দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং রোমারিও দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (কনমেবল) বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। দুজনের অভিযোগ এ অঞ্চলে খেলাটি যে সম্পদ জুগিয়েছে তা সবার মধ্যে বন্টনে ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি।
আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ম্যারাডোনা এবং ব্রাজিলের সাবেক স্ট্রাইকার ও বর্তমানে সেদেশের কংগ্রেস সদস্য রোমারিও দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলের ফুটবল প্রশাসকদের সমালোচক। উভয়েই বর্তমানে যেভাবে ফুটবল প্রশাসন পরিচালিত হচ্ছে তাতে পরিবর্তন আনার দাবিতে ইতোমধ্যে দক্ষিণ আমেরিকার ২০টি ফুটবল ক্লাব এবং উরুগুয়ের একদল আইনজীবীর সাথে বৈঠক করেছেন। গত বুধবার রাতে সাও পাওলোয় বৈঠকের পর ম্যারাডোনা সাংবাদিকদের বলেন, ‘অবাকচিত্তে এবং অত্যন্ত দুঃখের সাথে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, ফুটবল শুধুমাত্র গুটিকয়েক মানুষের জন্য। এটা ক্লাব, সমর্থক কিংবা খেলোয়াড়দের জন্য নয়। এ কারণেই আমরা এই লোকগুলোর মুখোশ উম্মোচনের জন্য একটি কমিশন গঠন করতে যাচ্ছি। এটা খুবই গুরুতর বিষয়। কিন্তু আমরা যারা এই লোকগুলোকে ভয় পাই না তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমরা এখানে সমবেত হয়েছি যাতে ফুটবলে আরো স্বচ্ছতা আনতে পারি।’ রোমারিও প্রায়ই ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) সমালোচনা করে থাকেন। এখন তিনি মনে করছেন কনমেবলের অবস্থা সিবিএফের চাইতেও খারাপ। সাবেক এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার বলেন, ‘আমরা যতটা ধারণা করেছিলাম, পরিস্থিতি সত্যি তার চাইতেও খারাপ। এখানে যা উপস্থাপন করা হলো তা আমার দেখা সবচাইতে বেশি অবমাননাকর পরিস্থিতি। আমি চিন্তাই করতে পারিনি ফুটবলের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো সংগঠন খেলাটির এতোটা ক্ষতি করতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের আরো বেশি মানুষকে একত্রিত করতে হবে। কনমেবলের বিপক্ষে এ লড়াইয়ে ক্লাবগুলো, সাবেকদের পাশাপাশি বর্তমানে যারা খেলছেন তাদের সামিল হতে হবে। এটা হলো ফুটবলের স্বচ্ছতা এবং মর্যাদা ফেরানোর এক আন্দোলন। আমরা যে কমিশন গড়তে যাচ্ছি তার মাধ্যমে আমরা দেখবো এসব অর্থ কোথায় গেছে।’
খারাপ স্বাস্থ্যের অযুহাত দিয়ে এর আগে গেল এপ্রিলে ফিফার সাবেক সদস্য নিকোলাস লিওজ ৮৪ বছর বয়সে কনমেবলের সভাপতির পদ ছেড়ে দেন। এর ঠিক এক সপ্তাহ পর ফিফার এথিকস কমিশন জানায়, লিওজ ২০০১ সালে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া ফিফার সাবেক বিপণন সহযোগী আইএসএলের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছিলেন। লিওজের স্থলাভিষিক্ত হন তার সহ-সভাপতি উরুগুয়ের ৮১ বছয় বয়স্ক ইউজিনিও ফিগুয়িরেডো। কনমেবলের মুখপাত্র নেস্টর বেনিতেজ এই অভিযোগের ব্যাপারে জানিয়েছেন তার কোন মন্তব্য নেই। প্যারাগুয়েতে অবস্থিত কনমেবলের কার্যালয়ে তিনি একটি বার্তা সংস্থাকে বলেন, ‘প্রত্যেকেরই নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। ফুটবল সদয় বিষয় এবং এখানে সবাই স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করতে পারে।’
