তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন- ২০০৬ এর ৫৭ ধারার সংশোধনকে অগণতান্ত্রিক দাবি করেছেন মানবাধিকারকর্মী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সভাপতি হামিদা হোসেন। তিনি বলেন, আইন করা হয় নাগরিকদের কল্যাণের জন্য। কিন্তু প্রত্যেক সরকার মনে করে, কীভাবে নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণ করবো!। এই আইনটির সংশোধনও তারই ধারাবাহিকতা।
শনিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬ ও তার সংশোধন: বাগস্বাধীনতার প্রতিবন্ধক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি কথা বলেন। এসময় তিনি সব আইনজীবীকে এই সংশোধনের প্রতিবাদ জানাতে আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে আইন ও শালিস কেন্দ্র, আর্টিক্যাল ১৯, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলা), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার (বিলিয়া), ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইডি) এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশন্যাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘অপরাধের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দিতে হবে। আইন যদি অস্পষ্ট হয়, তাহলে আইনটাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘এই আইনটিতে সর্বনিম্ন সাজা সাত বছর আর সর্বোচ্চ ১৪ বছর। তাহলে আমাদের কথা বলার সময় যদি ভাবতে হয়, সাত নাকি ১৪ বছর, তাহলে কী হবে জানি না! এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে এমন একটি দেশ হবে, যেখানে ‘জী হুজুর’ ছাড়া কেউ কথা বলবে না।
জেড আই খান পান্না বলেন, ‘এই ধারা (৫৭) সংশোধনের মাধ্যমে আইন মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রের ভাবমূতি ক্ষুণ্ন করেছে। আমি নিশ্চিত যে, আজ যারা আইন প্রণয়ন করেছেন, তারা আগামীকাল রাস্তায় নামবেন আইনটি বাতিল করার জন্য।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমান সরকার যে সংশোধনী পাস করলো, এর ফলে বিরোধী দলের কাছ থেকেও কোনো মন্তব্য শুনিনি। কারণ, হাতিয়ারটা তারাই পেতে যাচ্ছে।’
সভাপতির বক্তব্যে ডা. শাহদীন মালিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বিলোপের দাবি জানান।
