নতুন-ব্রাদার্সের দায়িত্বে তামিম ইকবাল

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৪১
ব্রাদার্স ইউনিয়নের সঙ্গে চট্টগ্রামের খান পরিবারের সম্পর্কটা আজকের নয়। এই পরিবারের সিনিয়র দুই টেস্ট ক্রিকেটার আকরাম খান ও নাফিস ইকবাল ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে খেলেছেন; নাফিস এখনও খেলছেন। চট্টগ্রাম ব্রাদার্স ইউনিয়নের সঙ্গে নানাভাবেই জড়িত পরিবারটির খেলোয়াড়রা। এবার ঢাকা ব্রাদার্স ইউনিয়ন তার নতুন যাত্রাটা শুরু করল সেই খান পরিবারের এখনকার সবচেয়ে বড় তারকাকে সঙ্গে নিয়েই। গতকাল অনুষ্ঠান করে গোপীবাগের ক্লাবটি জানিয়ে দিল—তামিম ইকবালের অধিনায়কত্বে নতুন চেহারায় এবার মাঠে নামছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। নামেও লাগছে নতুন ছোঁয়া—ব্রাদার্স ইউনিয়ন লিমিটেড! ‘প্লেয়ার বাই চয়েস’ পদ্ধতিতে হয়ে যাওয়া প্রিমিয়ার লিগের দলবদলে ব্রাদার্স ইউনিয়ন স্থানীয় ক্রিকেটারদের বেশ ঈর্ষণীয় সংগ্রহই করেছে। গতকাল নিজেদের ক্লাবভবনে সেই তারকাদের নিয়েই দল পরিচিতি ও লিমিটেড প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা করার অনুষ্ঠান করে ফেললো তারা। দল পরিচিতির পরই জানিয়ে দেওয়া হল ১০ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া মৌসুমে দলের অধিনায়কত্ব করবেন জাতীয় দলের তারকা ওপেনার তামিম ইকবাল। তামিম নিজেও স্বীকার করলেন, আগের মতো করে দলবদল হলে ব্রাদার্স ইউনিয়ন হয়তো তার প্রথম পছন্দ হত না; সেই জায়গাটা নিত হয়তো গাজী ট্যাংক। এই সরল স্বীকারোক্তি করা তামিমই আবার নিশ্চিত করলেন যে, ব্রাদার্স ইউনিয়নও আসলে তার পছন্দের তালিকাতেই ছিল। অন্তত পারিবারিক বন্ধন আর নিজের অতীতের কারণেই এই ক্লাবের সঙ্গে একটা সম্পর্ক আগে থেকেই তিনি টের পান, ‘ঢাকার ব্রাদার্সে আমি হয়তো নতুন। কিন্তু ব্রাদার্সের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আজকের নয়। এই ক্লাবের হয়েই (চট্টগ্রাম ব্রাদার্স) আমি আমার ক্যারিয়ার শুরু করেছি। আমার বড় ভাইয়া ও আমি সেখানে একসঙ্গে খেলেছি। আবার ঢাকায় ভাইয়া, চাচা এই ব্রাদার্সের হয়ে খেলেছেন। ফলে ব্রাদার্সে কোনো না কোনো সময় খেলার ইচ্ছা আমার ছিলই।’ সে ক্ষেত্রে একটা ব্যাপার অন্তত বলা যায়, অপছন্দের ‘প্লেয়ার বাই চয়েস’ পদ্ধতিতে ঠিকানা ব্রাদার্স হলেও ক্লাবের প্রতি তামিমের মনের টান অন্তত কম থাকবে না। সেটা প্রমাণ করতেই যেন দল নিয়ে নিজের চিন্তাভাবনার কথাও বলে দিলেন তামিম। স্বভাবতই তিনি নিজের দলকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখতে চান। তবে অন্য বড় দলগুলোর সঙ্গে এই চাওয়ার জায়গাটায় একটা পার্থক্য আছে তামিমদের, ‘আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই। আমিও কোনো চাপ নিচ্ছি না। আমরা মাঠে নিজেদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে চাই। তারপর ফল কী আসবে, সেটা সময় বলবে। তবে আমাদের স্থানীয় খেলোয়াড় ভালো হয়েছে, বিদেশী খেলোয়াড়ও কর্তৃপক্ষ ভালো আনারই চেষ্টা করছেন, তাই ভালো ফলই আশা করবো আমরা।’ এই বিদেশী খেলোয়াড় প্রসঙ্গে অবশ্য ব্রাদার্সের কিছু নতুন খবরও জানা গেল। প্রথমত যে যুবরাজ সিং আসার গুঞ্জন ছিল দলটিতে, তিনি আসছেন না, এটা অনেকটাই নিশ্চিত। তবে তামিম ও ক্লাবের কর্মকর্তারা জানালেন শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জোলো ম্যাথুস, সেনানায়েকে ও পাকিস্তানের ‘ইংলিশ ক্রিকেটার’ আজাহার মাহমুদের আসা একরকম নিশ্চিত। আর এদের সঙ্গে কাল অনুষ্ঠানে হাজির থাকা সোহরাওয়ার্দী শুভ, নাফিস ইকবাল, মেহরাব জুনিয়র, তারেক আজিজ, অলক কাপালিরা তো থাকছেনই। ফলে তামিম যতোই বলুন, চাই নেই; ব্রাদার্স গৌরব ফেরানোর একটা চাপ তো টের পাওয়াই যাচ্ছে!