‘ফিল্ড-মার্শালের’ আরেক ইনিংস

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:১৬
ঠিক আট বছর আগের কথা। এই খুলনায় স্বাগতিক দলের বিপক্ষে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের অভিষেক হয়েছিল তার। ব্যাটে-বলে অভিষেকেই নিজের আগমনী গানটা শুনিয়েছিলেন সেই ১৬ বছর বয়সী কিশোরটি। তারপর অনেক সময় গড়িয়ে গেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে, বয়সভিত্তিক দলে রানের পর রান করেছেন, উইকেটের পর উইকেট নিয়েছেন, জাতীয় দলের স্কোয়াডে ডাকও পেয়েছেন; কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামাটা যেন হচ্ছেই না! না, এখনও জাতীয় দল তার কাছে সেই দূরের ব্যাপারই আছে। কিন্তু গতকাল আরেকবার বোলারদের শাসন করা এক ইনিংস খেলে তিনি বুঝিয়ে দিলেন জাতীয় দলকে আর খুব বেশি দূরে থাকতে তিনি দেবেন না। ১৯৭ বলে অপরাজিত ১৪৫ রানের এক ইনিংস খেলে বুঝিয়ে দিলেন, বোলারদের ‘শাসন’ করাই তার কাজ—কারণ তিনি একজন মার্শাল; মার্শাল আইয়ুব! অবশ্য মাঠের বাইরে মার্শালের সঙ্গে এসব নিয়ে কথা বলতে গেলে সবসময়ই একটা ধাক্কা খেতে হয়। ব্যাট হাতে যেমন প্রতাপান্বিত রূপ, মুখে ঠিক তার উল্টো পরিমাণে বিনয়ী। কালও ফোনে এসব বোলার শাসন, জাতীয় দলের প্রসঙ্গগুলো শুনে একটু লজ্জা পেয়ে গেলেন। বললেন, ‘বড় ইনিংস খেললে সবসময়ই ভালো লাগে। তেমনই ভালো লাগছে। হয়তো এই ইনিংসটা আমাকে আরেকটু এগিয়ে দেবে। কিন্তু জাতীয় দলে সুযোগ পেতে হবে, এটা ভেবে তো আর বড় ইনিংস খেলা যায় না। আমি আমার কাজটা করছি। তারপর দেখা যাক।’ নিজের কাজটা মার্শাল কম দিন ধরে করছেন না। খুব কম বয়সে, ষোলো পার হওয়ার পরপরই ২০০৫ সালে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে আবির্ভাব তার। সেই থেকে নিজের ফর্মটা সবসময় তুঙ্গে রাখতে না পারলেও মোটামুটি নিয়মিতই রান করে গেছেন। এ পর্যন্ত ৬২টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলে ৩৬.৯৭ গড়ে ৩৪০২ রান করেছেন। এর মধ্যে ৭টি সেঞ্চুরি আছে; যার সবচেয়ে বড়টি ২৮৯ রানের ইনিংস। বিশেষ করে গত মৌসুমটা গেছে তার স্বপ্নের মতো। ১১টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলে গত মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ, ১০৬৯ রান করেছেন ৭১.২৬ গড়ে। ক্যারিয়ারের ৭টি সেঞ্চুরির ৪টিই এসেছে এ বছর। ক্যারিয়ার সেরা ২৮৯ রানের ইনিংসটিও এই মৌসুমে খেলেছেন মার্শাল। গতকালকের ১৪৫ রানের অপরাজিত ইনিংসটা খেললেন ১৯৭ বলে; এর মধ্যে ২১টি চার ও ২টি ছয়। এবার আরেকটি ডাবল সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখছেন মার্শাল, ‘আগে এই পাঁচটা রান করে ১৫০ রানটা পূর্ণ করি। তারপর সুযোগ পেলে অবশ্যই ডাবল সেঞ্চুরি করতে চাই। সেটাই আমার জন্য ভালো।’ এই ভালোটা নানা অর্থেই। সামনে প্রিমিয়ার লিগ আছে, সেখানে চলতি মৌসুমের বিধ্বংসী ফর্মটা ধরে রাখতে পারলে কে জানে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই দরজাটা খুলে যেতে পারে। মার্শাল সেই স্বপ্নটা যে দেখছেন, তা অস্বীকার করলেন না। নিজেই মানছেন, অনেকবার সুযোগ না পেয়ে হতাশ হয়েছেন। কিন্তু খুব ভালো করে জানেন জাতীয় দলে ঢুকতে হলে এরকম কঠোর লড়াইই জিততে হবে, ‘মাঝে মাঝে খুব হতাশ লাগে। কিন্তু এটাও বুঝি যে টপ অর্ডারে মুশফিক, সাকিবরা আছে। ফলে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়াটা খুব সোজা না। তবে এরকম খেলতে থাকলে ব্যাপারটা যে কাঝে চলে আসবে, সেটা ঠিক।’ মার্শালের জন্য অন্যরকম আরেকটি ভালো খবর হল, আপাতত তাকে মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে না। গত কিছুদিন টেস্টে বাংলাদেশের তিন নম্বরে নিয়মিত থাকা আশরাফুল আপাতত ফিক্সিংয়ের অভিযোগে সাময়িক বহিস্কৃত আছেন। গতকাল মার্শাল ব্যাট করলেন তিন নম্বরে। ফলে এটা তাকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। মার্শাল অবশ্য কোনো সতীর্থর বিপদ থেকে নয়, নিজের যোগ্যতা থেকেই দলে ঢুকতে চান, ‘এটা হয়তো আমার সুযোগ বাড়াবে। কিন্তু আমি এভাবে ভাবি না। আমি নিজে ভালো খেলেই দলে ঢুকবো।’ এই আত্মবিশ্বাস থাকলে মার্শালকে কে আটকাবে!