করাচিতে আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা নওয়াজের

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৪৯
সন্ত্রাস কবলিত করাচিতে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। আইন-শৃংখলা সম্পর্কিত করাচিতে এক বিশেষ বৈঠকে শরীফ সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণায়ের এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় পুলিশ, সামরিক ও বেসামরিক গোয়েন্দাদের সহযোগিতায় পাকিস্তান রেঞ্জারস প্যারামিলিটারি কাজ করবে।— খবর বিবিসি ও ডন ডটকমের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলি বলেন, সংঘবদ্ধ অপরাধীদের সাথে সম্পৃক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার ও সরিয়ে দেয়া হবে। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদ রেঞ্জারসদের তালিকাভুক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে দুই দিনের মধ্যে অভিযান শুরু করার অনুমোদন দেয়। এদিকে বৃহস্পতিবার করাচির মাওরিপুরে ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের সদস্যদের গুলিতে সন্দেহভাজন তিন জঙ্গি নিহত হয়েছে। নওয়াজ শরীফ বলেন, তিনি করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জারস প্যারামিলিটারি মোতায়েন করবেন। গত কয়েক বছরে করাচিতে সংগঠিত অপরাধী ও জঙ্গিদের হানাহানিতে কয়েক হাজার মানুষ মারা গেছে। পাকিস্তানের অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই শহরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন বেড়েই চলেছে। গত বুধবার করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামের কাছে আততায়ীর গুলিতে নৌ-বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্ত্রীসহ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী কোন চিরুনি অভিযান চালায়নি। এদিকে যে আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘনের গুরুতর কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। গুলিতে নিহত নৌ-বাহিনীর কর্মকর্তার নাম মুহাম্মাদ নাদিম। উল্লেখ্য, করাচিতে সম্প্রতি একের পর এক নৌ-বাহিনীর কর্মকর্তারা হামলার শিকার হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত অপরাধীদের মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার তদারকির জন্য আইন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিবিসির শাহজেব জিলানি বলেন, করাচির বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাস করেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত তবে তাদের বেশিরভাগেরই ধারণা শক্তিশালী জঙ্গিদের দমন করতে পারবেন না নওয়াজ শরীফ।