বিজ্ঞানের এই যুগে টেকনোলজি শিশুদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। ২০/৩০ বছর আগে শিশুরা যেখানে স্কুল থেকে ফিরে দুপুরে গোসল আহার সেরে ঘুমাতো, বিকালে খেলতে যেতো তা এখন শুধুই কল্পনা। অন্তত শহরের শিশুদের ক্ষেত্রেতো বটেই। কিন্তু কম্পিউটার,টিভি, সেলফোন, নানা ধরনের গেমস শিশুদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে টরেন্টোর হসপিটাল ফর চিক চিলড্রেনের বিশেষজ্ঞ ডা: ইন্দ্রা নারাং বলেছেন, ৬০ ভাগ শিশু এখন তাদের শোবার ঘরে সেলফোন রাখে। শিশুদের যেখানে দৈনিক অন্তত ৯ ঘণ্টা ঘুমানো দরকার সেখানে তারা ৭ ঘণ্টার বেশি ঘুমায় না। ডা: নারাং উল্লেখ করেছেন যে শিশুদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে অথবা কম ঘুমায় তাদের আচরণে সমস্যা ও লেখাপড়ার ক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটে এবং তারা স্কুলেও পিছিয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, যে শিশুরা ঘুমের সমস্যা নিয়ে বেড়ে ওঠে তাদের পরবর্তীতে উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল ও শরীরে বাড়তি মেদ জমতে পারে। তাই শিশুদের ভালো ঘুমের জন্য স্লিপ ডিজঅর্ডার গবেষক ডা: নারাং ৫টি উপদেশ দিয়েছেন। আর তা হচ্ছে:
পিতা-মাতা-অভিভাবকদের দায়িত্ব শিশুদের ঘুমানোর আগে শিশুরা যাতে টিভি দেখা, কম্পিউটার গেম খেলা ও সেলফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকে। শিশুদের একটা নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠানোর অভ্যাস করতে হবে। শিশুর শোবার ঘরে রাতে যাতে সেলফোন না থাকে এবং লাইট যেন নিভানো থাকে তা দেখতে হবে। ঘরের পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত রাখতে হবে এবং পিতা-মাতারা যেন শিশুর সামনে বিবাদ না করেন তা দেখতে হবে। শোবার ঘরে উজ্জ্বল আলো ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে। তবে হালকা আলোর বাতি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ডা: নারাং সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তা হচ্ছে যে কোন বয়সের ছেলে-মেয়েদের জন্য যেন ঘুমানোর এবং ঘুম থেকে উঠার একটা নির্দিষ্ট রুটিন করে দেয়া হয় এবং তা যেন তারা অনুসরণ করে।
লেখক : চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ
