সিরিয়ায় হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রকে খেসারত দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতু্ল্লাহ আলী খামেনি। এদিকে ইরানের অভিজাত বাহিনী কুদস ফোর্স ইউনিটের প্রধান কাসেম সোলাইমানি সিরিয়াকে ‘শেষ পর্যন্ত’ সমর্থন করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতু্ল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, সিরিয়া আক্রমণ করলে যুক্তরাষ্ট্রকে খেসারত দিতে হবে। পশ্চিমা শক্তি সিরিয়ায় হামলার জন্য রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারের বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে গ্রহণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার ইরানের একটি বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যদের সাথে আলোচনার সময় এসব কথা বলেন তিনি। সিরিয়ার বিরুদ্ধে রাসায়ানিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগটি নাকচ করে দিয়ে খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ব্যাপারে ভুল করেছে এবং নিশ্চিতভাবেই এই ভুলের খেসারত দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, ইরাক ও আফগানিস্তানে হামলা চালানোর ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে যেভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে সিরিয়ায় হামলা চালালেও একই ধরনের মূল্য দিতে হবে। মানবিক কারণে সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে চায় বলে মার্কিন সরকার যে দাবিকে কথার ফুলঝুরি বা ‘বাগাড়ম্বর’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার মুখেও সিরিয়ার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন ইরানের অভিজাত বাহিনী কুদস ফোর্স ইউনিটের প্রধান কাসেম সোলাইমানি। খামেনির সাথে সাক্ষাত্ করা ঐ বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যদের সাথেই বৃহস্পতিবার আলাদা এক আলোচনায় সোলাই-মানি সিরিয়াকে ‘শেষ পর্যন্ত’ সমর্থন করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ইরানের ঐ সামরিক নেতা আরো বলেন, মানবাধিকার রক্ষা করা যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য নয়, এর লক্ষ্য হলো প্রতিরোধের ক্ষেত্র ধ্বংস করা।
প্রসঙ্গত, ইরান সিরিয়ার প্রধান আঞ্চলিক মিত্র। সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার মুখে ইরান পশ্চিমা শক্তিকে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ না করার জন্য বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে। অনেক বিশ্লেষক বিশ্বাস করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া আক্রমণের একটি বিস্তৃৃত লক্ষ্য হলো তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব কমানো এবং মার্কিন মিত্র ইসরাইলের প্রতি যেকোনো হুমকি হ্রাস করা।
