হজ্ব সংক্রান্ত যাবতীয় দো’আ

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫২
হজ্বে নিয়ত করে ইহরাম বাঁধার পর যে দো’আ পড়তে হয়—“আল্লাহুম্মা উরিদুল হাজ্জা ফাইমাস সারহুলী ওয়া তাকাব্বাল্লাহু মিন্নি”। অর্থ- হে আল্লাহ্, আমি হজ্বের নিয়ত করেছি, আপনি তা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং কবুল করুন। ওমরার নিয়ত করার সময় যে দোয়া পড়তে হয়- “আল্লাহুম্মা উরিদুল ওমরাতা ফাইমাস সারহুলী ওয়া তাকাব্বাল্লাহু মিন্নি”। অর্থ- হে আল্লাহ্, আমি ওমরার নিয়ত করেছি, আপনি তা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং কবুল করুন। নিয়ত করার পর তালবিয়া পড়তে হবে। তালবিয়ার বাক্যগুলো হলো— লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বায়েকা লা-শারিকা লাকা লাব্বায়েকা ইন্নাল হামদা ওয়াননিয়মাতা লাকা ওয়াল মূলক লা-শারিকালাকা। অর্থ- আমি হাজির আল্লাহ্ আমি হাজির, নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা এবং নেয়ামত আপনারই এবং সমস্ত বিশ্ব আপনারই, আপনার কোনো শরীক নাই। এই দো’আটি তিনবার পড়তে হয়, অতপর দরুদ পড়ে নিম্নের দো’আটি পড়তে হয়। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিদাকাল জান্নাতা ওয়া আউজুবি রাহমাতাকা মিনান্নার। অর্থ- হে আল্লাহ্। আমি আপনার কাছে আপনার সন্তুষ্টি ও জান্নাত চাই এবং আপনার রহমতের মাধ্যমে দোজখের শাস্তি থেকে মুক্তি চাই। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় যে দো’আ বলতে হয়— বিসমিল্লাহে তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। অর্থ- আল্লাহ্র নামে তারই ওপর নির্ভরশীল হয়ে বের হচ্ছি, তাঁর সাহায্য ছাড়া কোন সত্কাজ সমাধান হয় না এবং অসত্কাজ থেকেও বিরত থাকা যায় না। মক্কার উপকণ্ঠে প্রথম পৌঁছে যে দো’আ পড়তে হয়— আল্লাহুম্মা ইন্নি আসয়ালুকা খায়রা হাযিহিল কারইয়াতি ওয়াখায়রা মা ফিহা ওয়া আউজুবিকা শারবিহা ওয়া শাররী মা ফিহা। অর্থ- হে আল্লাহ্। আমি তোমার নিকট এই শহরের ও এর অভ্যান্তরিন সকল জিনিসের মঙ্গল কামনা করছি এবং এর অভ্যান্তরিন সকল অকল্যান থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। মক্কার হারাম শরীফে প্রবেশেরকালে পড়তে হয়— “আল্লাহুম্মা কামা আমনুকা ওয়া হারামুকা ওয়ামান দাখালাহু কানা আমেনু। ফাহাররিম লাহমি ওয়াদামী ওয়া আযামী ওয়া বাসারী আলান্নার”। অর্থ- হে আল্লাহ্। ইহা তোমার সু-রক্ষিত পবিত্র স্থান। এখানে যে প্রবেশ করে, সেই তোমার নিরাপত্তা পায়। সুতরাং আমার অস্তি, চর্ম, রক্ত ও মাংসকে দোজখের আগুন থেকে রক্ষা করো। তাওয়াফের সময় যে দো’আ পড়তে হয়— “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার, লাইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, আসসালাতু আসসালামু আলা রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অর্থ- আল্লাহ্র নামে শুরু করছি এবং আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ্ ছাড়া কোন প্রভূ নেই, এবং তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ, অবারিত ধারায় আল্লাহ্র রহমত ও শান্তি বর্ষিত হউক, রসূল পাক (স.)