স্বপ্ন নিয়ে আফ্রিকা যাচ্ছে মেয়েরা

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৫০
বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দল বলতেই পুরুষদের দল বলে যে ধারণাটা ছিল, সেটা আস্তে আস্তে বদলে দেয়ার চেষ্টায় আছে মেয়েরা। ইতিমধ্যে উপমহাদেশে কয়েকটি সফর এবং উপমহাদেশের বাইরেও একটি সফর করা বাংলাদেশ মহিলা জাতীয় ক্রিকেট দল এবার দক্ষিণ আফ্রিকা অভিযানে রওনা দিচ্ছে আগামীকাল। অভিজ্ঞতায় কেবল হাঁটি হাঁটি পা পা করতে থাকা বাংলাদেশের জন্য এই সফরটা কঠিন এক পরীক্ষা হলেও দলের অধিনায়ক, কোচ ও খেলোয়াড়রা কাল আনুষ্ঠানিক ফটোসেশনের পর আশাবাদী বিভিন্ন কথাই শোনালেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য একেবারে নতুন এক অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকানদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাদের। দেশের মাটিতে ঠিক এক বছর আগে, গত সেপ্টেম্বরে আফ্রিকানদের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে ও তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছিল সালমা খাতুনরা। দুই সিরিজেই প্রথম ম্যাচ জিতে ও পরের দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশ। ঘরের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সেই অভিজ্ঞতা থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে অন্তত আত্মবিশ্বাসটা পাচ্ছেন অধিনায়ক সালমা খাতুন। তবে আফসোস তার একটাই, অনুশীলনের জন্য যথেষ্ট সময় পাননি, ‘আমরা ১২ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে যাচ্ছি। আরেকটু বেশি সময় পেলে ভালো হত। এটা একটা চ্যালেঞ্জিং সফর হতে যাচ্ছে। ওদের সঙ্গে আমাদের শক্তির তারতম্য খুব একটা বেশি নয়। ওদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা থেকেই আমি বলতে পারি, ওদের বিপক্ষে ভালো খেলা সম্ভব।’ এই অনুশীলনের সময় কম পাওয়া নিয়ে আফসোস আছে সালমাদের কোচ ওশিদা বিরাসিংহেরও। তবে দেশের এই আফসোস নিয়ে তিনি ভাবছেন না। এখন তার ভাবনা জুড়ে আছে দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে গিয়ে মানিয়ে নেয়া, ‘আমরা ভালো একটি সিরিজ প্রত্যাশা করছি। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়া হবে আমাদের প্রথম কাজ। নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারলে ভালো করার সামর্থ্য আমাদের রয়েছে।’ দক্ষিণ আফ্রিকা সফর মানে পুরুষদের দলের কাছেও একটা বড় ভীতি—পেস সহায়ক কন্ডিশন। সে ভীতি সালমাদের মধ্যে অন্তত খুব একটা কাজ করছে বলে মনে হল না। বরং এই কন্ডিশনকে কাজে লাগাতে তার দলে যে চার জন পেসার আছে, তাদের ওপর তিনি ভরসা করতে চান। সেই সঙ্গে স্পিনারদের কাছ থেকেও কিছু আশা করছেন তিনি, ‘দলে চারজন পেসার আছে, তারা বেশ ভালোও করছে। স্পিনাররা তাদের একটু সহায়তা করতে পারলে আমাদেরও যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকবে।’ এই সফরে বাংলাদেশ ম্যাচ বা সিরিজ জিতে ফিরবে, এমন চাপ তাদের ওপর নিশ্চয়ই নেই। তবে উপমহাদেশের বাইরে দ্বিতীয় এই সফরে ভালো ক্রিকেট খেলে ফিরবে তারা, এটুকু আশা নিশ্চয়ই করবে দেশ। সেই আশার কথা দলের সবাই শোনালেন। এমনকি ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করে জাতীয় দলে ফেরা সাথিরা জেসিও আশার কথাই শোনালেন। দলের হয়ে যেমন স্বপ্ন আছে, তেমনই জেসির এখন বড় স্বপ্ন নিজের ঘরোয়া ফর্মটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও অনুবাদ করা, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে সাফল্য পেলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খুব একটা ভালো করতে পারিনি। খেলার সুযোগ পাবো কিনা জানি না তবে সুযোগ পেলে ভালো করার চ্যালেঞ্জটা নিতে চাই।’