সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরী বর্তমান সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে মুখোমুখি বিতর্কের জন্য আগামীকাল শনিবার সময় দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার নিজ বাসভবনে গণমাধ্যমের সাথে এক মত বিনিময় সভায় এমন প্রস্তাব দিলেন সাবের হোসেন চৌধুরী। তিনি অবশ্য বিসিবির অ্যাডহক কমিটির অধীনে আসন্ন নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ হবে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
বিসিবি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার দলীয় এই দুই সংসদ সদস্য বেশ কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ করে আসছেন। উন্মুক্ত বিতর্কের প্রস্তাব অবশ্য আগেই দিয়েছিলেন বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবের চৌধুরী। গত সোমবার তার এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে বর্তমান সভাপতি জানান যে তিনি যেকোন সময় যে কোন স্থানে বিতর্কে মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
নাজমুল হাসান পাপন নির্দিষ্ট করে কোন সময় বা স্থানের কথা না বললেও সাবের হোসেন চৌধুরী কাল জানালেন তিনি খুব তাড়াতাড়িই বর্তমান বোর্ড সভাপতির সাথে বসতে চান, এমনকি সেটা আগামীকাল শনিবারও হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আগামী সাত সেপ্টেম্বর, শনিবার আমি পাপন সাহেবের সাাথে উন্মুক্ত আলোচনায় বসতে চাই।’ সাবের চৌধুরীর কাছ থেকে নির্দিষ্ট একটি সময় মিললেও আদৌ এ বিতর্ক হবে কিনা সেটা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। এ ব্যাপারে বর্তমান সভাপতির মনোভাব জানা যায়নি। তবে একদিনের মধ্যে যে বিতর্ক আয়োজন কতটা সম্ভব সে নিয়ে সংশয় আছে।
সাবেক সভাপতি অবশ্য আশা করছেন দ্রুতই পাপনের কাছ থেকে সময় পাওয়া যাবে, ‘পাপন সাহেব বলেছেন তিনি যেকোন সময় যেকোন জায়গায় বসতে প্রস্তুত। কিন্তু নির্দিষ্ট করে কোন তারিখ ও স্থান উল্লেখ করেননি। আমি আশা করবো তার কাছ থেকে একটা নির্দিষ্ট তারিখ পাওয়া যাবে। যত দ্রুত সম্ভব আমরা কাজটা শেষ করতে চাই। উনি কথা দিয়েছেন বসবেন; আশা করছি সেই কথা উনি রাখবেন।’
এ প্রসঙ্গে সাবের চৌধুরী জানান কিভাবে এই আলোচনা হতে পারে সে ব্যাপারে তাকে অনেক জায়গা থেকেই বিভিন্ন প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) দেয়া প্রস্তাব তার পছন্দ হয়েছে। সেক্ষেত্রে কোন অডিটোরিয়ামে বা স্থানীয় কোন হোটেলে আয়োজিত হতে পারে এই বিতর্ক। আর তা সরাসরি সম্প্রচারের সুযোগ পাবে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। উপস্থিত থাকবেন গণমাধ্যম কর্মীরা।
এদিকে অ্যাডহক কমিটির অধীনে নির্বাচন হলে তাতে কতটা স্বচ্ছতা থাকবে এ নিয়ে আবারো প্রশ্ন তুলেন সাবের চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে যাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নাই শুধু তাদেরকেই নিয়োগ দিতে হবে। সর্বশেষ আমাদের এখানে হকি ফেডারেশনের যে নির্বাচন হল তাতে অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা সবাই পদত্যাগ করার পর নির্বাচন হয়েছে। ক্রিকেটেও এমনটা হওয়া উচিত।’
বিসিবি’র পক্ষ থেকে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কাউন্সিলরদের নাম চেয়ে জেলা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাছে কোন চিঠি পাঠায়নি বিসিবি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কাউন্সিলরদের নাম চেয়ে জেলা ও বিভাগগুলোর কাছে বিজ্ঞপ্তি পৌঁছানোর কথা থাকলেও কবে নাগাদ তা পাঠানো হবে সেই ব্যাপারে বিসিবি’র পক্ষ থেকে এখনও কিছু বলা হয়নি। পাপন সাহেব কয়েকদিন আগে বলেছিলেন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি পৌঁছে যাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা সেই কথার বাস্তবায়ন দেখছি না।’