-এর ওপরে ও তাঁর আওলাদগণের ওপরেও। এ ছাড়া প্রত্যেক চক্করে পড়তে হয়—সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কু-আতা ইল্লাবিল্লাহিল আলিয়্যীল আযীম। ওমাসসালাতু ওয়াসসালামু আলা রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লেম। অর্থ- আল্লাহ্ পাক পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র। আল্লাহ্ ছাড়া কোন মাবুব নাই, আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ঠ। মহামহিম আল্লাহ্র অনুগ্রহ ছাড়া মানুষের ভালো কাজ করার শক্তি নাই, এবং মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকারও কোনো উপায় নাই। অবারিত শান্তি ও করুনার ধারা প্রবাহিত হউক আল্লাহ্র হাবিবের প্রতি ও তাঁর আওলাদগনের প্রতি। মাকামে ইব্রাহীমে গিয়ে যে দো’আ পড়তে হয়— আল্লাহুম্মা ইন্নাকা তায়ালামু সিররি ওয়ান্নিয়াত ফাআকবিল মা যিরাতি ওয়া তায়ালামু মা ফি নাফসী ফাগ ফিররী যুনুরী। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ঈমানাও ওয়া হউবাশশিরু কাবলী ওয়া একিনান শাদিকান হাত্তা আলামা আল্লাহু লা হউশিবুনি ইল্লামা কাতাবতালী ওয়াবিমা আসালিনকা বিমা কাসাসামতালী আনতা ওয়ালিয়্যী ফিদ্দুনিয়া ওয়াল আখেরা তাওয়াক্কানী মুসলিমান ওয়াল হিকনী বিসসালেহীন। অর্থ- হে আল্লাহ্, তুমি আমার গোপন ও প্রকাশ্য সবই জানো। সুতরাং আমার অনুশোচনার প্রতি সদয় হও। তুমি আমার প্রয়োজন সম্বন্ধে সম্মক অবগত। সুতরাং আমার আবেদন কবুল কর। তুমি আমার অন্তরের কথা জানো। সুতরাং আমার গুনাসমূহ মাফ কর। হে প্রভূ আমি তোমার কাছে এমন ঈমান চাই, যা আমার অন্তরে ঠাঁই পাবে, যাতে আমার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে। আমার জন্য যা তুমি নির্ধারিত কর তাই প্রাপ্য। যমযম কুপের পানি পান করার সময় যে দো’আ পড়তে হয়—আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিয়ান ওয়া রিযকান ওয়াসিয়ান ওয়া সিফায়াম মিন কুল্লি দায়ীন। অর্থ- হে আল্লাহ্ আমি তোমার নিকট সঠিক জ্ঞান, সম্মান জনক জিবীকা এবং সকল রোগের নিরাময় কামনা করছি। সায়ীর সময় যে দো’আ পড়তে হয়— ইন্নাসসাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শা-আ ইরিল্লাহি ফামান হাজ্জাল বায়তা আবি আমারা ফালা জুনাহা আলাইহি আইয়াত তাওয়াকা বিহিমা, ওয়ামান আতাওয়া বিহিমা, ওয়ামান আতাওয়া খাইরান, ফাইন্নাল্লাহা শাকীরুন আলীম। অর্থ- নিশ্চয়ই শাফা ও মারওয়া আল্লাহ্র নিদর্শন