রাজশাহীতে খেলাধুলা বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:১৭
এক বছর ধরে খেলাধুলা বন্ধ এবং দ্বিতীয় বিভাগ প্রতিযোগিতাসমূহ ক্রীড়াপুঞ্জিতে অন্তর্ভুক্ত না করার প্রতিবাদে রাজশাহীতে খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠক ফোরামের সদস্যরা গত মঙ্গলবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেন। নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। এ সময় নগরীর কয়েকশ’ খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠক রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান নির্বাহী কমিটির সদস্যদের পদত্যাগও দাবি করেন। আন্দোলনকারী খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকরা জানান, প্রায় এক বছর অতিবাহিত হয়েছে, রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার অধীনে কোনো ধরনের খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিগত ৩০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থা বছর জুড়ে একটি লিগেরও আয়োজন করতে পারেনি। ফলে পুরো একটি বছর স্থানীয় শতশত খেলোয়াড় অলস সময় কাটাতে বাধ্য হন। অথচ জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান নির্বাহী কমিটি বছর জুড়ে মেলা আর কনসার্ট নিয়ে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন। এতে করে জাতীয় দল, ঢাকা প্রিমিয়ার, প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটে অংশ নেয়া উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ক্রিকেটারের পাশাপাশি হকি, হ্যান্ডবল, বাস্কেটবল, ভলিবলসহ সকল খেলোয়াড়ের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা ও অসন্তোষ। এবার জেলা ক্রীড়া সংস্থা দ্বিতীয় বিভাগ প্রতিযোগিতাসমূহও বর্ষপুঞ্জিতে অন্তর্ভুক্ত করেনি। অথচ রাজশাহীতে খেলোয়াড় তৈরীর জন্য মুখ্য ভূমিকা পালন করে দ্বিতীয় বিভাগের প্রতিযোগিতাসমূহ। এসব কারণে রাজশাহীর খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকরা বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ শামসুল হুদা কিসলুর সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত প্রথম বিভাগ, প্রিমিয়াম ডিভিশন ও দ্বিতীয় বিভাগ লীগ বন্ধ থাকায় আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজশাহীর খেলোয়াড়রা। অপরদিকে মেলা এবং কনসার্টের জন্য মাঠ বরাদ্দের নামে নামমাত্র কিছু অর্থ জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোষাগারে জমা দেখিয়ে বাকি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন কেউ কেউ। সেই সঙ্গে হাউজি’র মাধ্যমেও লুটে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা যার কোনো হিসাব দেয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা। মানববন্ধন কর্মসূচীতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) নবনির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম-সম্পাদক রইচ উদ্দিন আহমেদ বাবু, ক্রীড়া সংগঠক শফিকুল ইসলাম শফিক, হাসানাত হোসেন জন ও শওকত হোসেন আরজু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।