স্বদেশী ডেভিড ফেরার না পারলেও সহজ জয়ে ইউএস ওপেনের শেষ চারে পা রেখেছেন স্পেনের রাফায়েল নাদাল। ‘অল স্প্যানিশ’ কোয়ার্টার ফাইনালটিকে প্রায় একপেশে বানিয়ে দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় বাছাই এই তারকা ৬-০, ৬-২, ৬-২ গেমে উড়িয়ে দেন টমি রব্রোডোকে। অন্যদিকে ড্যানিয়েলা হান্তুকোভাকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা।
শেষ ষোলোতে রজার ফেদেরারকে হারিয়ে অঘটনের জন্ম দেয়া রব্রোডো এদিন দাঁড়াতেই পারেননি নাদালের বিরুদ্ধে। আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে পরিপূর্ণ দশক গ্যালারির সামনে মাত্র এক ঘণ্টা ৪০ মিনিটের লড়াইয়েই জয় তুলে নেন নাদাল। দুর্দান্ত এক সার্ভে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে ম্যাচ শুরু করা নাদাল প্রথম সেটটি জিতে নেন কোন গেম না খুইয়েই। দ্বিতীয় ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ম্যাচের প্রথম পয়েন্টটি জেতেন রব্রোডো। যদিও, এই পয়েন্টটি কোন কাজেই আসেনি এই ৩১ বছর বয়সীর জন্য। ৬-২ গেমে এই সেটটি জেতার পর, একই ব্যবধানে শেষ সেটেও জয় পায় নাদাল।
পুরো ম্যাচে মাত্র ১৫টি আনফোর্সড এরর করা নাদাল স্বভাবতই তার পারফরম্যান্সে ছিলেন দারুণ সন্তুষ্ট। এটাকেই টুর্নামেন্টে নিজের সেরা ম্যাচ আখ্যায়িত করে ফ্রেঞ্চ ওপেন চ্যাম্পিয়ন বলেন, ‘আমার মনে হয় আজকের ম্যাচেই আমি ইউএস ওপেনে আমার সেরা খেলাটা খেলেছি। প্রতিদিনই একটু একটু উন্নতি করাটা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ। এখন আমি সেমিফাইনালে এবং নিজের অবস্থানে আমি দারুণ সন্তুষ্ট।’
তবে নাদাল পারলেও, সেমির টিকিট পাননি তারই র্যাঙ্কিংয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা ফেরার। গ্যাসকুয়েটের সাথে পাঁচ সেটের এক ম্যাচে ৩ ঘণ্টা ২৩ মিনিটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে হার মানেন তিনি। ম্যাচের ফল ছিল ৩-৬, ১-৬, ৬-৪, ৬-২ ও ৩-৬। প্রথমবারের মতো ইউএস ওপেনের সেমিতে উঠা গ্যাসকুয়েটের আনন্দ যেন আর বাঁধ মানছিল না। সেমিফাইনাল প্রতিপক্ষ নাদাল সম্পর্কে বলতে গিয়ে এই ফরাসি বলেন, ‘আমি সর্বপ্রথম নাদালকে হারিয়েছিলাম অনূর্ধ্ব-১৩ জুনিয়র টুর্নামেন্টে। যা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ফ্রান্সে। নাদালের সাথে আমার খুবই ভালো সম্পর্ক। তাই তার সাথে খেলার সুযোগ পাওয়াটা খুবই বড় বিষয়। আশা করছি ম্যাচটি ভালো জমবে।’
পুরনো বন্ধুত্বের কথা স্বীকার করলেন নাদালও। গ্যাসকুয়েটের সাথে সেই ম্যাচটির স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় তৃতীয় সেটে আমি ৬-৪ গেমে হেরেছিলাম। ওটা ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমার একবারে শুরুর দিকের একটি টুর্নামেন্ট। রিচার্ড ছিল দুর্দান্ত। সে মানুষ হিসেবেও দারুণ এবং আমরা ভালো বন্ধুও বটে। আমরা শৈশবে প্রায় একসাথেই শুরু করেছিলাম। ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে তার দেখা পাওয়াটা আসলেই আনন্দের।’
এদিকে তিন ৩১ বছর বয়সীর মাঝে শেষ চারে জায়গা করে নিতে মোটেই বেগ পেতে হয়নি দ্বিতীয় বাছাই আজারেঙ্কার। স্লোভাকিয়ান প্রতিপক্ষ হান্তুকোভাকে তিনি এদিন উড়িয়ে দিয়েছেন ৬-২, ৬-৩ গেমে। ফাইনালে পৌঁছার লড়াইয়ে ২৪ বছর বয়সী এই বেলারুশিয়ান আজ মুখোমুখি হবেন অবাছাই ফ্ল্যাভিয়া পানেত্তার। অন্য সেমিফাইনালে লড়বেন সেরেনা উইলিয়ামস এবং লি না।
