বুড়িগঙ্গা তীরের অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২৬
ঢাকা শহরের চারদিকে নদীসমূহ দখল-দূষণ রোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বুধবার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে লালবাগ ও কামরাঙ্গীর চর এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে ২ টি পাকা, ১০ টি আধাপাকা, ৩৫ টি টিনের ঘর মিলে সর্বমোট অর্ধশতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেলুল কাদের-এর নেতৃত্বে পরিচালিত উচ্ছেদ কার্যক্রমে বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক (বন্দর) মো. আবুল বাসার, যুগ্ম পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) ওয়াকিল নেওয়াজ, যুগ্ম পরিচালক (ঢাকা বন্দর) মো. সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম পরিচালক (নৌ সওপ) জয়নাল আবেদীনসহ বিআইডব্লিউটিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা জেলা প্রশাসন কর্মকর্তা, কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। বিআইডব্লিউটিএ’র টাগ জাহাজ “অগ্রপথিক”, লংবুম এক্সেভেটরসহ ১০০ জন শ্রমিক উচ্ছেদ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। বুড়িগঙ্গা নদীর পশ্চিম অংশের (লোহার ব্রিজের সন্নিকটে) নদীর সীমানা পিলারের অভ্যন্তরে সিসি ব্লক দিয়ে বেঁধে দেয়া নদীর পাড়সহ নদীর অভ্যন্তরে মাটি ভরাট করে টংঘর এমনকি আর.সি.সি পিলার দিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলে। এ সকল স্থাপনার ফলে ঐ এলাকায় নদী ধীরে ধীরে সংকীর্ণ হয়ে আসছে। তাছাড়া লালবাগ ও কামরাঙ্গীর চর এলাকায় গড়ে উঠা স্থাপনা থেকে পতিত গৃহস্থালী, ব্যবসায়িক, পয়ঃ এবং পলিথিন বর্জ্যের মাধ্যমে ব্যাপক হারে দূষিত হচ্ছে বুড়িগঙ্গা। ফলে ঐ সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীকে দখল ও দূষণ মুক্ত করার লক্ষ্যে পূর্ব থেকে সংশ্লিষ্ট স্থাপনার মালিকদের নোটিস প্রদানসহ মাইকিং করে সতর্ক করার পরও সেগুলো সরিয়ে না নেয়ায় গতকাল সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট উচ্ছেদকৃত মালামালের মধ্যে ১৪ হাজার ৫০০ টি ইট, ১৪ হাজার ৫শ’ ৬০ ঘনফুট পাথর ও ভরাটকৃত ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫শ’ ৪০ ঘনফুট মাটির সর্বমোট সংরক্ষিত মূল্য ১৮ লাখ ৪২ হাজার ধরে তাত্ক্ষণিকভাবে নিলামের আয়োজন করেন। কিন্তু নিলামে মালামালগুলোর কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়া যাওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট সেগুলো কামরাঙ্গীর চর থানার হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। এ প্রসঙ্গে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান ড. মো. শামছুদ্দোহা খন্দকার ইত্তেফাককে জানান, ঢাকা শহরের চারদিকে নদীসমূহ দখল-দূষণ মুক্ত করে নদীর পাড়ে স্বাস্থ্যসম্মত নির্মল পরিবেশ তৈরির জন্য ইকোপার্ক ও ওয়াক-ওয়ে নির্মাণসহ নদীর পাড়ে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিএ কাজ করে যাচ্ছে। পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযান সেই কার্যক্রমেরই একটি অংশ।