সমূহের অন্তর্ভূক্ত। সুতরাং যে ব্যাক্তি বায়তুল্যায় হজ্ব কিংবা ওমরাহ করবে এ দু’টি তাওয়াফে তার জন্য দোষ নেই। কেউ স্বেচ্ছায় ভালো কাজ করলে নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পুরষ্কারদাতা ও সর্বজ্ঞ। মদীনা শরীফে প্রবেশের দো’আ— বিসমিল্লাহি মাশাআল্লাহ্ লাহাওলা ওয়ালা কু আতা ইল্লাহ্ বিল্লাহ্। রাব্বি আদখিলনী মুদখালা সিদকীন ওয়া আখরিজনী মূখ রাজা সিদকীন, আল্লাহুম্মাফ তাহলী আব ওয়াবা রাহমাতিকা। অর্থ- আল্লাহ্র নামে (এ শহরে) পবেশ করেছি- তা আল্লাহ্র ইচ্ছায়। নেক কাজ করা এবং পাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকা আল্লাহ্র সাহায্য ব্যাতিত সম্ভব নয়। হে আমার প্রতিপালক আমাকে সত্যপথে প্রবেশ করান, এবং সত্যপথেই প্রত্যাবর্তন করান। হে আল্লাহ্ আমার জন্য অনুগ্রহের দরজা উম্মুক্ত করুন। মসজিদুন্নবীতে প্রবেশের প্রবেশের দো’আ— বিসমিল্লাহি আসসালাতু আসসালামু আলা রাসূলিল্লাহি আল্লাহুম্মাগফিরলী যুনুবী ওয়াফতা-হলী আবওয়াবা রাহমাতিকা। অর্থ- আল্লাহ্র নামে এ মসজিদে প্রবেশ করেছি এবং অসংখ্য দরূদ ও সালাম আল্লাহ্র রসূল (স.) এর প্রতি। হে আল্লাহ্ আমার গুনাহসমূহ মাফ করুন, এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দ্বার উম্মুক্ত করুন। রসূল (স.) এর রওযা শরীফের সামনে দাঁড়িয়ে যে দো’আ পড়তে হয়— আসসালামু আলাইকা ইয়া আইয়ুহান্নাবীয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহু, আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া নাবী আল্লাহ্, আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া হাবিবাল্লাহ্, আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া সাইয়্যেদুল মুসসালীন, আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া খাতামান্নাবীয়্যীন, আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রাহমাতাল্লিল আলামিন, আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া শাফীয়াল মুযনাবিন। অর্থ- হে নবী আপনার উপর অবারিত ধারায় শান্তি বর্ষিত হউক এবং আল্লাহ্র রহমত ও বরকত বর্ষিত হউক। হে নবী আপনার প্রতি অসংখ্য দরূদ ও সালাম। হে আল্লাহ্র হাবিব আপনার প্রতি অসংখ্য দরূদ ও সালাম। হে রাসূলগনের সর্দার আপনার প্রতি অসংখ্য দরূদ ও সালাম । হে আল্লাহ্র সর্বোত্তম সৃষ্টি আপনার প্রতি অসংখ্য দরূদ ও সালাম। হে গুনাহগারদের সুপারিশকারী আপনার প্রতি অসংখ্য দরূদ ও সালাম। হে বিশ্ব জগতের করুনার নবী আপনার প্রতি অসংখ্য দরূদ ও সালাম। হযরত আবুবকর (রা.) এর রওয়াজায় দাঁড়িয়ে যে দো’আ পড়তে হয়—আসসালামু আলাইকা ইয়া খালিফাতা রাসূলিল্লাহি ওয়াসানিয়াহু ফিল গারি ওয়ারাফিকাহু ফিল আসফারী ওয়া আমিনাহু আলাল আসরাবি, আবা বাকরিনিস সিদ্দীক রাযি আল্লাহু তায়ালা আনহু। অর্থ- হে আল্লাহ্ রসূল (স.) এর খলীফা ও তাঁর সফর সঙ্গী সফর সমূহের সাহায্যকারী এবং গোপনীয় বিষয়সমূহের বিশ্বস্থ রক্ষক আবুবক্কর সিদ্দীক, আপনার প্রতি দরূদ ও শান্তি বর্ষিত হউক। আল্লাহ্ আপনার ব্যাপারে সস্তুষ্ট হউন এবং আপনাকে সন্তুষ্ট করুন। এ ছাড়া চার খলীফাসহ উম্মুল মোমেনিনগণের রওয়াজার দোয়াও রয়েছে। সময় মত আপনারা তাও জেনে নিন। এ ছাড়া গায়রে হেরায় গিয়ে যে দোয়া পড়তে হয়—হে আল্লাহ্ । তোমার প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি যে হেরা পর্বতের নির্জন গুহায় তোমার হাবিব দীর্ঘ ১৫ বছর (ধ্যানমগ্ন) মোরাকাবারত অবস্থায় প্রথম ঐর্শ্বী বাণী এসেছে এবং নাজিল হয়েছে বিশ্বয়কর ও সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মীয়গ্রন্থ আল-কুরআন। যা বিশ্বমানবের মুক্তিরবিধান। তুমি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ কর, আমরা যেনো এ কুরআনের শিক্ষা ও নবী মুহাম্মদ (স.) এর জীবনাদর্শ ধারন করে পরিপূর্ণ মুসলমান হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি-আমাদের প্রতি সে অনুগ্রহ কর। মদীনা থেকে বের হওয়ার সময় যে দো’আ পড়তে হয়— আল ওযাদাই ইয়া রাসূলিল্লাহি, আল ফিরাক ইয়া রাসূলিল্লাহি। আল আমানু ইয়া হাবিবুল্লাহি, লাজা আলাহুল্লাহু তায়ালা আখিরা আহাদিন লা মিনহা ওয়ালা মিন খাইরিন ওয়াল আফিয়াতিন ওয়া মিনহাতিন ওয়া সালামাতিন। অর্থ- বিদায় নিচ্ছি হে আল্লাহ্র রসূল। ছেড়ে যাচ্ছি তোমাকে হে আল্লাহ্র নবী। নিরাপত্তা চাচ্ছি তোমার মারফতে হে আল্লাহ্র হাবিব। আল্লাহ্ যেনো তোমার সামনে এই উপস্থিতিকে আমার বা তোমার পক্ষ হতে শেষ ঘটনায় পরিনত না করেন। যদি সহিসালামতে থাকি তবে আল্লাহ্ চাহেন আবার হাজির হবো। এ ছাড়া মদীনা শরীফের বরকতময় স্থান সমূহ রাসূলপাক (স.) এর রওজা শরীফের সাথে হযরত আবু বক্কর সিদ্দীক (রা.) এ মাজার শরীফ ও হযরত ওমর ফারুখ (রা.) এর মাজার শরীফ অবস্থিত। অন্যগুলির মধ্যে রয়েছে— ক) জান্নাতুল বাকী খ) জান্নাতুল মাওয়া গ) ওহুদের কবর স্থান ঘ) মসজিদে কুবা ঙ) মসজিদে জুম্মা চ) মসজিদে গাসামাহ্ ছ) মসজিদে আলী, আবু বক্কর, ওমর, ওসমান (রা.) জ) মসজিদে কিবলাতাইন ঝ) মসজিদে আহযাব ঞ) মসজিদে বান যপের ট) মসজিদে যোবাইরসহ বরকতময় স্থানসমূহে গমন ও দোয়া পাঠ এবং জিয়ারত করা অতীব সওয়াবের কাজ। সর্বশেষ বিদায় পর্ব :দেশে ফেরার দিন ও সময় নির্ধারন হওয়ার পর বিদায়ী রওয়ানার পূর্বে পাক পবিত্র অবস্থায় হেরেম শরীফে গিয়ে বিদায়ী তাওয়াফ করতে হবে। এই তাওয়াফ ওয়াজীব। তাওয়াফ শেষে মাকামে ইব্রাহীমে ও হাতীতে দুই রাকাত করে নফল নামাজ আদায় করে আবেগাপ্লুত ও বেদনা বিধুর হূদয় নিয়ে কেঁদে কেঁদে বিদায় নিতে হয়। এবং বলতে হয় বিদায় হে পূর্ণভূমি, বিদায় হে আল্লাহ্র রসূল (স.), আল্লাহ্ চাহেতো পূনরায় ফিরে আসবো তোমাদের কোলে।