সিমাস হিনির কবিতা

খোঁড়াখুঁড়ি

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:২৯
আমার হাতের অন্যসব আঙুল আর বুড়ো আঙুলের মাঝে উবু হয়ে একটা পেরেক বন্দুকের মতো বিশ্রাম নিচ্ছে। কোদালটা যখন কর্কশ মাটির তলায় সেঁধিয়ে যাচ্ছে আমার জানালার নিচে, পরিষ্কার শোনা গেল সেই শব্দ : বিষয়টা তেমন কিছু নয়, আমার বাবা এখন মাটি খুঁড়ছেন। ফুলের চারা লাগানো মাটি খুঁচিয়ে তোলা অব্দি, নিচু হয়ে, আমি এইসব অনেকটা ঝুঁকে পড়ে দেখছি এরই মাঝে এইভাবে কখন যে কুড়িটা বছর কেটে গেছে আলু তুলতে তুলতে আনত শরীরে কী যে ছন্দ তুলেছেন তিনি যেখানেই খনন করেছেন সেখানেই জেগেছে এই স্পন্দন। মাটির মধ্যে সেঁধিয়ে যাওয়া খড়খড়ে বুট টেনে তোলাই কঠিন কোদালের হাতল দুই হাঁটুর ওপরে শক্ত হাতে চেপে ধরেছেন মাটির ওপরটা যতটা সম্ভব তিনি তুলে ফেলেছেন কোদালের ঝলমলে প্রান্তটা আরও গভীরে ঢুকিয়ে দিলেন যে আলুগুলো আমরা তুলেছি, সেগুলো তখন ছত্রখান হাতে নিয়ে দেখি. কী যে ঠান্ডা আর শক্ত ঈশ্বর সহায়, ওই বৃদ্ধ মানুষটা কোদাল চালাতে জানে শুধু ওর বয়স একটু বেশি হয়েছে এই যা অন্যদের তুলনায় আমার পিতামহ একদিনে অনেক মাটি খুঁড়তে পারতেন। একবার কাগজে মুড়িয়ে ছিপি আটকানো এক বোতল দুধ তার জন্য আমি বয়ে নিয়ে গেছিলাম, দুধটা হাতে নিয়েই তিনি ঢকঢক করে খেয়ে ফেললেন তারপর আবার সোজা মাটি খোঁড়াখুঁড়ির কাজে লেগে গেলেন। সুচারুভাবে মাটির চাঁই কাঁধে তুলে নিয়ে দূরে ফেলতে থাকলেন গভীর থেকে আরও গভীরে কোদাল চালাতে লাগলেন মাটি খুঁড়তে থাকলেন। আলুর ঠান্ডা গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে গেল, কানে এল মাটিকাটার তীক্ষ ধ্বনি আর পিট কয়লার গায়ে কোদাল-কোপের আওয়াজ মাটি খোঁড়া চলছে তো চলছেই আর খণ্ড খণ্ড জীবন্ত শেকড় আমার মস্তিষ্কের কোষে কোষে ঝড় তুললো কিন্তু আমার তো কোনো কোদাল নেই। আমার অন্যসব আঙুল আর বুড়ো আঙুলের মাঝে উবু হয়ে একটা কলম বিশ্রাম নিচ্ছে। এই কলমটা দিয়েই আমি সবকিছু খুঁড়বো।