অবশেষে অডিও বাজারের উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শিল্পীরা সোচ্চার হলেন। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পীদের সাংগঠনিক যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল, যে দূরত্ব ছিল; তা ভাঙতে শুরু করল। ব্যান্ড মিউজিকের সংগঠন এমআইবি এবং আধুনিক শিল্পীদের সংগঠন এলসিএস গিল্ড এক মঞ্চে সমস্বরে অডিও পাইরেসি ও ডাউনলোড প্রতারকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বিরোধিতা জানালেন। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিনিতে এক সংবাদ সম্মেলনে দুই সংগঠনের পক্ষে আলাউদ্দিন আলী, আব্দুল জব্বার, হামিন আহমেদ, মাকসুদুল হক বক্তব্য রাখেন। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন শিল্পীরা। তবে মিডিয়াকে সেইভাবে জানানো বা প্রচারের অভাবে বিনোদন সাংবাদিকের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। প্রথম আলোর বিনোদন সাংবাদিক মানজুর কাদের জিয়া এক প্রশ্নে বলেন, ‘শিল্পীদের ভেতরে ঐক্য হবে কবে? ঐক্যবদ্ধভাবে কবে তারা আলোচনায় অংশ নেবেন?’ এমন প্রশ্নের উত্তরে শিল্পীরা বলেন, ‘তিনজন মিলেও প্রতিবাদ জানানো যায়।’ গীতিকার ও পাক্ষিক আনন্দধারার সাংবাদিক জাহিদ আকবর বলেন, ‘আপনারা কীভাবে প্রতিবাদ জানাবেন? কালক্ষেপণ করেই আজকের এই পরিস্থিতি তৈরি করেছেন।’ উত্তরে হামিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা কনসার্ট করব।’ মাকুসুদুল হক বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে কনসার্টের মাধ্যমে অবস্থান নেব। তবুও এই প্রতারকদের শাস্তি দিতে হবে।’ এই সংবাদ সম্মেলনে অডিও পাইরেসি নিয়ে এই আন্দোলনের আলোচিত প্রতিবেদন তৈরি করেছিল চ্যানেল টুয়েন্টিফোর। সংবাদ সম্মেলনে চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের রিপোর্টার শিল্পীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কবে এই কনসার্ট আন্দোলন শুরু করবেন?’ এ প্রসঙ্গে তারা শুধু বলেন, ‘খুব শিগগিরই করব।’ এ ছাড়া বামবা সভাপতি হামিন আহমেদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, এই পরিস্থিতিতে অডিও প্রযোজকদের সংগঠন এমআইবির সাথে তারা বসবেন কী না? উত্তরে বলেন, ‘এত বড় ডাউনলোড প্রতারণা লোকসম্মুখে ধরা পড়ার পর তাদের সাথে আলোচনায় বসার কোনো প্রশ্নই আসে না।’ এই অবস্থায় অডিও বাজারের প্রশ্নবিদ্ধ সময়ে সবাই শিল্পীদের সম্মিলিত আন্দোলনের কার্যকারিতা দেখারই অপেক্ষায় রয়েছেন।
