডাচ কোচ উইন কোভারম্যানস। বাংলাদেশি সাংবাদিকদের দেখে মাথাটা নিচু করে ফেললেন সুনীল। এই খেলোয়াড়টিই গোলের সুযোগ না পেয়ে ক্ষোভে নাসির, সোহেল, তকলিসদের রেফারি প্রশ্রয়ে বিনা দ্বিধায় মেরে আহত করে দিয়েছেন।
ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচটা ড্র না হলে আজ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে থাকার পাশাপাশি মানসিকভাবেও দারুণ চাঙ্গা থাকত। দুই ম্যাচে এক পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ আজ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে। পাকিস্তানও দুই ম্যাচ শেষে এক পয়েন্টে দাঁড়িয়ে। সঙ্গত কারণেই দুদল এ খেলাটিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়বে। কারণ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জন্য এটি যেমন একদিকে টিকে থাকার লড়াই তেমনি মর্যাদার লড়াইও বটে। এতে যে দলই জিতুক না কেন একই সময়ে দশরথে শুরু হতে যাওয়া নেপাল ও ভারতের খেলাটি ড্র হলে অবশ্য বাংলাদেশ পাকিস্তান ম্যাচের ফল কোনো কাজে আসবে না। কেননা সেক্ষেত্রে নেপাল ও ভারত সেমিফাইনালে উঠে যাবে। অপরদিকে স্বাগতিক নেপাল ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের খেলায় হার জিত হলে বাংলাদেশ পাকিস্তান ম্যাচের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ যদি তিন গোলের ব্যবধানে পাকিস্তানকে হারায় তাহলে সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সমীকরণটা কঠিন। তারপরও এটাকে বাস্তবে রূপ দিতে মরিয়া বাংলাদেশের ফুটবলাররা। জাতীয় দলের ডাচ কোচ ক্রুইফ বলছেন তিনি আজ ভাগ্যের সহায়তাও চান। ক্রুইফের কাছে প্রশ্ন উঠেছিল ভারত নেপাল যদি সমঝোতার ম্যাচ খেলে ড্র করে? জবাবে ক্রুইফ বলেন, ‘ম্যাচটা তো দর্শক সাংবাদিকসহ অন্যরাও দেখবেন।’
ক্রুইফ বলছেন সবাই ভারতকে শক্তিশালী মনে করেছিল। আর পাকিস্তানকে দুর্বল বলে ধরে নিয়েছিল। অথচ পাকিস্তানের দুই ম্যাচ দেখে মনে হলো সাফে পাকিস্তানই সবচেয়ে ভালো দল। ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের তিন চার গোলে জেতা উচিত ছিল, নেপালের বিরুদ্ধে এক গোলে এগিয়ে থেকেও দুর্ভাগ্য তারা শেষ মুহূর্তে গোল খেয়েছে। আমরা খেলা দেখে বুঝতে পারছি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমাদের কঠিন ম্যাচ হবে।’ কঠিন ম্যাচ হবে সেটা কাঠমান্ডুর ফুটবল পণ্ডিতরাও বলছেন। বাংলাদেশ পাকিস্তান ম্যাচটা দশরথে হচ্ছে না। এই ম্যাচটিও কাঠমান্ডুর হালচুকের আর্মড পুলিশ গ্রাউন্ডে হবে। সাফে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ চার ম্যাচ খেলে দুটিতে জয় পেয়েছে। অপর দুটি হয়েছে ড্র। কোন হার নেই।
