মিসরীয় সভ্যতা উদ্ভবের নতুন সময়সীমা

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৫০
প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতা উদ্ভবের একটি নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা। তেজস্ক্রিয় কার্বন ডেটিং পদ্ধতি ও কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে তারা নতুন এ সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের রয়েল সোসাইটির প্রকাশনা ‘প্রসেডিংস’ এ গবেষণা ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি অনলাইন। আগের হিসেবে নীল উপত্যকায় মানুষের বসবাস ও চাষাবাদ শুরুর সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ৪ হাজার বছর, নতুন হিসেবে এটি কিছুটা কমে খ্রিস্টপূর্ব ৩৬শ’ বছর থেকে ৩৭শ’ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। নীল উপত্যকা, বিচ্ছিন্ন কৃষকদের একটি অঞ্চল থেকে রাজা শাসিত একটি রাজ্যে পরিণত হতে, পূর্বে যা ধারণা করা হয়েছিল তার চেয়ে কম সময় লেগেছিল বলেও বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার ঊষালগ্নের প্রথম শাসক রাজা আহা প্রায় ৩১শ’ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ক্ষমতায় এসেছিলেন বলে ধারণা করছেন তারা। গবেষণাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব গবেষণাগারের গবেষক ড. মাইকেল ডি। তিনি বলেন, “প্রাচীন বিশ্বে মিশরের উত্থান একটি অনন্য ঘটনা। এটি একটি আঞ্চলিক রাজ্য; এটি অনেকটা আমাদের আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের মতো বিষয়। সেই প্রাচীন আমলেও এই রাজ্যের সীমানা চিহ্নিত ছিল।” এই গবেষণার আগ পর্যন্ত প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার প্রথম দিকের ক্রমপঞ্জী বিভিন্ন প্রাচীন কবর থেকে উদ্ধার করা তৈজষপত্রের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই সময়ের লিখিত কোনো নথি না থাকায় এসবের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। কিন্তু সামপ্রতিক এই গবেষণায় প্রাচীন কবর থেকে উদ্ধার করা মানুষের চুল, হাড় ও কাঠের টুকরার বয়স তেজস্ক্রিয় কার্বন ডেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে নির্ধারণ করা হয়েছে।