গার্দিওলাকে ‘কাপুরুষ’ বললেন ইব্রাহিমোভিচ

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৫৫
প্যারিস সেইন্ট-জার্মানের স্ট্রাইকার জাটান ইব্রাহিমোভিচ তার সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলাকে ‘মেরুদন্ডহীন কাপুরুষ’ বলে মন্তব্য করেছেন। এই জুটি ২০০৯-১০ মৌসুমে ন্যুক্যাম্পে একত্রে কাজ করেছিলেন। এরপর গার্দিওলার সাথে সম্পর্কের অবনতির কারণে ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলানে চলে আসেন সুইডেন জাতীয় দলের এই স্ট্রাইকার। গার্দিওলা বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখের কোচ হিসেবে কাজ করছেন। ইব্রাহিমোভিচ তার আত্মজীবনী ‘আই অ্যাম জাটান ইব্রাহিমোভিচ’ এ দু’জনের সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন। বইটিতে তিনি ইন্টারমিলানে তার কোচ হোসে মরিনহোর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এছাড়াও জানান যে, তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার কথা ভেবেছিলেন। অবশ্য ইব্রাহিমোভিচের বইয়ে এসবকে ছাড়িয়ে গেছে ভিলারিয়ালে দলের ৪-১ গোলের জেতা ম্যাচটিতে ড্রেসিং রুমে কি ঘটেছিল তা বিধৃত করার মাধ্যমে। ওই খেলায় তাকে কেবল শেষ পাঁচ মিনিটের জন্য মাঠে নামানো হয়েছিল। সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ৩১ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘ভেতরে ভেতরে আমি উত্তেজিত ছিলাম। কারণ এই নয় যে আমি বেঞ্চে বসেছিলাম। আমি সেটা মানতে পারতাম যদি ম্যানেজার আমাকে বলতেন, ‘তুমি যথেষ্ট ভাল করছো না জাটান। তুমি খেলার জন্য উপযুক্ত নও।’ কিন্তু গার্দিওলা কোনো কথাই বলেনি, এমনকী টুশব্দটিও না। এটা আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আমি পরিস্থিতি আমার পুরো শরীর দিয়ে উপলব্ধি করতে পারছিলাম এবং গার্দিওলার জায়গায় থাকলে আমিও ভীত থাকতাম।’ তিনি আরো বলেন, ‘ম্যাচ শেষে আমাদের জিনিসপত্র রাখার জন্য একটি ধাতব বাক্স ছিল। আমি সেটির দিকে তাকাচ্ছিলাম। এরপর আমি ওই বাক্সে একটি লাথি দেই। আমার মনে হয় এটা উড়ে প্রায় তিন মিটার দূরে গিয়ে পড়েছিল। কিন্তু তখনও আমি শেষ করিনি। এরপর আরো জোরে একটি লাথি দিই। আমি এটা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছিলাম। এসময় আমি মনে করেছিলাম প্রতিউত্তরে গার্দিওলা কিছু একটা বলবেন। কিন্তু তিনি একজন মেরুদন্ডহীন কাপুরুষ। গার্দিওয়া একজন সাধারণ কেয়ারটেকারের মতো শুধুমাত্র ওই ধাতব বাক্সটি তুলে নিলেন।’ ইব্রাহিমোভিচ ক্লাব হিসেবে বার্সেলোনার সমালোচনা করে বলেন, ‘এটা স্কুলে ফিরে যাওয়ার মতো। এর মধ্যেই বার্সেলোনা সম্পর্কে আমার ধারণা হয়ে গিয়েছিল যে এটা অ্যাজাক্সে, স্কুল জীবনে ফিরে যাওয়ার মতো। সেখানকার কেউই সুপারস্টারের মতো আচরণ করেনি। লিওনেল মেসি, জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা— পুরো দলের সবাই ছিল স্কুল বালকের মতো। বিশ্বসেরা ফুটবলাররা মাথানত করেছিল। এর কিছুই আমি বুঝিনি এবং এটা ছিল আশ্চর্যজনক। তাদেরকে যা বলে দেয়া হয়েছিল সবাই তাই-ই করেছিল। আমি সেখানে মোটেও মানিয়ে নিতে পারিনি। তাদের পছন্দ-অপছন্দের দিকে না তাকিয়ে আমি পাওয়া সুযোগটাকে উপভোগ করতে চাইছিলাম। সুতরাং আমি মানিয়ে নিতে শুরু করেছিলাম এবং সবার সাথে মিশে যাচ্ছিলাম। পুরো ব্যাপারটাই ছিল মানসিক।’ ফ্রান্সের ক্লাবটির সাথে ইব্রাহিমোভিচের বর্তমান চুক্তি শেষ হবে ২০১৫ সালে।